র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন—র্যাব বিলুপ্ত করে বাংলাদেশ পুলিশের আওতায় স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন (এসআরবি) নামে নতুন বিশেষায়িত ইউনিট গঠনের লক্ষ্যে সংসদে বিল উত্থাপন করা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার জাতীয় সংসদে ‘স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন (এসআরবি) আইন-২০২৬’ বিলটি উত্থাপন করেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। বিলটি পাস হলে র্যাব গঠনসংক্রান্ত বিদ্যমান আইন চূড়ান্তভাবে রহিত হবে।
তবে বিল উত্থাপনের সময় তীব্র আপত্তি জানান বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম ও বিরোধীদলীয় নেতা শফিকুর রহমান। র্যাবের আদলে নতুন কোনো এলিট ফোর্স গঠনের আগে সংসদে বিস্তারিত আলোচনা ও সবার মতামত নেওয়ার দাবি জানান তারা।
বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম বলেন, গুম, বিচারবহির্ভূত হত্যা ও আয়নাঘরসহ নানা অভিযোগে র্যাব জাতীয় ও আন্তর্জাতিকভাবে বিতর্কিত হয়েছে। তার দাবি, র্যাব ফ্যাসিবাদের একটি চিহ্ন। তাই নতুন কোনো সংস্থা না করে র্যাবকে পুরোপুরি বিলুপ্ত করা উচিত।
জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টা থাকাকালে নাহিদ ইসলাম ১৮ মাসে একবারও এ ধরনের প্রস্তাব তোলেননি। তিনি বলেন, কোনো সাবেক পুলিশ কর্মকর্তা বিতর্কিত হলেই যেমন পুরো পুলিশ বাহিনী বিলুপ্ত করা যায় না, তেমনি আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় পুলিশের একটি আধুনিক বিশেষায়িত ইউনিট প্রয়োজন।
পরে বিরোধীদলীয় নেতা শফিকুর রহমান বলেন, তারা র্যাব বিলুপ্তির পক্ষে। তবে নতুন কোনো সংস্থা গঠনের আগে আরও চিন্তাভাবনা ও সমন্বিত সিদ্ধান্ত প্রয়োজন। বিষয়টি পুনর্বিবেচনার জন্য স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর প্রতি আহ্বান জানান তিনি।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, প্রস্তাবিত এসআরবিতে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করার বিধান রাখা হয়েছে। দায়িত্বে শৃঙ্খলা ভঙ্গ করলে সদস্যদের বিচারের জন্য বিশেষ কাঠামোও থাকছে।
বিলে বলা হয়েছে, জননিরাপত্তা রক্ষা, সন্ত্রাসবাদ ও সংঘবদ্ধ অপরাধ দমন এবং পুলিশকে সহায়তার জন্য এসআরবি গঠন করা হবে। ঢাকায় সদর দপ্তরভিত্তিক এ ইউনিটটি পুলিশের আওতায় পরিচালিত হবে। পুলিশ ও অন্যান্য শৃঙ্খলা বাহিনী থেকে প্রেষণ বা পদায়নের মাধ্যমে সদস্য নিয়োগ দেওয়া হবে।
এসআরবির মহাপরিচালক হিসেবে অতিরিক্ত আইজিপি বা তার ঊর্ধ্বতন পদমর্যাদার কর্মকর্তাকে নিয়োগ দেওয়ার প্রস্তাব করা হয়েছে। সন্ত্রাস, সংঘবদ্ধ অপরাধ, অবৈধ অস্ত্র ও বিস্ফোরক, মাদক, সাইবার অপরাধ, গুম, মানব পাচার, অপহরণসহ বিভিন্ন অপরাধ দমনে ইউনিটটি কাজ করবে।
এ ছাড়া আদালত, সরকার বা আইজিপির নির্দেশে ফৌজদারি অপরাধ তদন্তের ক্ষমতাও থাকবে এসআরবির। তবে গ্রেপ্তার ব্যক্তি বা জব্দ করা আলামত নিজেদের হেফাজতে রাখতে পারবে না ইউনিটটি। সেগুলো দ্রুত নিকটস্থ থানায় হস্তান্তর করতে হবে।
বিলে এসআরবি সদস্যদের কর্তব্যে অবহেলা, আদেশ অমান্য, অবৈধ অর্থ আদায়, জমি দখল কিংবা অপরাধীদের পালাতে সহায়তার মতো কর্মকাণ্ডকে গুরুতর শৃঙ্খলাভঙ্গ হিসেবে বিবেচনার কথা বলা হয়েছে। এসব অপরাধে বরখাস্ত, বাধ্যতামূলক অবসর, পদাবনতি ও বেতন-ভাতা বাজেয়াপ্তের মতো শাস্তির বিধান রাখা হয়েছে।
এ ছাড়া অভিযোগ প্রতিকারের জন্য স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, পুলিশ সদর দপ্তর, বিচার বিভাগ ও মানবাধিকার বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে একটি কমিটি গঠনের প্রস্তাব করা হয়েছে। কোনো সদস্যকে আত্মপক্ষ সমর্থনের সুযোগ না দিয়ে শাস্তি দেওয়া যাবে না এবং শাস্তির বিরুদ্ধে ৩০ দিনের মধ্যে আপিলের সুযোগ থাকবে।
সার্বিক বিতর্ক শেষে বিলটি সর্বসম্মতিতে পরীক্ষা-নিরীক্ষার জন্য স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটিতে পাঠানো হয়েছে। কমিটিকে আগামী চার কার্যদিবসের মধ্যে প্রতিবেদন দিতে বলা হয়েছে।
একই দিনে সংসদে আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়ন (এপিবিএন) বিল-২০২৬ এবং ব্যাংক রেজল্যুশন আইন-২০২৬-ও উত্থাপন করা হয়। পরীক্ষা-নিরীক্ষার জন্য বিল দুটি সংশ্লিষ্ট সংসদীয় স্থায়ী কমিটিতে পাঠানো হয়েছে

ডেস্ক রিপোর্ট 





















