ঢাকা , সোমবার, ১৭ অগাস্ট ২০২৬, ২ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম ::
বাংলাদেশে আশ্রয় নেওয়া ৩ লাখ ৯ হাজার রোহিঙ্গাকে স্বীকৃতি দিল মিয়ানমার আল-কায়েদা নিয়ে জাতিসংঘের সতর্কতা আমলে নিচ্ছে না সরকার: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী তিস্তা নিয়ে ভারতের বন্ধুত্ব নষ্ট করতে চাই না, দেখবো দেশের স্বার্থ: পানি সম্পদমন্ত্রী এবার ৫৮২ টনের ম্যাগনেট দিয়ে ‘কৃত্রিম সূর্য’ বানাচ্ছে চীন শিক্ষক না আসায় লাঠিসোটা নিয়ে প্রাথমিক শিক্ষার্থীদের আন্দোলন আলু বিক্রি বাড়াতে দোকানে নর্তকীর নাচ, ভিডিও ভাইরাল থালাপাতির এক ঘোষণায় বদলে গেলো হিসাব, লাখ লাখ কৃষকের ঋণ মওকুফ! জঙ্গল পরিষ্কার করতে গিয়ে দেখা মিলল ৪০০ বছরের পুরোনো মসজিদ এসএসসির এত খাতা পুনর্মূল্যায়ন করা  প্রায় অসম্ভব, আমরা নীতিমালা করব: শিক্ষামন্ত্রী কুমিল্লা বিমানবন্দরে বিমান ওঠে না ৩২ বছর, তবুও মাসে কোটি টাকা আয়

শিশু রামিসা ধর্ষণ ও হত্যা: সোহেল ও স্বপ্নার মৃত্যুদণ্ড

  • ডেস্ক রিপোর্ট
  • আপডেট সময় ১১:৪৭:৩৯ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ৭ জুন ২০২৬
  • ২৬৭ বার পড়া হয়েছে

এবার রাজধানীর মিরপুরের পল্লবীতে দ্বিতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থী শিশু রামিসা আক্তারকে ধর্ষণের পর গলা কেটে হত্যার আলোচিত মামলায় প্রধান আসামি সোহেল রানা ও তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তারের মৃত্যুদণ্ডের আদেশ দিয়েছেন আদালত। এর মাধ্যমে পাঁচ কর্ম দিবসে দেশের ইতিহাসে সবচেয়ে দ্রুততম সময়ের এই রায় ঘোষণা হলো। রোববার (৭ জুন) ঢাকার মহানগর শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মাসরুর সালেকীন জনাকীর্ণ আদালতে এই রায় ঘোষণা করেন। রায় ঘোষণার সময় দুই আসামিই আদালতের কাঠগড়ায় উপস্থিত ছিলেন।  মামলার সংক্ষিপ্ত রায়ে বিচারক উল্লেখ করেন, আসামি সোহেল রানা শিশু রামিসাকে ধর্ষণের পর নির্মমভাবে হত্যা করেছেনযা রাষ্ট্রপক্ষ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণ করতে সক্ষম হয়েছে। অন্যদিকে, সোহেলের স্ত্রী স্বপ্না আক্তার এই অপরাধে সরাসরি সহায়তা করেছেন।

রায়ের পর্যবেক্ষণে আদালত বলেন, স্বপ্না খাতুন তার স্বামী সোহেল রানার এই নৃশংস অপরাধের সহযোগী ছিলেন। ঘটনার সময় স্বামীকে থামানোর কোনো চেষ্টা না করে, উল্টো অপরাধ আড়াল করতে এবং স্বামীকে ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যেতে তিনি প্রত্যক্ষভাবে সাহায্য করেছেন। সোহেলকে পালিয়ে যেতে ও মরদেহ গুম চেষ্টায় স্বপ্না সহযোগিতা করেছেন, এটা প্রামাণিত। সোহেলস্বপ্নার প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ সহায়তায় এই নৃশংস ঘটনা ঘটে। আইন অনুযায়ী, অপরাধে এই ধরনের সহায়তা ও অংশীদারিত্বের কারণে তারা উভয়েই সমভাবে অপরাধী এবং সর্বোচ্চ শাস্তি পাওয়ার যোগ্য।

আদালত বলেন, এটি একটি সমাজের বিরুদ্ধে অপরাধ। এই ঘৃণ্য অপরাধের যথাযথ সাজা নিশ্চিত করা আদালতের দায়িত্ব। এমন ব্যক্তিদের হাত থেকে শিশুসহ কেউ  নিরাপদ নয়। এদিকে সকাল থেকেই এই রায়কে কেন্দ্র করে ঢাকা মহানগর দায়রা জজ আদালত এলাকায় নজিরবিহীন নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়। আদালত প্রাঙ্গণে অতিরিক্ত তিন প্লাটুন পুলিশ মোতায়েন করা ছিল। সকাল সাড়ে আটটা থেকে পৌনে ৯টার মধ্যে দুই আসামিকে কড়া পুলিশি পাহারায় কারাগার থেকে আদালতের হাজতখানায় নিয়ে আসা হয়। বেলা ১১টার কিছু পর তাদের এজলাসে তোলা হয়।

