ঢাকা , মঙ্গলবার, ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৩ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম ::
সালথায় আধিপত্য বিস্তার নিয়ে বিএনপির দুই পক্ষের সংঘর্ষ, আহত ২০ আগে বলত ‘রাজাকার-যুদ্ধাপরাধী’, এখন বলছে ‘গুপ্ত’: জাহিদুল ইসলাম মন্ত্রীর কাছ থেকে শুনি, তার লম্বা এ কারণে বিদ্যুৎ চলে যায়: ডেপুটি স্পিকার অনিয়ম-দুর্নীতি এবং স্বেচ্ছাচারিতা দেশটাকে খেয়ে ফেলছে: এটিএম আজহার সম্পত্তি হস্তান্তর বিল নিয়ে ছাত্রশিবিরের তীব্র প্রতিবাদ নিরাপত্তায় যুক্তরাষ্ট্র যথেষ্ট নয়, উপসাগরীয় দেশগুলোকে স্বনির্ভর হতে বলল কাতার বিরোধীদলীয় নেতার জন্য হায়াতে তাইয়্যেবার দোয়া করলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বিরোধী দলীয় নেতাকে দেড়শ টাকার খাবারের দাওয়াত দিলেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ফিরলে ফাঁসির কাষ্ঠে নিতে জুলাই শহীদদের পরিবারই যথেষ্ট: সারজিস কানে শোনে না, কথাও বলতে পারে না তবুও রঙের ভাষায় স্বপ্ন আঁকে সাবা

টেনে-হিচড়ে বিধানসভা থেকে বের করা হলো বিজেপি নেতাকে

  • ডেস্ক রিপোর্ট
  • আপডেট সময় ০৫:১৯:৩৬ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৪ সেপ্টেম্বর ২০২৫
  • ৫৬৪ বার পড়া হয়েছে

এবার পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভায় ফের চরম নাটকীয়তা। বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারীর পর এবার সাসপেন্ড করা হলো বিজেপি বিধায়ক শঙ্কর ঘোষকে। বিশেষ অধিবেশনে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বক্তব্য চলাকালে বিজেপি বিধায়করা একের পর এক স্লোগান দিতে থাকেন।

তারা অভিযোগ তুলেন সরকার ভোট চুরি করেছে, গণতন্ত্র ধ্বংস করছে। পাল্টা শাসক শিবির থেকে স্লোগান ওঠে, ‘গদি চোর বিজেপি’। স্পিকার বিমান বন্দ্যোপাধ্যায় বিরোধীদের একাধিকবার সতর্ক করে বলেন, বিধানসভার মর্যাদা ভঙ্গ করা উচিত নয়, তারা চাইলে বাইরে গিয়ে স্লোগান দিতে পারেন। কিন্তু বিজেপি বিধায়ক শঙ্কর ঘোষ আসন ছাড়তে অস্বীকার করে শুভেন্দু অধিকারীর সাসপেনশন প্রসঙ্গে সরব হন।

প্রতিবাদস্বরূপ তিনি নিজের আসনে শুয়ে পড়েন। পরে কয়েকজন মার্শাল তাকে টেনে-হিঁচড়ে সভা থেকে বের করে দেন। এই সময় বিধানসভা কক্ষে হাতাহাতি হয় এবং পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। বিজেপি বিধায়করা শঙ্কর ঘোষকে ঘিরে প্রতিরোধ গড়ে তোলেন এবং স্লোগান দেন। পরে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এনে শঙ্কর ঘোষকে বাইরে নিয়ে যাওয়া হয়।

শুধু তাই নয়, বিজেপি বিধায়ক অগ্নিমিত্রা পালকেও অধিবেশন থেকে সাসপেন্ড করা হয়। এর আগেই বিজেপি প্রশ্নোত্তর পর্ব বয়কট করেছিল এবং বিশেষ অধিবেশনে বাঙালিদের হেনস্থার প্রসঙ্গ তুলেছিল। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় অধিবেশনে কড়া ভাষায় বিজেপিকে আক্রমণ করেন। তিনি বলেন, “বিজেপি বাংলা বিরোধী, বাংলার ওপর অত্যাচার চালাচ্ছে, ভাষাকে আঘাত করছে। বিজেপি দেশের লজ্জা, বাংলায় অত্যাচার করলে তার মাশুল দিতে হবে।”

