দক্ষিণ ভারতীয় চলচ্চিত্র জগতের পরিচিত মুখ থালাপতি বিজয় এখন রাজনীতিতেও আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু। অভিনয়ের পাশাপাশি তামিলনাড়ুর রাজনীতিতে তার উত্থান নতুন করে সবার নজর কাড়ছে। সম্প্রতি রাজ্যটিতে অনুষ্ঠিত বিধানসভা নির্বাচনে তার দল তামিলাগা ভেট্রি কাজাগাম (টিভিকে) উল্লেখযোগ্য সাফল্য অর্জন করেছে। এ নির্বাচনে একক সংখ্যা গরিষ্ঠতা অর্জন করতে না পারলেও শেষ পর্যন্ত জোটগতভাবে সরকার গঠন করছে টিভিকে।
মাত্র কয়েক বছর আগে গঠিত দল নিয়ে নির্বাচনী লড়াইয়ে নেমে টিভিকে জয় পেয়েছে রাজ্যের ১০৮টি আসনে। দীর্ঘদিন ধরে রাজনীতিতে প্রভাব বিস্তার করা ডিএমকে ও এআইএডিএমকের প্রচলিত শক্ত অবস্থানের মধ্যেও বিজয়ের দলের এই ফলাফলকে বড় পরিবর্তনের ইঙ্গিত হিসেবে দেখা হচ্ছে।
থালাপতি বিজয়ের প্রকৃত নাম জোসেফ বিজয় চন্দ্রশেখর। চেন্নাইয়ে তার শৈশব ও পড়াশোনা কেটেছে। স্কুলজীবনে তিনি সাধারণ একজন শিক্ষার্থী হিসেবেই পরিচিত ছিলেন। পরে উচ্চশিক্ষার জন্য ভিজ্যুয়াল কমিউনিকেশন বিষয়ে কলেজে ভর্তি হলেও অভিনয়ের প্রতি প্রবল আগ্রহ তাকে ভিন্ন পথে নিয়ে যায়। শেষ পর্যন্ত পড়াশোনা ‘অসমাপ্ত’ রেখেই চলচ্চিত্র জগতে পুরোপুরি মনোযোগ দেন তিনি।
শিশুশিল্পী হিসেবে অভিনয় শুরু করলেও ধীরে ধীরে তিনি দক্ষিণ ভারতীয় সিনেমার অন্যতম জনপ্রিয় নায়ক হয়ে ওঠেন। তার ক্যারিয়ার অনেকের কাছে উদাহরণ হয়ে দাঁড়িয়েছে যে, সফলতার জন্য শুধু একাডেমিক ডিগ্রিই সব নয়; প্রতিভা, পরিশ্রম ও লক্ষ্যও সমান গুরুত্বপূর্ণ।
বিশ্লেষকদের মতে, বিজয়ের রাজনৈতিক অবস্থান অনেক আগে থেকেই তার চলচ্চিত্রে প্রতিফলিত হতে শুরু করে। বিভিন্ন সিনেমায় তিনি সামাজিক বৈষম্য, দুর্নীতি, কৃষক সংকট, শিক্ষা ব্যবস্থা ও রাজনৈতিক অনিয়মের মতো বিষয় তুলে ধরেছেন। এসব চরিত্রের মাধ্যমে সাধারণ মানুষের পক্ষে অবস্থান নেওয়া একজন নেতার ভাবমূর্তি তৈরি হয় তার।
তামিলনাড়ুর রাজনীতিতে চলচ্চিত্র তারকাদের অংশগ্রহণ নতুন কিছু নয়। অতীতেও কয়েকজন জনপ্রিয় অভিনেতা রাজনীতিতে এসে নেতৃত্ব দিয়েছেন। তবে বিজয়ের ক্ষেত্রে বিশেষ দিক হলো, তিনি অভিনয়জীবনের জনপ্রিয় সময়েই সক্রিয় রাজনীতিতে প্রবেশ করেছেন। এমনকি রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে মনোযোগ দিতে চলচ্চিত্র থেকে সরে দাঁড়ানোর ঘোষণাও দিয়েছেন।
তরুণদের মধ্যে তার জনপ্রিয়তার অন্যতম কারণ দীর্ঘদিনের সাংস্কৃতিক প্রভাব। সিনেমা, গান, সংলাপ, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও ফ্যান ক্লাবের মাধ্যমে তিনি বহু বছর ধরেই তরুণ প্রজন্মের কাছে পরিচিত ও প্রভাবশালী ব্যক্তিত্ব হিসেবে জায়গা করে নিয়েছেন।
নির্বাচনি প্রচারণায় শিক্ষাখাত নিয়েও বেশ কিছু প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন বিজয়। বিশেষ করে স্বল্প জমির কৃষক পরিবারের সন্তানদের উচ্চশিক্ষার ব্যয় বহনের প্রতিশ্রুতি গ্রামীণ জনগোষ্ঠীর মধ্যে ইতিবাচক সাড়া ফেলেছে বলে মনে করা হচ্ছে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, বিজয়ের বর্তমান অবস্থান হঠাৎ তৈরি হয়নি। দীর্ঘ সময় ধরে জনপ্রিয় সংস্কৃতি, ব্যক্তিগত ভাবমূর্তি এবং সামাজিক বার্তার সমন্বয়ে তিনি নিজের জন্য একটি শক্ত রাজনৈতিক পরিচয় গড়ে তুলেছেন। অনেকের কাছে তিনি আগে থেকেই “থালাপতি” বা নেতৃত্বের প্রতীক ছিলেন, আর এখন সেই জনপ্রিয়তা রাজনৈতিক সমর্থনে রূপ নিচ্ছে।

ডেস্ক রিপোর্ট 



















