ঢাকা , বৃহস্পতিবার, ১৫ জানুয়ারী ২০২৬, ১ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম ::
ময়মনসিংহ-১০ আসনে বৈধতা ফিরল স্বতন্ত্র প্রার্থী মুশফিকুর রহমানের মাগুরা থেকেই নির্বাচন করতে চান সাকিব! নাহিদ ইসলামের নির্বাচনী অফিসে গুলি, ভাঙচুর ঋণখেলাপি: হাসনাতের আসনে নির্বাচন করতে পারছেন না বিএনপি প্রার্থী মঞ্জুরুল আহসান মুন্সী গ্রেপ্তারের তিনদিনে বিচার শেষ, আজ হবে সোলতানির মৃত্যুদণ্ড কার্যকর জুলাই সনদ আমরা অক্ষরে অক্ষরে বাস্তবায়ন করব: সালাহউদ্দিন আহমদ ইরানে বিক্ষোভ থেকে গ্রেপ্তারদের দ্রুত বিচারের অঙ্গীকার প্রধান বিচারপতির তুরস্কের সামরিক শক্তি-সৌদির অর্থ-পাকিস্তানের পারমাণবিক মিলিয়ে আসছে ‘ইসলামিক ন্যাটো’ মবোক্রেসি সব জায়গায় চলে না, আমি ঢাকায় ভেসে আসি নাই: মির্জা আব্বাস সাহস থাকলে আইনের মুখোমুখি হক, বিদেশ থেকে হুমকির কোনো ভ্যালু নেই: স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা

ইসলাম ধর্মের শিক্ষকের চেয়ে হিন্দু ধর্ম শিক্ষকের বেতন বেশি!

  • ডেস্ক রিপোর্ট
  • আপডেট সময় ০৯:৫৫:১৬ অপরাহ্ন, সোমবার, ৮ ডিসেম্বর ২০২৫
  • ১৯০ বার পড়া হয়েছে

 

শিক্ষা মন্ত্রণালয় সম্প্রতি এমপিওভুক্ত বেসরকারি বিদ্যালয়ে ‘ধর্ম ও নৈতিক শিক্ষা’ বিষয় নিয়োগ ও বেতন গ্রেড সংক্রান্ত নতুন নীতিমালা প্রকাশ করেছে। নতুন নিয়মে ইসলাম ধর্মের সহকারী শিক্ষকের বেতন গ্রেড ১১তম (১২৫০০-৩০২৩০ টাকা) এবং হিন্দু ধর্মের শিক্ষককে দশম গ্রেড রাখা হয়েছে। এ নিয়ে শিক্ষক সমাজে অসন্তোষ তৈরি হয়েছে।

ইসলাম শিক্ষকের নিয়োগ যোগ্যতা ও বেতন

ইসলাম ধর্মের সহকারী শিক্ষক হওয়ার জন্য প্রার্থীকে অবশ্যই ইসলামের অনুসারী হতে হবে। শিক্ষাগত যোগ্যতা হিসেবে ফাজিল ডিগ্রি বা ন্যূনতম ৩০০ নম্বরের আরবি বা ইসলামি শিক্ষাসহ স্নাতক ডিগ্রি থাকতে হবে। বয়সসীমা ৩৫ বছরের নিচে। এসব যোগ্যতার প্রার্থীকে ১১তম গ্রেডে নিয়োগ দেওয়া হবে।

হিন্দু ধর্ম শিক্ষকের নিয়োগ যোগ্যতা ও বেতন

হিন্দু ধর্মের শিক্ষকের ক্ষেত্রে দুই ধরনের যোগ্যতার প্রার্থী নিয়োগ পেতে পারেন।

  • ক. উপাধি ডিগ্রিসহ স্নাতক ডিগ্রি/সমমান – দশম গ্রেড
  • খ. সংস্কৃত বিষয়সহ স্নাতক ডিগ্রি/সমমান – ১১তম গ্রেড