মুখ্যমন্ত্রী আরও অভিযোগ করেন বিজেপি বিধায়করা ইচ্ছাকৃতভাবে সংসদীয় নিয়ম ভাঙছে, কাগজ ছুড়ে মারছে যা সম্পূর্ণ অশোভনীয়। তিনি নিজের দলের সদস্যদের উদ্দেশে বলেন, বিরোধীরা যখন শোরগোল করবে, তখন তার পাল্টা প্রতিবাদ করতে হবে। রাজনৈতিক মহলে ধারণা তৈরি হয়েছে শাসক দল ও বিরোধী দলের সংঘাত আরও গভীর হচ্ছে এবং বিধানসভার কার্যক্রম বারবার অচল হয়ে পড়ছে। বিজেপি শিবির শঙ্কর ঘোষকে টেনে-হিঁচড়ে বের করার ঘটনাকে নজিরবিহীন অপমান হিসেবে দেখছে এবং তারা এই পদক্ষেপের কড়া প্রতিবাদ জানিয়েছে।

ট্যাগস

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

জনপ্রিয় সংবাদ

সালথায় আধিপত্য বিস্তার নিয়ে বিএনপির দুই পক্ষের সংঘর্ষ, আহত ২০

টেনে-হিচড়ে বিধানসভা থেকে বের করা হলো বিজেপি নেতাকে

আপডেট সময় ০৫:১৯:৩৬ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৪ সেপ্টেম্বর ২০২৫

এবার পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভায় ফের চরম নাটকীয়তা। বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারীর পর এবার সাসপেন্ড করা হলো বিজেপি বিধায়ক শঙ্কর ঘোষকে। বিশেষ অধিবেশনে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বক্তব্য চলাকালে বিজেপি বিধায়করা একের পর এক স্লোগান দিতে থাকেন।

তারা অভিযোগ তুলেন সরকার ভোট চুরি করেছে, গণতন্ত্র ধ্বংস করছে। পাল্টা শাসক শিবির থেকে স্লোগান ওঠে, ‘গদি চোর বিজেপি’। স্পিকার বিমান বন্দ্যোপাধ্যায় বিরোধীদের একাধিকবার সতর্ক করে বলেন, বিধানসভার মর্যাদা ভঙ্গ করা উচিত নয়, তারা চাইলে বাইরে গিয়ে স্লোগান দিতে পারেন। কিন্তু বিজেপি বিধায়ক শঙ্কর ঘোষ আসন ছাড়তে অস্বীকার করে শুভেন্দু অধিকারীর সাসপেনশন প্রসঙ্গে সরব হন।

প্রতিবাদস্বরূপ তিনি নিজের আসনে শুয়ে পড়েন। পরে কয়েকজন মার্শাল তাকে টেনে-হিঁচড়ে সভা থেকে বের করে দেন। এই সময় বিধানসভা কক্ষে হাতাহাতি হয় এবং পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। বিজেপি বিধায়করা শঙ্কর ঘোষকে ঘিরে প্রতিরোধ গড়ে তোলেন এবং স্লোগান দেন। পরে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এনে শঙ্কর ঘোষকে বাইরে নিয়ে যাওয়া হয়।

শুধু তাই নয়, বিজেপি বিধায়ক অগ্নিমিত্রা পালকেও অধিবেশন থেকে সাসপেন্ড করা হয়। এর আগেই বিজেপি প্রশ্নোত্তর পর্ব বয়কট করেছিল এবং বিশেষ অধিবেশনে বাঙালিদের হেনস্থার প্রসঙ্গ তুলেছিল। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় অধিবেশনে কড়া ভাষায় বিজেপিকে আক্রমণ করেন। তিনি বলেন, “বিজেপি বাংলা বিরোধী, বাংলার ওপর অত্যাচার চালাচ্ছে, ভাষাকে আঘাত করছে। বিজেপি দেশের লজ্জা, বাংলায় অত্যাচার করলে তার মাশুল দিতে হবে।”

মুখ্যমন্ত্রী আরও অভিযোগ করেন বিজেপি বিধায়করা ইচ্ছাকৃতভাবে সংসদীয় নিয়ম ভাঙছে, কাগজ ছুড়ে মারছে যা সম্পূর্ণ অশোভনীয়। তিনি নিজের দলের সদস্যদের উদ্দেশে বলেন, বিরোধীরা যখন শোরগোল করবে, তখন তার পাল্টা প্রতিবাদ করতে হবে। রাজনৈতিক মহলে ধারণা তৈরি হয়েছে শাসক দল ও বিরোধী দলের সংঘাত আরও গভীর হচ্ছে এবং বিধানসভার কার্যক্রম বারবার অচল হয়ে পড়ছে। বিজেপি শিবির শঙ্কর ঘোষকে টেনে-হিঁচড়ে বের করার ঘটনাকে নজিরবিহীন অপমান হিসেবে দেখছে এবং তারা এই পদক্ষেপের কড়া প্রতিবাদ জানিয়েছে।