ঢাকা , শনিবার, ০৯ মে ২০২৬, ২৬ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

সেই ফাতেমা পাচ্ছেন খালেদা জিয়া স্মৃতি স্বর্ণপদক

  • ডেস্ক রিপোর্ট
  • আপডেট সময় ১০:৫৪:১৯ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৮ মে ২০২৬
  • ১৩ বার পড়া হয়েছে

 

‘আপসহীন দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া স্মৃতি স্বর্ণপদক ২০২৬’ পুরস্কারে ভূষিত হয়েছেন সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার দীর্ঘ সময়ের গৃহকর্মী ও সবচেয়ে বিশ্বস্ত ‘ছায়াসঙ্গী’ ফাতেমা বেগম।

 

শুক্রবার (৮ মে) এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

 

বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী এবং বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরসহ আরও ১৪ জন পাচ্ছেন ‘আপসহীন দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া স্মৃতি স্বর্ণপদক ২০২৬’।

 

কে এই ফাতেমা

 

ফাতেমা বেগম দীর্ঘ প্রায় দেড় দশক ধরে খালেদা জিয়ার জীবনের অবিচ্ছেদ্য অংশ ছিলেন। গুলশানের ‘ফিরোজা’ বাসভবন থেকে শুরু করে রাজপথের আন্দোলন, কারাগারের নিঃসঙ্গ মুহূর্ত কিংবা বিদেশ সফরের সময়—সবখানেই নিঃশব্দে ছিল তার উপস্থিতি।

 

খালেদা জিয়ার শারীরিক দুর্বলতায় হাত ধরে হাঁটিয়ে নেওয়া, সময়মতো প্রয়োজনীয় বিষয় স্মরণ করিয়ে দেওয়া, প্রয়োজনীয় ওষুধ সেবন করানো—সবই ছিল তার দায়িত্ব।

 

শুধু ক্ষমতার মসনদ থেকে নির্জন কারাগার কিংবা হাসপাতালের চার দেয়াল—সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার জীবনের প্রতিটি বাঁকে যিনি নিঃশব্দে পাশে ছিলেন, তিনি কোনো রাজনৈতিক নেতা নন; এমনকি রক্তের সম্পর্কের আত্মীয়ও নন। তিনি ফাতেমা বেগম। খালেদা জিয়ার দীর্ঘতম সময়ের গৃহকর্মী এবং সবচেয়ে বিশ্বস্ত ‘ছায়াসঙ্গী’।

 

ফাতেমার বাড়ি ভোলার চরফ্যাশন উপজেলায়। খুব সাধারণ পরিবার থেকে ঢাকায় আসেন ফাতেমা। পরে কারও মাধ্যমে ২০০৯ সালে খালেদা জিয়ার বাসভবনে কাজ শুরু করেন তিনি। সেই থেকে তিনি খালেদা জিয়ার পরিবারের একজন হয়ে ওঠেন। পরে গুলশানের ‘ফিরোজায়’ দীর্ঘদিন খালেদা জিয়ার সহকারী হিসেবে পাশে ছিলেন এই নারী।

 

খালেদা জিয়ার দুই ছেলে তারেক রহমান ও প্রয়াত আরাফাত রহমান কোকো যখন দেশের বাইরে কিংবা কারাগারে ছিলেন, তখনো ফাতেমাই খালেদা জিয়ার ব্যক্তিগত কাজে পাশে ছিলেন।

 

২০১৮ সালের ৮ ফেব্রুয়ারি জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায় খালেদা জিয়ার সাজা হয়। পুরান ঢাকার নাজিমউদ্দিন রোডের পুরোনো কেন্দ্রীয় কারাগারে নেওয়া হয় তাকে, তখনো তার সঙ্গী ছিলেন ফাতেমা। অসুস্থ শরীর আর বয়সের ভারে ন্যুব্জ খালেদা জিয়ার পাশে থাকার জন্য অপরাধী না হয়েও আদালতের বিশেষ অনুমতিতে কারাগারে প্রবেশ করেন ফাতেমা।

 

খালেদা জিয়ার মৃত্যুর পর অন্য সবার মতো মানসিকভাবে গভীর শোকে আচ্ছন্ন হন ফাতেমা। তবে জিয়া পরিবারের অংশ হয়ে ওঠা ফাতেমা এখন তার নাতনি জাইমা রহমানের সহকারী হিসেবে কাজ করছেন বলে জানা গেছে।