গত ১৯ মে মিরপুরের পল্লবীতে নিজ বাসার পাশের একটি ফ্ল্যাটে নির্মমভাবে ধর্ষণ ও হত্যাকাণ্ডের শিকার হয় দ্বিতীয় শ্রেণির ওই শিক্ষার্থী। এই ঘটনার পর দেশজুড়ে তীব্র ক্ষোভ ও প্রতিবাদের ঝড় ওঠে। দ্রুত বিচার নিশ্চিত করার দাবিতে বিভিন্ন মহল থেকে সোচ্চার ভূমিকা পালন করা হয়। হত্যাকাণ্ডের দিনই তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লা এলাকা থেকে প্রধান আসামি সোহেল রানা ও তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তারকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। ঘটনার পরদিন নিহত শিশুটির বাবা বাদি হয়ে পল্লবী থানায় একটি মামলা দায়ের করেন। ঘটনার মাত্র ১৯ দিনের মাথায় আজ এই আলোচিত মামলার রায় ঘোষিত হলো।

ট্যাগস

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

জনপ্রিয় সংবাদ

বাংলাদেশে আশ্রয় নেওয়া ৩ লাখ ৯ হাজার রোহিঙ্গাকে স্বীকৃতি দিল মিয়ানমার

শিশু রামিসা ধর্ষণ ও হত্যা: সোহেল ও স্বপ্নার মৃত্যুদণ্ড

আপডেট সময় ১১:৪৭:৩৯ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ৭ জুন ২০২৬

এবার রাজধানীর মিরপুরের পল্লবীতে দ্বিতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থী শিশু রামিসা আক্তারকে ধর্ষণের পর গলা কেটে হত্যার আলোচিত মামলায় প্রধান আসামি সোহেল রানা ও তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তারের মৃত্যুদণ্ডের আদেশ দিয়েছেন আদালত। এর মাধ্যমে পাঁচ কর্ম দিবসে দেশের ইতিহাসে সবচেয়ে দ্রুততম সময়ের এই রায় ঘোষণা হলো। রোববার (৭ জুন) ঢাকার মহানগর শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মাসরুর সালেকীন জনাকীর্ণ আদালতে এই রায় ঘোষণা করেন। রায় ঘোষণার সময় দুই আসামিই আদালতের কাঠগড়ায় উপস্থিত ছিলেন।  মামলার সংক্ষিপ্ত রায়ে বিচারক উল্লেখ করেন, আসামি সোহেল রানা শিশু রামিসাকে ধর্ষণের পর নির্মমভাবে হত্যা করেছেনযা রাষ্ট্রপক্ষ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণ করতে সক্ষম হয়েছে। অন্যদিকে, সোহেলের স্ত্রী স্বপ্না আক্তার এই অপরাধে সরাসরি সহায়তা করেছেন।

রায়ের পর্যবেক্ষণে আদালত বলেন, স্বপ্না খাতুন তার স্বামী সোহেল রানার এই নৃশংস অপরাধের সহযোগী ছিলেন। ঘটনার সময় স্বামীকে থামানোর কোনো চেষ্টা না করে, উল্টো অপরাধ আড়াল করতে এবং স্বামীকে ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যেতে তিনি প্রত্যক্ষভাবে সাহায্য করেছেন। সোহেলকে পালিয়ে যেতে ও মরদেহ গুম চেষ্টায় স্বপ্না সহযোগিতা করেছেন, এটা প্রামাণিত। সোহেলস্বপ্নার প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ সহায়তায় এই নৃশংস ঘটনা ঘটে। আইন অনুযায়ী, অপরাধে এই ধরনের সহায়তা ও অংশীদারিত্বের কারণে তারা উভয়েই সমভাবে অপরাধী এবং সর্বোচ্চ শাস্তি পাওয়ার যোগ্য।

আদালত বলেন, এটি একটি সমাজের বিরুদ্ধে অপরাধ। এই ঘৃণ্য অপরাধের যথাযথ সাজা নিশ্চিত করা আদালতের দায়িত্ব। এমন ব্যক্তিদের হাত থেকে শিশুসহ কেউ  নিরাপদ নয়। এদিকে সকাল থেকেই এই রায়কে কেন্দ্র করে ঢাকা মহানগর দায়রা জজ আদালত এলাকায় নজিরবিহীন নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়। আদালত প্রাঙ্গণে অতিরিক্ত তিন প্লাটুন পুলিশ মোতায়েন করা ছিল। সকাল সাড়ে আটটা থেকে পৌনে ৯টার মধ্যে দুই আসামিকে কড়া পুলিশি পাহারায় কারাগার থেকে আদালতের হাজতখানায় নিয়ে আসা হয়। বেলা ১১টার কিছু পর তাদের এজলাসে তোলা হয়।

গত ১৯ মে মিরপুরের পল্লবীতে নিজ বাসার পাশের একটি ফ্ল্যাটে নির্মমভাবে ধর্ষণ ও হত্যাকাণ্ডের শিকার হয় দ্বিতীয় শ্রেণির ওই শিক্ষার্থী। এই ঘটনার পর দেশজুড়ে তীব্র ক্ষোভ ও প্রতিবাদের ঝড় ওঠে। দ্রুত বিচার নিশ্চিত করার দাবিতে বিভিন্ন মহল থেকে সোচ্চার ভূমিকা পালন করা হয়। হত্যাকাণ্ডের দিনই তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লা এলাকা থেকে প্রধান আসামি সোহেল রানা ও তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তারকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। ঘটনার পরদিন নিহত শিশুটির বাবা বাদি হয়ে পল্লবী থানায় একটি মামলা দায়ের করেন। ঘটনার মাত্র ১৯ দিনের মাথায় আজ এই আলোচিত মামলার রায় ঘোষিত হলো।