ঢাকা , শুক্রবার, ০৭ অগাস্ট ২০২৬, ২৩ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম ::
মেয়েদের আপত্তিকর ছবি তুলে লন্ডনে বয়ফ্রেন্ডের কাছে পাঠাতেন ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রী ড. ইউনূসের চেয়ে ‘হাজারগুণ ভালো’ দেশ চালাচ্ছেন তারেক রহমান: কাদের সিদ্দিকী সকাল না হতেই মর্মান্তিক দুই দুর্ঘটনা, ঝরে গেল ১৫ প্রাণ মৃত্যুর পর যদি সন্তানেরা না করে, তাই জীবিত অবস্থায় নিজের চল্লিশার আয়োজন করলেন বৃদ্ধ অন্ধকারে মোজতবা খামেনির সঙ্গে বৈঠক, আসল মানুষ কিনা প্রশ্ন পেজেশকিয়ানের সিঙ্গারার লোভ দেখিয়ে স্কুল শিক্ষার্থীদের মিছিলে নিলেন যুবলীগ নেতা মসজিদের ইমামকে ওমরাহ উপহার, আবেগে ভাসল বিদায়ের মুহূর্ত ইরান যুদ্ধ ‘খুব শিগগির’ শেষ হতে পারে: ট্রাম্প কর্মীর স্ত্রীর সঙ্গে সম্পর্ক, দল থেকে বহিষ্কার জামায়াত নেতা বিদেশী নয়, নিজস্ব প্রযুক্তিতেই সামরিক শ্রেষ্ঠত্ব ইরানের

মসজিদের ইমামকে ওমরাহ উপহার, আবেগে ভাসল বিদায়ের মুহূর্ত

  • ডেস্ক রিপোর্ট
  • আপডেট সময় ১০:০৬:৫১ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ৭ অগাস্ট ২০২৬
  • ৭ বার পড়া হয়েছে

একটি মসজিদ, একটি মিহরাব, আর একই ইমামের পেছনে প্রজন্মের পর প্রজন্ম নামাজ আদায়। ময়মনসিংহ সদর উপজেলার দারিয়াকান্দা গ্রামের মজিদ মণ্ডল বাড়ির জামে মসজিদে টানা ৫৫ বছর ইমামতি করে মানুষের ভালোবাসার অনন্য দৃষ্টান্ত গড়েছেন হাফেজ আব্দুল কদ্দুস। অর্ধশতকেরও বেশি সময় ধরে ধর্মীয় ও সামাজিক দায়িত্ব পালনের স্বীকৃতি হিসেবে এবার তাকে নিজ খরচে নয়, বরং এলাকাবাসীর অর্থায়নে পবিত্র ওমরাহ পালনের জন্য সৌদি আরবে পাঠানো হয়েছে।

বুধবার (৫ আগস্ট) গ্রামের মুসল্লি, প্রবাসী ও শুভানুধ্যায়ীদের সম্মিলিত উদ্যোগে তাকে সৌদি আরবের উদ্দেশে বিদায় জানানো হয়। বিদায়ের সময় মসজিদ প্রাঙ্গণে আবেগঘন পরিবেশের সৃষ্টি হয়। শত শত মুসল্লি, গ্রামবাসী ও স্বজনরা প্রিয় ইমামকে ফুলেল শুভেচ্ছা, দোয়া ও শুভকামনা জানিয়ে বিদায় দেন।

স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, ১৯৭১ সালে তরুণ বয়সে মসজিদটির ইমাম হিসেবে দায়িত্ব নেন হাফেজ আব্দুল কদ্দুস। এরপর থেকে টানা ৫৫ বছর পাঁচ ওয়াক্ত নামাজের ইমামতি, জুমার খুতবা, শিশুদের কোরআন শিক্ষা, জানাজা, বিয়ে, পারিবারিক ও সামাজিক বিরোধ নিষ্পত্তিসহ নানা ধর্মীয় দায়িত্ব পালন করে আসছেন তিনি। তার হাত ধরেই গ্রামের বহু শিশু কোরআন শিক্ষা সম্পন্ন করেছে।

