প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ও সরকারসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কটূক্তির অভিযোগে গাজীপুরে সিফাত আবদুল্লাহ নামে ২০ বছর বয়সী এক তরুণকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
বৃহস্পতিবার (৩ সেপ্টেম্বর) রাত সাড়ে ৮টার দিকে গাজীপুর মহানগরের গাছা এলাকা থেকে তাকে আটক করা হয়। শুক্রবার সকালে গাছা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) গোলাম রব্বানী বিষয়টি নিশ্চিত করেন।
পুলিশ জানায়, সিফাতের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে। তাকে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানোর প্রক্রিয়া চলছে। তবে মামলার বিস্তারিত তথ্য পরে জানানো হবে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
সিফাত রাজধানীর আদমজী ক্যান্টনমেন্ট কলেজের শিক্ষার্থী এবং গাজীপুর মহানগরের ৩৮ নম্বর ওয়ার্ডের টিনের মসজিদ এলাকার বাসিন্দা।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রের ভাষ্য, বেশ কিছুদিন ধরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রধানমন্ত্রীকে নিয়ে বিভিন্ন মন্তব্য ও লেখা প্রকাশ করছিলেন সিফাত। সম্প্রতি তার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে বিষয়টি স্থানীয় বিএনপির নেতা-কর্মীদের নজরে আসে। পরে পুলিশকে জানানো হলে অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।
এদিকে সিফাতের গ্রেপ্তারের খবর ছড়িয়ে পড়ার পর বৃহস্পতিবার রাতে তার মুক্তির দাবিতে গাছা থানার সামনে অবস্থান নেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) নেতা-কর্মীরা। রাত ২টার পর তারা সেখান থেকে চলে যান।
এনসিপির কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির মুখ্য সংগঠক আলী নাছের খান সিফাতকে দলটির সমর্থক ও ইনকিলাব মঞ্চের অনুসারী দাবি করে বলেন, বিভিন্ন সময় এনসিপি, বিএনপিসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের কর্মকাণ্ডের সমালোচনা করেছেন তিনি। তাকে অহেতুক গ্রেপ্তার করা হয়েছে বলেও দাবি করেন আলী নাছের খান।
সিফাতের মুক্তির দাবিতে ফেসবুকে একাধিক পোস্ট ও ভিডিও প্রকাশ করেন তিনি। এক পোস্টে প্রশাসনের প্রতি দ্রুত সিফাতকে মুক্তি দেওয়ার আহ্বান জানান।
এনসিপির নেতা-কর্মীদের দাবি, জুলাই আন্দোলনেও অংশ নিয়েছিলেন সিফাত। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সরকারের বিভিন্ন সিদ্ধান্ত ও অনিয়মের পাশাপাশি তেল, গ্যাস ও বিদ্যুতের দাম নিয়েও সমালোচনা করতেন তিনি। বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের কর্মকাণ্ড নিয়েও তার সমালোচনামূলক বক্তব্য ছিল বলে দাবি তাদের।
সিফাতের ফেসবুক অ্যাকাউন্টে থাকা একটি ভিডিওতে বিদ্যুৎ বিল নিয়েও ক্ষোভ প্রকাশ করতে দেখা যায় তাকে। সেখানে তিনি দাবি করেন, চলতি মাসে তার বাসায় চার হাজার এবং আগের মাসে পাঁচ হাজার টাকা অতিরিক্ত বিদ্যুৎ বিল এসেছে।
তবে এসব অভিযোগ ও বক্তব্যের বিষয়ে সিফাতের পক্ষ থেকে কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি। পুলিশ জানিয়েছে, মামলার পরবর্তী আইনি প্রক্রিয়া অনুযায়ী তাকে আদালতে পাঠানো হচ্ছে।

ডেস্ক রিপোর্ট 






















