ঢাকা , শুক্রবার, ০৭ অগাস্ট ২০২৬, ২৩ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম ::
জনগণের আস্থা হারিয়েছে বর্তমান সরকার: নাহিদ ইসলাম সক্ষমতা পরীক্ষা করতে ন্যাটোভুক্ত দেশে হামলা চালাতে পারে রাশিয়া বিদ্যুতের শর্ট সার্কিটে আগুনে ঘর পুড়ে ছাই, অক্ষত পবিত্র কোরআন কনসার্টে হাসানের মাথায় বোতল ছুঁড়লো কে, ভিডিওতে কী আছে? শৃঙ্খলা ভঙ্গের অভিযোগে জাবি ছাত্রদলের যুগ্ম আহ্বায়ককে কারণ দর্শানোর নোটিশ জামায়াত-এনসিপির মব সৃষ্টির সুযোগ নিতে পারে আওয়ামী লীগ: রাশেদ খাঁন কাঠামোগত সংস্কার না হলে এই সরকারও স্বৈরাচারী হবে : নাহিদ ইসলাম শেরপুরে জেল ভেঙে পালানো সাড়ে ৩শ আসামিকে এখনো ধরতে পারেনি পুলিশ প্রতিরক্ষা সহযোগিতা জোরদারে তুরস্ক, সৌদি ও পাকিস্তানের মধ্যে চুক্তি স্বাক্ষরিত নাটোরে মন্ত্রীর পথসভা থেকে উদ্ধার অস্ত্রটি খেলনা পিস্তল

জামায়াত-এনসিপির মব সৃষ্টির সুযোগ নিতে পারে আওয়ামী লীগ: রাশেদ খাঁন

  • ডেস্ক রিপোর্ট
  • আপডেট সময় ১০:০২:৫৮ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৭ অগাস্ট ২০২৬
  • ৮ বার পড়া হয়েছে

প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক সহকারী রাশেদ খাঁন বলেছেন, ‘জামায়াতে ইসলামী ও এনসিপির নেতাকর্মীরা সচিবালয়ের সামনে মব সৃষ্টি করছে। তারা বিদেশী অতিথিদের সামনে সরকারি অনুষ্ঠানগুলোতে মব সৃষ্টি করছে। জামায়াত-এনসিপির মব সৃষ্টির সুযোগ নিয়ে ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগ রাজনীতিতে ফেরার অপচেষ্টা করতে পারে।’

 

শুক্রবার (৭ আগস্ট) বিকালে ঝিনাইদহ সার্কিট হাউজে স্থানীয় সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় তিনি এসব কথা বলেন।

 

 

রাশেদ খাঁন বলেন, ‘জামায়াত আমির ডা. শফিকুর রহমানের নেতৃত্বে সচিবালয়ে মব সৃষ্টি করা হয়েছে। গণঅভ্যুত্থানের সময়ও সচিবালয়ে এ ধরনের পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়নি। কিন্তু বৃহস্পতিবার ‘সচিবালয় ঘেরাও’-এর নামে সেখানে মব তৈরি করা হয়েছে। জামায়াত একটি হঠকারী দল। সুযোগ পেলে তারা ১০ মিনিটের মধ্যে সচিবালয়ের অধিকাংশ কর্মকর্তা-কর্মচারীকে বের করে দেবে।’

 

তিনি বলেন, ‘গত ৫ আগস্ট জাতীয় কর্মসূচিতে বিদেশি কূটনীতিকদের সামনে এনসিপির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলামের নেতৃত্বেও আরেকটি মব সৃষ্টি করা হয়। বিদেশি কূটনীতিকদের সামনে এ ধরনের পরিস্থিতি সৃষ্টি করে দেশকে অস্থিতিশীল করার চেষ্টা করা হচ্ছে। আওয়ামী লীগ যদি ফিরে আসে, তবে তা জামায়াত ও এনসিপির মাধ্যমে ফিরে আসবে। আর আওয়ামী লীগ ফিরে এলে আমাদেরও মারবে, তাদেরও মারবে।’

 