স্থানীয় বাসিন্দা একেএম ফজলুল হক বলেন, ইমাম সাহেব শুধু নামাজ পড়াননি, তিনি আমাদের সন্তানদের মানুষ হওয়ার শিক্ষা দিয়েছেন। সততা, ন্যায়নীতি ও ইসলামের আদর্শ নিয়ে তিনি সবসময় মানুষকে উদ্বুদ্ধ করেছেন। এত দীর্ঘ সময় একই নিষ্ঠায় দায়িত্ব পালন করা সত্যিই বিরল।

ওমরাহ পাঠানোর অন্যতম উদ্যোক্তা ফরিদ আহমেদ লালু বলেন, আমরা ভেবেছি, যিনি জীবনের ৫৫ বছর আল্লাহর ঘরে মানুষের নেতৃত্ব দিয়েছেন, তার প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করা আমাদের দায়িত্ব। তাই গ্রামের মানুষ, প্রবাসী ভাই এবং শুভানুধ্যায়ীদের সহযোগিতায় তাকে ওমরাহে পাঠানোর উদ্যোগ নিয়েছি। এটি আমাদের ভালোবাসার প্রকাশ।

আরেক উদ্যোক্তা আশরাফুল ইসলাম বলেন, আমরা চাই সমাজে ভালো কাজের স্বীকৃতি দেওয়ার সংস্কৃতি তৈরি হোক। ইমাম সাহেবের মতো একজন নিবেদিতপ্রাণ মানুষকে সম্মান জানাতে পেরে আমরা নিজেদের ধন্য মনে করছি। মসজিদের নিয়মিত মুসল্লি মো. আব্দুল জলিল বলেন, বৃষ্টি, ঝড় কিংবা অসুস্থতা, কোনো কিছুই তাকে দায়িত্ব থেকে বিরত রাখতে পারেনি। যতদিন সম্ভব তিনি নিজেই আজান শুনে মসজিদে চলে এসেছেন। তার মতো দায়িত্বশীল ইমাম পাওয়া আমাদের জন্য সৌভাগ্যের।

বিদায়ের আগে সংক্ষিপ্ত বক্তব্যে আবেগাপ্লুত হাফেজ আব্দুল কদ্দুস বলেন, আমি কখনো ভাবিনি গ্রামের মানুষ আমাকে এভাবে সম্মানিত করবে। ১৯৭১ সাল থেকে এই মসজিদে ইমামতি করছি। আল্লাহর ঘরে গিয়ে দেশ, জাতি এবং এলাকার সকল মানুষের জন্য দোয়া করব। যারা আমাকে এই সুযোগ করে দিয়েছেন, আল্লাহ তাদের উত্তম প্রতিদান দিন। ইমামের পরিবারের সদস্যরা জানান, মানুষের ভালোবাসার এমন সম্মান শুধু তাদের পরিবার নয়, পুরো এলাকাবাসীর জন্য গর্বের বিষয়। তারা মনে করেন, সমাজে যারা নীরবে মানুষের সেবা করে যাচ্ছেন, তাদের সম্মানিত করার এমন উদ্যোগ অন্যদেরও মানবিক কাজে উৎসাহিত করবে।

ট্যাগস

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

জনপ্রিয় সংবাদ

মেয়েদের আপত্তিকর ছবি তুলে লন্ডনে বয়ফ্রেন্ডের কাছে পাঠাতেন ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রী

মসজিদের ইমামকে ওমরাহ উপহার, আবেগে ভাসল বিদায়ের মুহূর্ত

আপডেট সময় ১০:০৬:৫১ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ৭ অগাস্ট ২০২৬

একটি মসজিদ, একটি মিহরাব, আর একই ইমামের পেছনে প্রজন্মের পর প্রজন্ম নামাজ আদায়। ময়মনসিংহ সদর উপজেলার দারিয়াকান্দা গ্রামের মজিদ মণ্ডল বাড়ির জামে মসজিদে টানা ৫৫ বছর ইমামতি করে মানুষের ভালোবাসার অনন্য দৃষ্টান্ত গড়েছেন হাফেজ আব্দুল কদ্দুস। অর্ধশতকেরও বেশি সময় ধরে ধর্মীয় ও সামাজিক দায়িত্ব পালনের স্বীকৃতি হিসেবে এবার তাকে নিজ খরচে নয়, বরং এলাকাবাসীর অর্থায়নে পবিত্র ওমরাহ পালনের জন্য সৌদি আরবে পাঠানো হয়েছে।

