ঢাকা , সোমবার, ১৯ জানুয়ারী ২০২৬, ৬ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম ::
ক্যাম্পাসে কুত্তা পেটাতে ছাত্রদলের হেডাম লাগে না: রাকসু জিএসকে ছাত্রদল সভাপতি আমিরাতে শাবানের চাঁদ দেখা গেছে, রমজানের অপেক্ষায় মুসলিম বিশ্ব গণভোট নিয়ে যারা প্রশ্ন তুলছে, তারা মূলত পলাতক শক্তি: আদিলুর রহমান বাংলাদেশকে ৩০ হাজার টন সার উপহার দিলো রাশিয়া কেন্দ্রের আশপাশেও স্বতন্ত্র ও জামায়াতকে ঢুকতে দেব না: বিএনপি নেতার হুঁশিয়ারি দেশের অর্থনীতি আর ভঙ্গুর অবস্থায় নেই, রিজার্ভ এখন ৩২ বিলিয়ন: অর্থ উপদেষ্টা কোনো দলের পক্ষ নেওয়া যাবে না, ভোট হবে নিরপেক্ষ: সেনাপ্রধান আসিফ মাহমুদের বিচার এই বাংলার মাটিতেই হবে: ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক সরকারি কর্মচারীদের সর্বনিম্ন বেতন হচ্ছে ৪২ হাজার টাকা! শাকসু নির্বাচন বন্ধ হলে সারা দেশব্যাপী কঠোর লাগাতার কর্মসূচির হুমকি ছাত্রশিবিরের

মাত্র ১৫ মাসেই কোরআনে হাফেজ ১১ বছরের সোলাইমান

  • ডেস্ক রিপোর্ট
  • আপডেট সময় ০৯:৪১:০২ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ৬ জানুয়ারী ২০২৬
  • ১১৭ বার পড়া হয়েছে

অভাবের সংসার, বাবার শারীরিক প্রতিবন্ধকতা—কোনো কিছুই দমাতে পারেনি ১১ বছরের শিশু সোলাইমান ইসলামকে। মাত্র ১৫ মাসে পবিত্র কোরআন হিফজ সম্পন্ন করে এলাকায় তাক লাগিয়ে দিয়েছে সে। ময়মনসিংহের নান্দাইল উপজেলার চন্ডীপাশা ইউনিয়নের নিজ বানাইল গ্রামের এই শিশু এখন স্থানীয়দের কাছে বিস্ময় আর অনুপ্রেরণার নাম।

এদিকে সোলাইমান উপজেলার ‘জামিয়াতু লুৎফুর রহমান আল ইসলামিয়া’ মাদ্রাসার ছাত্র। তার বাবা সাইফুল ইসলাম একজন শারীরিক প্রতিবন্ধী কৃষক। সংসারের টানাপোড়েন আর বাবার অসুস্থতার মাঝেও সোলাইমানের মেধা ও একাগ্রতা ছিল অটুট। সাধারণত পবিত্র কোরআন হিফজ করতে দীর্ঘ সময়ের প্রয়োজন হলেও সোলাইমান তার প্রবল ইচ্ছাশক্তি দিয়ে মাত্র ১৫ মাসেই এই অসাধ্য সাধন করেছে।

ছেলের এই অভাবনীয় সাফল্যে আবেগাপ্লুত বাবা সাইফুল ইসলাম। অশ্রুসিক্ত কণ্ঠে তিনি বলেন, “আমার শারীরিক সীমাবদ্ধতা আর অভাবের সংসারে সোলাইমানের এই সাফল্য আল্লাহর বিশেষ রহমত। আমি চাই সে বড় হয়ে একজন ভালো মানুষ হোক। ওর উজ্জ্বল ভবিষ্যতের জন্য আমি সবার কাছে দোয়া চাই।” সোলাইমানের এই কৃতিত্বে পুরো চন্ডীপাশা ইউনিয়নে বইছে আনন্দের জোয়ার। স্থানীয় সুধীসমাজ ও আলেমরা তাকে অভিনন্দন জানাতে ভিড় করছেন তার বাড়িতে।

মাদ্রাসার মোহতামিম মাওলানা তাজুল ইসলাম জানান, সোলাইমান শুরু থেকেই অত্যন্ত মনোযোগী ছিল। তিনি বলেন, সোলাইমানের মুখস্থ করার ক্ষমতা প্রখর। শিক্ষকদের পরিচর্যা আর ছাত্রের কঠোর পরিশ্রমের ফলেই এই দ্রুততম সময়ে হিফজ সম্পন্ন সম্ভব হয়েছে। এটি শুধু সোলাইমানের সাফল্য নয়, বরং পুরো মাদ্রাসার জন্য একটি গর্বের বিষয়।

