রাশিয়ার দক্ষিণাঞ্চলে বিমান চলাচলে বড় ধরনের বিঘ্ন তৈরি হয়েছে। ইউক্রেনীয় ড্রোন হামলায় দক্ষিণ রাশিয়ার বিমান চলাচল নিয়ন্ত্রণ সংস্থার ভবন ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার পর ১৩টি বিমানবন্দরের কার্যক্রম সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে। শুক্রবার (৮ মে) এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে রুশ বার্তা সংস্থা তাস।
রাশিয়ার পরিবহন মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, ইউক্রেনীয় মানববিহীন আকাশযানের হামলার পর রোস্তভ-অন-দনে অবস্থিত দক্ষিণ রাশিয়ার আকাশপথ নিয়ন্ত্রণ কেন্দ্রের কার্যক্রমে সাময়িক পরিবর্তন আনা হয়েছে। এই কেন্দ্রটি দক্ষিণাঞ্চলের বিমান চলাচল নিয়ন্ত্রণ করে।
মন্ত্রণালয় আরও জানায়, হামলায় সংশ্লিষ্ট কর্মীরা নিরাপদ রয়েছেন। বর্তমানে কেন্দ্রটির যন্ত্রপাতির কার্যক্ষমতা যাচাই করা হচ্ছে। পরিবহন মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, সাময়িকভাবে কার্যক্রম স্থগিত করা হয়েছে আস্ত্রাখান, ভ্লাদিকাভকাজ, ভোলগোগ্রাদ, গেলেনডঝিক, গ্রোজনি, ক্রাসনোদর, মাখাচকালা, মাগাস, মিনেরালনি ভোদি, নালচিক, সোচি, স্তাভরোপল এবং এলিস্টা বিমানবন্দর।
মন্ত্রণালয়ের বিবৃতিতে বলা হয়, দক্ষিণাঞ্চলের বিমান চলাচল ব্যবস্থাপনা নতুন করে সমন্বয় করা হচ্ছে। পরিবহন মন্ত্রণালয়, ফেডারেল বিমান পরিবহন সংস্থা, বিভিন্ন বিমান সংস্থা ও বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ যৌথভাবে প্রস্তুত করছে নতুন সূচি।
রুশ বিমান সংস্থা এরোফ্লট জানিয়েছে, দক্ষিণ রাশিয়ার বিমানবন্দরগুলো বন্ধ থাকায় কিছু ফ্লাইটের সময় পিছিয়ে দেয়া হয়েছে এবং কিছু বাতিল করা হয়েছে। কয়েকটি ফ্লাইট বিকল্প বিমানবন্দরে নামানো হয়েছে। একই ধরনের ঘোষণা দিয়েছে রসিয়া এয়ারলাইন্স ও পোবেদা এয়ারলাইন্স।
এর আগে, বিমান চলাচলে বিধিনিষেধের কারণে সোচি বিমানবন্দরে ৫৫টির বেশি ফ্লাইট বিলম্বিত হয় এবং বাতিল করা হয় আরও ১১টি ফ্লাইট। দিনের শুরু থেকে উলিয়ানভস্ক, সামারা, কাজান, চেবোকসারি, বুগুলমা, ইজেভস্ক, উফা, পেরম এবং মস্কোর ভনুকোভো বিমানবন্দরে বিমানের আগমন ও প্রস্থানের ওপর অস্থায়ী বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়েছে।
এদিকে সেন্ট পিটার্সবার্গের পুলকোভো বিমানবন্দর পরিচালনাকারী প্রতিষ্ঠান জানিয়েছে, দক্ষিণ রাশিয়ার ১৩টি বিমানবন্দরের কার্যক্রম বন্ধ থাকায় সেখান থেকে দক্ষিণাঞ্চলীয় শহরগুলোতে যাওয়ার ২৩টি ফ্লাইট বাতিল বা বিলম্বিত হয়েছে।
রাশিয়ার পর্যটন অপারেটরদের সংগঠনের প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে অন্তত ১৪ হাজার যাত্রী দক্ষিণ রাশিয়ার স্থগিত হওয়া বিমানবন্দরগুলোতে যাত্রার অপেক্ষায় রয়েছেন। ফলে জটিল হয়ে উঠেছে পরিস্থিতি।

ডেস্ক রিপোর্ট 


