বুধবার (৫ আগস্ট) গ্রামের মুসল্লি, প্রবাসী ও শুভানুধ্যায়ীদের সম্মিলিত উদ্যোগে তাকে সৌদি আরবের উদ্দেশে বিদায় জানানো হয়। বিদায়ের সময় মসজিদ প্রাঙ্গণে আবেগঘন পরিবেশের সৃষ্টি হয়। শত শত মুসল্লি, গ্রামবাসী ও স্বজনরা প্রিয় ইমামকে ফুলেল শুভেচ্ছা, দোয়া ও শুভকামনা জানিয়ে বিদায় দেন।

স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, ১৯৭১ সালে তরুণ বয়সে মসজিদটির ইমাম হিসেবে দায়িত্ব নেন হাফেজ আব্দুল কদ্দুস। এরপর থেকে টানা ৫৫ বছর পাঁচ ওয়াক্ত নামাজের ইমামতি, জুমার খুতবা, শিশুদের কোরআন শিক্ষা, জানাজা, বিয়ে, পারিবারিক ও সামাজিক বিরোধ নিষ্পত্তিসহ নানা ধর্মীয় দায়িত্ব পালন করে আসছেন তিনি। তার হাত ধরেই গ্রামের বহু শিশু কোরআন শিক্ষা সম্পন্ন করেছে।

স্থানীয় বাসিন্দা একেএম ফজলুল হক বলেন, ইমাম সাহেব শুধু নামাজ পড়াননি, তিনি আমাদের সন্তানদের মানুষ হওয়ার শিক্ষা দিয়েছেন। সততা, ন্যায়নীতি ও ইসলামের আদর্শ নিয়ে তিনি সবসময় মানুষকে উদ্বুদ্ধ করেছেন। এত দীর্ঘ সময় একই নিষ্ঠায় দায়িত্ব পালন করা সত্যিই বিরল।

ওমরাহ পাঠানোর অন্যতম উদ্যোক্তা ফরিদ আহমেদ লালু বলেন, আমরা ভেবেছি, যিনি জীবনের ৫৫ বছর আল্লাহর ঘরে মানুষের নেতৃত্ব দিয়েছেন, তার প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করা আমাদের দায়িত্ব। তাই গ্রামের মানুষ, প্রবাসী ভাই এবং শুভানুধ্যায়ীদের সহযোগিতায় তাকে ওমরাহে পাঠানোর উদ্যোগ নিয়েছি। এটি আমাদের ভালোবাসার প্রকাশ।

আরেক উদ্যোক্তা আশরাফুল ইসলাম বলেন, আমরা চাই সমাজে ভালো কাজের স্বীকৃতি দেওয়ার সংস্কৃতি তৈরি হোক। ইমাম সাহেবের মতো একজন নিবেদিতপ্রাণ মানুষকে সম্মান জানাতে পেরে আমরা নিজেদের ধন্য মনে করছি। মসজিদের নিয়মিত মুসল্লি মো. আব্দুল জলিল বলেন, বৃষ্টি, ঝড় কিংবা অসুস্থতা, কোনো কিছুই তাকে দায়িত্ব থেকে বিরত রাখতে পারেনি। যতদিন সম্ভব তিনি নিজেই আজান শুনে মসজিদে চলে এসেছেন। তার মতো দায়িত্বশীল ইমাম পাওয়া আমাদের জন্য সৌভাগ্যের।

বিদায়ের আগে সংক্ষিপ্ত বক্তব্যে আবেগাপ্লুত হাফেজ আব্দুল কদ্দুস বলেন, আমি কখনো ভাবিনি গ্রামের মানুষ আমাকে এভাবে সম্মানিত করবে। ১৯৭১ সাল থেকে এই মসজিদে ইমামতি করছি। আল্লাহর ঘরে গিয়ে দেশ, জাতি এবং এলাকার সকল মানুষের জন্য দোয়া করব। যারা আমাকে এই সুযোগ করে দিয়েছেন, আল্লাহ তাদের উত্তম প্রতিদান দিন। ইমামের পরিবারের সদস্যরা জানান, মানুষের ভালোবাসার এমন সম্মান শুধু তাদের পরিবার নয়, পুরো এলাকাবাসীর জন্য গর্বের বিষয়। তারা মনে করেন, সমাজে যারা নীরবে মানুষের সেবা করে যাচ্ছেন, তাদের সম্মানিত করার এমন উদ্যোগ অন্যদেরও মানবিক কাজে উৎসাহিত করবে।