২০২৪ সালের ৫ আগস্ট বিকেলে লাঠিসোটা ও অন্যান্য অস্ত্রে সজ্জিত একদল হামলাকারী কারাগারের প্রধান ফটক ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করে। এ সময় তারা কারাগারের বিভিন্ন স্থাপনায় ব্যাপক ভাঙচুর চালিয়ে একাধিক কক্ষে আগুন ধরিয়ে দেয়। আগুনে কারাগারের সব নথিপত্র পুড়ে যায় এবং কারারক্ষীদের অস্ত্র লুট করা হয়।
এদিকে নিরাপত্তার স্বার্থে কারা কর্মকর্তা-কর্মচারীরা সেখান থেকে সরে যেতে বাধ্য হন। এ ঘটনায় পালিয়ে যায় বিভিন্ন মামলায় সাজাপ্রাপ্ত এবং বিচারাধীন মামলার প্রায় ৫১৮ কয়েদি। এদের মধ্যে ৩৪৬ জনকে এখনো গ্রেফতার করা সম্ভব হয়নি।
পুলিশ ও জেলা কারাগার সূত্রে জানা গেছে, বিভিন্ন সময়ে অভিযানে এ পর্যন্ত মাত্র ১৭২ জনকে গ্রেফতার করেছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। লুট হওয়া অস্ত্র কিছু উদ্ধার করা গেলেও বিপুল পরিমাণ গুলি এখনো উদ্ধার হয়নি।
শেরপুর জেলা কারাগারের জেলার মোহাম্মদ আবদুস সেলিম বুধবার এ তথ্য নিশ্চিত করেন।
জেলার আবদুস সেলিম বলেন, হামলার সময় কারাগারের কম্বল, বালিশ, ফ্যান, সিসিটিভি ক্যামেরা, ওষুধ, আসবাবপত্র এবং বস্তাভর্তি খাদ্যসামগ্রী লুট করা হয়। তৎকালীন জেল সুপার লিপি রানী সাহার সরকারি বাসভবনেও হামলা চালিয়ে মূল্যবান সামগ্রী লুট হয়।
তিনি জানান, ভবনের ক্ষয়ক্ষতি ও মালামাল লুটের ঘটনায় প্রায় তিন কোটি টাকার ক্ষতি হয়েছে। সংস্কার শেষে ২০২৪ সালের ১২ ডিসেম্বর কারাগারটি পুনরায় চালু করা হয়।
হামলার সময় কারাগারের সব গুরুত্বপূর্ণ নথি পুড়ে গেলেও এক কর্মচারীর কাছে থাকা ল্যাপটপে সংরক্ষিত কারা গোয়েন্দা তথ্যভাণ্ডার (পিআইডিএফ) অক্ষত থাকায় সেটি রক্ষা করা সম্ভব হয়েছে।
জেলার বলেন, পলাতক বাকি বন্দিদের গ্রেফতার এবং লুট হওয়া গুলি উদ্ধারে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
কারা কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, হামলার সময় লুট হওয়া ৯টি চীনা রাইফেল ও শটগানের সব অস্ত্র উদ্ধার করা গেলেও চীনা রাইফেলের ৮৪৪ রাউন্ড গুলির কোনো হদিস মেলেনি। শটগানের ৩৩১ রাউন্ড গুলির মধ্যে মাত্র ৩২ রাউন্ড উদ্ধার হয়েছে। অর্থাৎ মোট ১ হাজার ১৭৫ রাউন্ড গুলির মধ্যে এখনো ১ হাজার ১৪৩ রাউন্ড উদ্ধার হয়নি।
এ বিষয়ে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. মিজানুর রহমান ভুঞা যুগান্তরকে বলেন, কারাগার থেকে আসামি পলায়নের বিষয়ে ইতোমধ্যে আমরা অনেক আসামিকে গ্রেফতার করেছি এবং লুট হওয়া সব অস্ত্র এবং কিছু গুলি উদ্ধার করা হয়েছে। আমাদের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

ডেস্ক রিপোর্ট 


