তিনি আরও বলেন, ‘তারা এক সপ্তাহের মধ্যে সরকারের পতন ঘটাতে চায়। জামায়াত ভুলে গেছে, তারা স্বাধীনতাবিরোধী শক্তি। কাজেই, তারা কখনোই দেশের ক্ষমতায় যেতে পারবে না। ক্ষমতায় যেতে হলে জামায়াত-এনসিপিকে অন্তত ১০ বছর তাদের বিরোধী দলে থাকতে হবে। আওয়ামী লীগ, যুবলীগ, ছাত্রলীগ এখন নিষিদ্ধ রাজনৈতিক দল। তাদের আর দেশে রাজনীতি করার সুযোগ দেয়া হবে না। তবে, জামায়াত ও এনসিপির নেতারা যেভাবে মব সৃষ্টির মাধ্যমে আইনশৃঙ্খলার অবনতি ঘটানোর অপচেষ্টা চালাচ্ছে, তাতে আওয়ামী লীগের ফেরার পথ তারাই করে দিচ্ছে।”

 

বিরোধীদলের উদ্দেশ্যে রাশেদ খাঁন বলেন, ‘আপনার সরকারকে চাপে রাখতে একের পর এক হঠকারী কর্মকাণ্ড করছেন। এই সব হঠকারী কর্মকাণ্ড জনগণ মেনে নেবে না। জামায়াত ও এনসিপিকে মনে রাখতে হবে, বিএনপিকে রাজনীতির মাঠে মারা অপচেষ্টা করবেন না। বিএনপি মরলে জামায়াত ও এনসিপিকেও মরতে হবে। আওয়ামী লীগ যদি ফেরে, দমন পীড়ন যেভাবে বেড়ে যাবে, তা ভাবতেও পারছেন না।’

 

রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের ব্যাপারে বিএনপির অবস্থান কী? এমন প্রশ্নের জবাবে রাশেদ খান বলেন, ‘রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের ব্যাপারে বিএনপি প্রার্থী দিয়েছে। এ ব্যাপারে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সম্মানিত সদস্যবৃন্দ দলের চেয়ারম্যান ও মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর ওপর দায়িত্ব দিয়েছেন। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী তার মেধা, যোগ্যতা, বিচক্ষণতা ও দূরদর্শিতা দিয়ে রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবেন। জামায়াত ও এনসিপি জাতীয় নির্বাচনে পরাজয়ের ভয়ে রাষ্ট্রপতি নির্বাচনেও প্রার্থী দিচ্ছে না। আমরা চাই, তারাও প্রার্থী দিক। এটিই গণতন্ত্রের সৌন্দর্য।’

 

জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক জাহিদুজ্জামান মনার সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন জেলা বিএনপির সভাপতি এমএ মজিদ, সিনিয়র যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আব্দুল মজিদ, প্রেসক্লাবের সভাপতি আসিফ ইকবাল মাখন, সাবেক সভাপতি এম রায়হান, সাধারণ সম্পাদক আমিনুল ইসলাম লিটন, ঝিনাইদহ পৌর বিএনপির সভাপতি মাহবুবুর রহমান শেখর, জেলা ছাত্রদলের সভাপতি মো. ইমরান হোসেন, সাধারণ সম্পাদক শাহরিয়ার রাসেল প্রমুখ।

ট্যাগস

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

জনপ্রিয় সংবাদ

জনগণের আস্থা হারিয়েছে বর্তমান সরকার: নাহিদ ইসলাম

জামায়াত-এনসিপির মব সৃষ্টির সুযোগ নিতে পারে আওয়ামী লীগ: রাশেদ খাঁন

আপডেট সময় ১০:০২:৫৮ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৭ অগাস্ট ২০২৬

প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক সহকারী রাশেদ খাঁন বলেছেন, ‘জামায়াতে ইসলামী ও এনসিপির নেতাকর্মীরা সচিবালয়ের সামনে মব সৃষ্টি করছে। তারা বিদেশী অতিথিদের সামনে সরকারি অনুষ্ঠানগুলোতে মব সৃষ্টি করছে। জামায়াত-এনসিপির মব সৃষ্টির সুযোগ নিয়ে ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগ রাজনীতিতে ফেরার অপচেষ্টা করতে পারে।’

 

শুক্রবার (৭ আগস্ট) বিকালে ঝিনাইদহ সার্কিট হাউজে স্থানীয় সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় তিনি এসব কথা বলেন।

 

 