এদিকে সোলাইমান প্রমাণ করেছে যে, মেধা আর একাগ্রতা থাকলে দারিদ্র্য বা শারীরিক সীমাবদ্ধতা কোনো বাধা নয়। স্থানীয়দের মতে, সোলাইমানের এই গল্প অন্যান্য শিক্ষার্থীদের জন্য পথপ্রদর্শক হয়ে থাকবে। জামিয়াতু লুৎফুর রহমান আল ইসলামিয়া মাদ্রাসাটি দীর্ঘ দিন ধরে আদর্শ মানুষ গড়ার যে কাজ করে যাচ্ছে, সোলাইমান তারই এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত।

ট্যাগস

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

জনপ্রিয় সংবাদ

ক্যাম্পাসে কুত্তা পেটাতে ছাত্রদলের হেডাম লাগে না: রাকসু জিএসকে ছাত্রদল সভাপতি

মাত্র ১৫ মাসেই কোরআনে হাফেজ ১১ বছরের সোলাইমান

আপডেট সময় ০৯:৪১:০২ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ৬ জানুয়ারী ২০২৬

অভাবের সংসার, বাবার শারীরিক প্রতিবন্ধকতা—কোনো কিছুই দমাতে পারেনি ১১ বছরের শিশু সোলাইমান ইসলামকে। মাত্র ১৫ মাসে পবিত্র কোরআন হিফজ সম্পন্ন করে এলাকায় তাক লাগিয়ে দিয়েছে সে। ময়মনসিংহের নান্দাইল উপজেলার চন্ডীপাশা ইউনিয়নের নিজ বানাইল গ্রামের এই শিশু এখন স্থানীয়দের কাছে বিস্ময় আর অনুপ্রেরণার নাম।

এদিকে সোলাইমান উপজেলার ‘জামিয়াতু লুৎফুর রহমান আল ইসলামিয়া’ মাদ্রাসার ছাত্র। তার বাবা সাইফুল ইসলাম একজন শারীরিক প্রতিবন্ধী কৃষক। সংসারের টানাপোড়েন আর বাবার অসুস্থতার মাঝেও সোলাইমানের মেধা ও একাগ্রতা ছিল অটুট। সাধারণত পবিত্র কোরআন হিফজ করতে দীর্ঘ সময়ের প্রয়োজন হলেও সোলাইমান তার প্রবল ইচ্ছাশক্তি দিয়ে মাত্র ১৫ মাসেই এই অসাধ্য সাধন করেছে।

ছেলের এই অভাবনীয় সাফল্যে আবেগাপ্লুত বাবা সাইফুল ইসলাম। অশ্রুসিক্ত কণ্ঠে তিনি বলেন, “আমার শারীরিক সীমাবদ্ধতা আর অভাবের সংসারে সোলাইমানের এই সাফল্য আল্লাহর বিশেষ রহমত। আমি চাই সে বড় হয়ে একজন ভালো মানুষ হোক। ওর উজ্জ্বল ভবিষ্যতের জন্য আমি সবার কাছে দোয়া চাই।” সোলাইমানের এই কৃতিত্বে পুরো চন্ডীপাশা ইউনিয়নে বইছে আনন্দের জোয়ার। স্থানীয় সুধীসমাজ ও আলেমরা তাকে অভিনন্দন জানাতে ভিড় করছেন তার বাড়িতে।

মাদ্রাসার মোহতামিম মাওলানা তাজুল ইসলাম জানান, সোলাইমান শুরু থেকেই অত্যন্ত মনোযোগী ছিল। তিনি বলেন, সোলাইমানের মুখস্থ করার ক্ষমতা প্রখর। শিক্ষকদের পরিচর্যা আর ছাত্রের কঠোর পরিশ্রমের ফলেই এই দ্রুততম সময়ে হিফজ সম্পন্ন সম্ভব হয়েছে। এটি শুধু সোলাইমানের সাফল্য নয়, বরং পুরো মাদ্রাসার জন্য একটি গর্বের বিষয়।

এদিকে সোলাইমান প্রমাণ করেছে যে, মেধা আর একাগ্রতা থাকলে দারিদ্র্য বা শারীরিক সীমাবদ্ধতা কোনো বাধা নয়। স্থানীয়দের মতে, সোলাইমানের এই গল্প অন্যান্য শিক্ষার্থীদের জন্য পথপ্রদর্শক হয়ে থাকবে। জামিয়াতু লুৎফুর রহমান আল ইসলামিয়া মাদ্রাসাটি দীর্ঘ দিন ধরে আদর্শ মানুষ গড়ার যে কাজ করে যাচ্ছে, সোলাইমান তারই এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত।