ঢাকা , শুক্রবার, ০৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২০ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম ::
ভিসাপ্রত্যাশী বাংলাদেশিদের সতর্কবার্তা দিলো ভারতীয় হাইকমিশন বাংলাদেশের সঙ্গে লাগোয়া চিকেনস নেকের নিরাপত্তায় ভারতের নতুন উদ্যোগ একাত্তরে মুসলিম লীগ করায় শান্তি কমিটিতে ছিলেন আসিফ আকবরের বাবা আগামী তিন মাসে বিপুল ডাক্তার-নার্স নিয়োগ দেবে সরকার: স্বাস্থ্যমন্ত্রী র‌্যাব বিলুপ্ত করে এসআরবি গঠনের বিল সংসদে ধর্মের নামে কোনো বিভাজন চায় না সরকার: প্রতিমন্ত্রী ট্রাম্প-হেগসেথ যুদ্ধাপরাধী: মার্কিন কংগ্রেস সদস্য অন্তর্বর্তী সরকার ছক করে গেছে, যাতে মানুষ বলে ‘হাসিনা–ইউনূসের সময়ই ভালো ছিলাম’: রাশেদ প্রধানমন্ত্রীকে কটূক্তির অভিযোগে তরুণ গ্রেপ্তার, মুক্তির দাবিতে থানায় এনসিপির নেতা–কর্মীদের অবস্থান দেশের সকল ধর্মের মানুষ নির্বিঘ্নে নিজ নিজ ধর্ম পালন করছে : আইনমন্ত্রী

একাত্তরে মুসলিম লীগ করায় শান্তি কমিটিতে ছিলেন আসিফ আকবরের বাবা

  • ডেস্ক রিপোর্ট
  • আপডেট সময় ০২:৪৫:১৩ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬
  • ৫ বার পড়া হয়েছে

১৯৭১ সালে শান্তি কমিটির সঙ্গে সম্পৃক্ততা নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে বিতর্কে থাকা নিজের বাবা অ্যাডভোকেট আলী আকবরের রাজনৈতিক অবস্থান ও মুক্তিযুদ্ধকালীন ভূমিকা নিয়ে বক্তব্য দিয়েছেন সংগীতশিল্পী আসিফ আকবর।

আসিফের ভাষ্য, তার বাবা ছিলেন কুমিল্লা জেলা মুসলিম লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং জীবনের শেষ সময় পর্যন্ত দলটির রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। এমনকি ১৯৮০ সালেও মুসলিম লীগের হয়ে নির্বাচনে অংশ নিয়েছিলেন তিনি।

মুসলিম লীগের নেতা হওয়ায় ১৯৭১ সালে আলী আকবর শান্তি কমিটির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন বলে জানান আসিফ। তবে তার দাবি, শান্তি কমিটিতে থাকার সুযোগ কাজে লাগিয়ে তার বাবা অনেক মানুষের জীবন, সম্পদ ও বাড়িঘর রক্ষা করেছিলেন।

আসিফ বলেন, তার বাবা একজন বীর মুক্তিযোদ্ধাকেও ফাঁসির হাত থেকে বাঁচিয়েছিলেন। এসব ঘটনা তার লেখা ‘আকবর ফিফটি নট আউট’ বইয়ে বিস্তারিতভাবে উল্লেখ রয়েছে বলেও জানান তিনি।

পাকিস্তানি সেনাবাহিনীর সঙ্গে বাবার সম্পর্কের বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে আসিফ বলেন, বিষয়টি সরাসরি স্বাধীনতার পক্ষ বা বিপক্ষ হিসেবে ব্যাখ্যা করা ঠিক হবে না। মুসলিম লীগের একজন নেতা হিসেবে তার বাবার ওপর যে দায়িত্ব ছিল, তিনি মূলত সেটিই পালন করেছেন বলে দাবি করেন আসিফ।

এ সময় ছয় দফা আন্দোলন নিয়েও বাবার অবস্থানের কথা তুলে ধরেন তিনি। আসিফের দাবি, ১৯৬৬ সালে ছয় দফা ঘোষণার পর মুসলিম লীগের প্রতিনিধি হিসেবে তার বাবা একটি চিঠি লিখে ছয় দফা মেনে নেওয়া এবং পূর্ব পাকিস্তানকে স্বায়ত্তশাসন দেওয়ার অনুরোধ জানিয়েছিলেন। তবে সেই চিঠি বর্তমানে পরিবারের কাছে নেই বলে জানান তিনি।

স্বাধীনতার পর বাবার কাস্টডিতে যাওয়ার ঘটনাও ব্যাখ্যা করেন আসিফ। তার ভাষ্য, ৮ ডিসেম্বর কুমিল্লা স্বাধীন হওয়ার পর আওয়ামী লীগ নেতা অ্যাডভোকেট আহমদ আলী নিরাপত্তার কারণে আলী আকবরকে কাস্টডিতে যাওয়ার পরামর্শ দেন। পরে ১৭ ডিসেম্বর তিনি নিজেই কাস্টডিতে চলে যান।

আসিফ জানান, পরবর্তীতে তার বাবার বিরুদ্ধে কয়েকটি যুদ্ধাপরাধের অভিযোগ আনা হয়। এর মধ্যে ধীরেন্দ্রনাথ দত্তকে হত্যার অভিযোগটি সম্পূর্ণ মিথ্যা ছিল বলে দাবি করেন তিনি।

আসিফের দাবি, ১৯৭৪ সালে আইনি লড়াইয়ের মাধ্যমে তার বাবা এসব অভিযোগ থেকে নিজেকে নির্দোষ প্রমাণ করে কারাগার থেকে মুক্তি পান। সাধারণ ক্ষমার মাধ্যমে নয়, আদালতে আইনি লড়াই করেই তিনি মুক্তি পেয়েছিলেন বলেও দাবি করেন আসিফ। পাশাপাশি দালাল আইনের অধীনেও তার বাবাকে গ্রেপ্তার বা সাজা দেওয়া হয়নি বলে জানান তিনি।

তবে আসিফ আকবরের বক্তব্যে উল্লিখিত ঐতিহাসিক দাবি ও ঘটনাগুলো তার নিজস্ব ভাষ্য হিসেবে উপস্থাপন করা হলো; স্বাধীনভাবে যাচাই করা হয়নি।

ট্যাগস

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

জনপ্রিয় সংবাদ

ভিসাপ্রত্যাশী বাংলাদেশিদের সতর্কবার্তা দিলো ভারতীয় হাইকমিশন

একাত্তরে মুসলিম লীগ করায় শান্তি কমিটিতে ছিলেন আসিফ আকবরের বাবা

আপডেট সময় ০২:৪৫:১৩ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬

১৯৭১ সালে শান্তি কমিটির সঙ্গে সম্পৃক্ততা নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে বিতর্কে থাকা নিজের বাবা অ্যাডভোকেট আলী আকবরের রাজনৈতিক অবস্থান ও মুক্তিযুদ্ধকালীন ভূমিকা নিয়ে বক্তব্য দিয়েছেন সংগীতশিল্পী আসিফ আকবর।

আসিফের ভাষ্য, তার বাবা ছিলেন কুমিল্লা জেলা মুসলিম লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং জীবনের শেষ সময় পর্যন্ত দলটির রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। এমনকি ১৯৮০ সালেও মুসলিম লীগের হয়ে নির্বাচনে অংশ নিয়েছিলেন তিনি।

মুসলিম লীগের নেতা হওয়ায় ১৯৭১ সালে আলী আকবর শান্তি কমিটির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন বলে জানান আসিফ। তবে তার দাবি, শান্তি কমিটিতে থাকার সুযোগ কাজে লাগিয়ে তার বাবা অনেক মানুষের জীবন, সম্পদ ও বাড়িঘর রক্ষা করেছিলেন।

আসিফ বলেন, তার বাবা একজন বীর মুক্তিযোদ্ধাকেও ফাঁসির হাত থেকে বাঁচিয়েছিলেন। এসব ঘটনা তার লেখা ‘আকবর ফিফটি নট আউট’ বইয়ে বিস্তারিতভাবে উল্লেখ রয়েছে বলেও জানান তিনি।

পাকিস্তানি সেনাবাহিনীর সঙ্গে বাবার সম্পর্কের বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে আসিফ বলেন, বিষয়টি সরাসরি স্বাধীনতার পক্ষ বা বিপক্ষ হিসেবে ব্যাখ্যা করা ঠিক হবে না। মুসলিম লীগের একজন নেতা হিসেবে তার বাবার ওপর যে দায়িত্ব ছিল, তিনি মূলত সেটিই পালন করেছেন বলে দাবি করেন আসিফ।

এ সময় ছয় দফা আন্দোলন নিয়েও বাবার অবস্থানের কথা তুলে ধরেন তিনি। আসিফের দাবি, ১৯৬৬ সালে ছয় দফা ঘোষণার পর মুসলিম লীগের প্রতিনিধি হিসেবে তার বাবা একটি চিঠি লিখে ছয় দফা মেনে নেওয়া এবং পূর্ব পাকিস্তানকে স্বায়ত্তশাসন দেওয়ার অনুরোধ জানিয়েছিলেন। তবে সেই চিঠি বর্তমানে পরিবারের কাছে নেই বলে জানান তিনি।

স্বাধীনতার পর বাবার কাস্টডিতে যাওয়ার ঘটনাও ব্যাখ্যা করেন আসিফ। তার ভাষ্য, ৮ ডিসেম্বর কুমিল্লা স্বাধীন হওয়ার পর আওয়ামী লীগ নেতা অ্যাডভোকেট আহমদ আলী নিরাপত্তার কারণে আলী আকবরকে কাস্টডিতে যাওয়ার পরামর্শ দেন। পরে ১৭ ডিসেম্বর তিনি নিজেই কাস্টডিতে চলে যান।

আসিফ জানান, পরবর্তীতে তার বাবার বিরুদ্ধে কয়েকটি যুদ্ধাপরাধের অভিযোগ আনা হয়। এর মধ্যে ধীরেন্দ্রনাথ দত্তকে হত্যার অভিযোগটি সম্পূর্ণ মিথ্যা ছিল বলে দাবি করেন তিনি।

আসিফের দাবি, ১৯৭৪ সালে আইনি লড়াইয়ের মাধ্যমে তার বাবা এসব অভিযোগ থেকে নিজেকে নির্দোষ প্রমাণ করে কারাগার থেকে মুক্তি পান। সাধারণ ক্ষমার মাধ্যমে নয়, আদালতে আইনি লড়াই করেই তিনি মুক্তি পেয়েছিলেন বলেও দাবি করেন আসিফ। পাশাপাশি দালাল আইনের অধীনেও তার বাবাকে গ্রেপ্তার বা সাজা দেওয়া হয়নি বলে জানান তিনি।

তবে আসিফ আকবরের বক্তব্যে উল্লিখিত ঐতিহাসিক দাবি ও ঘটনাগুলো তার নিজস্ব ভাষ্য হিসেবে উপস্থাপন করা হলো; স্বাধীনভাবে যাচাই করা হয়নি।