রাশেদ খাঁন বলেন, ‘জামায়াত আমির ডা. শফিকুর রহমানের নেতৃত্বে সচিবালয়ে মব সৃষ্টি করা হয়েছে। গণঅভ্যুত্থানের সময়ও সচিবালয়ে এ ধরনের পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়নি। কিন্তু বৃহস্পতিবার ‘সচিবালয় ঘেরাও’-এর নামে সেখানে মব তৈরি করা হয়েছে। জামায়াত একটি হঠকারী দল। সুযোগ পেলে তারা ১০ মিনিটের মধ্যে সচিবালয়ের অধিকাংশ কর্মকর্তা-কর্মচারীকে বের করে দেবে।’

 

তিনি বলেন, ‘গত ৫ আগস্ট জাতীয় কর্মসূচিতে বিদেশি কূটনীতিকদের সামনে এনসিপির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলামের নেতৃত্বেও আরেকটি মব সৃষ্টি করা হয়। বিদেশি কূটনীতিকদের সামনে এ ধরনের পরিস্থিতি সৃষ্টি করে দেশকে অস্থিতিশীল করার চেষ্টা করা হচ্ছে। আওয়ামী লীগ যদি ফিরে আসে, তবে তা জামায়াত ও এনসিপির মাধ্যমে ফিরে আসবে। আর আওয়ামী লীগ ফিরে এলে আমাদেরও মারবে, তাদেরও মারবে।’

 

তিনি আরও বলেন, ‘তারা এক সপ্তাহের মধ্যে সরকারের পতন ঘটাতে চায়। জামায়াত ভুলে গেছে, তারা স্বাধীনতাবিরোধী শক্তি। কাজেই, তারা কখনোই দেশের ক্ষমতায় যেতে পারবে না। ক্ষমতায় যেতে হলে জামায়াত-এনসিপিকে অন্তত ১০ বছর তাদের বিরোধী দলে থাকতে হবে। আওয়ামী লীগ, যুবলীগ, ছাত্রলীগ এখন নিষিদ্ধ রাজনৈতিক দল। তাদের আর দেশে রাজনীতি করার সুযোগ দেয়া হবে না। তবে, জামায়াত ও এনসিপির নেতারা যেভাবে মব সৃষ্টির মাধ্যমে আইনশৃঙ্খলার অবনতি ঘটানোর অপচেষ্টা চালাচ্ছে, তাতে আওয়ামী লীগের ফেরার পথ তারাই করে দিচ্ছে।”

 

বিরোধীদলের উদ্দেশ্যে রাশেদ খাঁন বলেন, ‘আপনার সরকারকে চাপে রাখতে একের পর এক হঠকারী কর্মকাণ্ড করছেন। এই সব হঠকারী কর্মকাণ্ড জনগণ মেনে নেবে না। জামায়াত ও এনসিপিকে মনে রাখতে হবে, বিএনপিকে রাজনীতির মাঠে মারা অপচেষ্টা করবেন না। বিএনপি মরলে জামায়াত ও এনসিপিকেও মরতে হবে। আওয়ামী লীগ যদি ফেরে, দমন পীড়ন যেভাবে বেড়ে যাবে, তা ভাবতেও পারছেন না।’

 

রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের ব্যাপারে বিএনপির অবস্থান কী? এমন প্রশ্নের জবাবে রাশেদ খান বলেন, ‘রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের ব্যাপারে বিএনপি প্রার্থী দিয়েছে। এ ব্যাপারে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সম্মানিত সদস্যবৃন্দ দলের চেয়ারম্যান ও মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর ওপর দায়িত্ব দিয়েছেন। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী তার মেধা, যোগ্যতা, বিচক্ষণতা ও দূরদর্শিতা দিয়ে রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবেন। জামায়াত ও এনসিপি জাতীয় নির্বাচনে পরাজয়ের ভয়ে রাষ্ট্রপতি নির্বাচনেও প্রার্থী দিচ্ছে না। আমরা চাই, তারাও প্রার্থী দিক। এটিই গণতন্ত্রের সৌন্দর্য।’

 

জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক জাহিদুজ্জামান মনার সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন জেলা বিএনপির সভাপতি এমএ মজিদ, সিনিয়র যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আব্দুল মজিদ, প্রেসক্লাবের সভাপতি আসিফ ইকবাল মাখন, সাবেক সভাপতি এম রায়হান, সাধারণ সম্পাদক আমিনুল ইসলাম লিটন, ঝিনাইদহ পৌর বিএনপির সভাপতি মাহবুবুর রহমান শেখর, জেলা ছাত্রদলের সভাপতি মো. ইমরান হোসেন, সাধারণ সম্পাদক শাহরিয়ার রাসেল প্রমুখ।