 

সূত্র : বাসস

ট্যাগস

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

জনপ্রিয় সংবাদ

সেই ফাতেমা পাচ্ছেন খালেদা জিয়া স্মৃতি স্বর্ণপদক

আপডেট সময় ১০:৫৪:১৯ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৮ মে ২০২৬

 

‘আপসহীন দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া স্মৃতি স্বর্ণপদক ২০২৬’ পুরস্কারে ভূষিত হয়েছেন সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার দীর্ঘ সময়ের গৃহকর্মী ও সবচেয়ে বিশ্বস্ত ‘ছায়াসঙ্গী’ ফাতেমা বেগম।

 

শুক্রবার (৮ মে) এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

 

বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী এবং বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরসহ আরও ১৪ জন পাচ্ছেন ‘আপসহীন দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া স্মৃতি স্বর্ণপদক ২০২৬’।

 

কে এই ফাতেমা

 

ফাতেমা বেগম দীর্ঘ প্রায় দেড় দশক ধরে খালেদা জিয়ার জীবনের অবিচ্ছেদ্য অংশ ছিলেন। গুলশানের ‘ফিরোজা’ বাসভবন থেকে শুরু করে রাজপথের আন্দোলন, কারাগারের নিঃসঙ্গ মুহূর্ত কিংবা বিদেশ সফরের সময়—সবখানেই নিঃশব্দে ছিল তার উপস্থিতি।

 

খালেদা জিয়ার শারীরিক দুর্বলতায় হাত ধরে হাঁটিয়ে নেওয়া, সময়মতো প্রয়োজনীয় বিষয় স্মরণ করিয়ে দেওয়া, প্রয়োজনীয় ওষুধ সেবন করানো—সবই ছিল তার দায়িত্ব।

 

শুধু ক্ষমতার মসনদ থেকে নির্জন কারাগার কিংবা হাসপাতালের চার দেয়াল—সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার জীবনের প্রতিটি বাঁকে যিনি নিঃশব্দে পাশে ছিলেন, তিনি কোনো রাজনৈতিক নেতা নন; এমনকি রক্তের সম্পর্কের আত্মীয়ও নন। তিনি ফাতেমা বেগম। খালেদা জিয়ার দীর্ঘতম সময়ের গৃহকর্মী এবং সবচেয়ে বিশ্বস্ত ‘ছায়াসঙ্গী’।

 

ফাতেমার বাড়ি ভোলার চরফ্যাশন উপজেলায়। খুব সাধারণ পরিবার থেকে ঢাকায় আসেন ফাতেমা। পরে কারও মাধ্যমে ২০০৯ সালে খালেদা জিয়ার বাসভবনে কাজ শুরু করেন তিনি। সেই থেকে তিনি খালেদা জিয়ার পরিবারের একজন হয়ে ওঠেন। পরে গুলশানের ‘ফিরোজায়’ দীর্ঘদিন খালেদা জিয়ার সহকারী হিসেবে পাশে ছিলেন এই নারী।

 

খালেদা জিয়ার দুই ছেলে তারেক রহমান ও প্রয়াত আরাফাত রহমান কোকো যখন দেশের বাইরে কিংবা কারাগারে ছিলেন, তখনো ফাতেমাই খালেদা জিয়ার ব্যক্তিগত কাজে পাশে ছিলেন।

 

২০১৮ সালের ৮ ফেব্রুয়ারি জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায় খালেদা জিয়ার সাজা হয়। পুরান ঢাকার নাজিমউদ্দিন রোডের পুরোনো কেন্দ্রীয় কারাগারে নেওয়া হয় তাকে, তখনো তার সঙ্গী ছিলেন ফাতেমা। অসুস্থ শরীর আর বয়সের ভারে ন্যুব্জ খালেদা জিয়ার পাশে থাকার জন্য অপরাধী না হয়েও আদালতের বিশেষ অনুমতিতে কারাগারে প্রবেশ করেন ফাতেমা।

 

খালেদা জিয়ার মৃত্যুর পর অন্য সবার মতো মানসিকভাবে গভীর শোকে আচ্ছন্ন হন ফাতেমা। তবে জিয়া পরিবারের অংশ হয়ে ওঠা ফাতেমা এখন তার নাতনি জাইমা রহমানের সহকারী হিসেবে কাজ করছেন বলে জানা গেছে।

 

সূত্র : বাসস