শিক্ষক নেতাদের প্রতিক্রিয়া

শিক্ষক নেতারা একই পদে ভিন্ন গ্রেডকে বৈষম্য হিসেবে দেখছেন। এমপিওভুক্ত শিক্ষা জাতীয়করণপ্রত্যাশী জোটের সদস্যসচিব অধ্যক্ষ দেলাওয়ার হোসেন আজিজী বলেছেন, “সহকারী শিক্ষক ইসলাম ধর্মের ক্ষেত্রে ১১তম গ্রেড এবং হিন্দু ধর্মের ক্ষেত্রে দশম গ্রেড দেওয়ায় এটি চরম বৈষম্য। বাংলাদেশে মুসলিম অধ্যুষিত রাষ্ট্রে ইসলাম শিক্ষকের প্রতি এ ধরনের অবহেলা কেন?” তিনি দুই ধর্মের শিক্ষকের বেতন গ্রেড সমান করার দাবি জানিয়েছেন।

বাংলাদেশ ইসলামিক স্টাডিজ সোসাইটির আহ্বায়ক মো. রাশেদুল আলমও বলেছেন, “এ নীতিমালা প্রণয়ন সরকারকে বিপদে ফেলতে পারে। অবিলম্বে এই সিদ্ধান্ত প্রত্যাহারের দাবি জানাচ্ছি।”

শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের ব্যাখ্যা

শিক্ষাগত যোগ্যতার ভিন্নতার কারণে দুই রকম গ্রেড রাখা হয়েছে বলে মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন। এক উপসচিব বলেছেন, “উপাধি ডিগ্রিধারী হিন্দু শিক্ষক দশম গ্রেডে থাকবেন, কিন্তু সংস্কৃত বিষয়সহ স্নাতক ডিগ্রিধারী হিন্দু শিক্ষক ১১তম গ্রেড পাবেন। ইসলাম শিক্ষকের ক্ষেত্রে ফাজিল ডিগ্রিধারীরা ১১তম গ্রেডে থাকবেন। এখানে ধর্ম নয়, শিক্ষাগত যোগ্যতার তারতম্য ভিত্তি।”

আগের নীতিমালার তুলনা

২০২১ সালের নীতিমালায় শিক্ষাগত যোগ্যতা ভেদে ১০ম ও ১১তম গ্রেড ছিল। ইসলাম শিক্ষকের ক্ষেত্রে ফাজিল ও বিএড ডিগ্রি থাকলে ১০ম গ্রেড, শুধু ফাজিল ডিগ্রি থাকলে ১১তম গ্রেড। হিন্দু শিক্ষকের ক্ষেত্রে উপাধি ডিগ্রিসহ স্নাতক বা সংস্কৃত বিষয়সহ স্নাতক ডিগ্রি ও বিএড থাকলে ১০ম গ্রেড, শুধু সংস্কৃত বিষয়সহ স্নাতক ডিগ্রি থাকলে ১১তম গ্রেড।

বৌদ্ধ ও খ্রিস্টান শিক্ষকের ক্ষেত্রে একই ধারা অনুসরণ করা হয়।


 

ট্যাগস

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

জনপ্রিয় সংবাদ

ময়মনসিংহ-১০ আসনে বৈধতা ফিরল স্বতন্ত্র প্রার্থী মুশফিকুর রহমানের

ইসলাম ধর্মের শিক্ষকের চেয়ে হিন্দু ধর্ম শিক্ষকের বেতন বেশি!

আপডেট সময় ০৯:৫৫:১৬ অপরাহ্ন, সোমবার, ৮ ডিসেম্বর ২০২৫

 

শিক্ষা মন্ত্রণালয় সম্প্রতি এমপিওভুক্ত বেসরকারি বিদ্যালয়ে ‘ধর্ম ও নৈতিক শিক্ষা’ বিষয় নিয়োগ ও বেতন গ্রেড সংক্রান্ত নতুন নীতিমালা প্রকাশ করেছে। নতুন নিয়মে ইসলাম ধর্মের সহকারী শিক্ষকের বেতন গ্রেড ১১তম (১২৫০০-৩০২৩০ টাকা) এবং হিন্দু ধর্মের শিক্ষককে দশম গ্রেড রাখা হয়েছে। এ নিয়ে শিক্ষক সমাজে অসন্তোষ তৈরি হয়েছে।

ইসলাম শিক্ষকের নিয়োগ যোগ্যতা ও বেতন

ইসলাম ধর্মের সহকারী শিক্ষক হওয়ার জন্য প্রার্থীকে অবশ্যই ইসলামের অনুসারী হতে হবে। শিক্ষাগত যোগ্যতা হিসেবে ফাজিল ডিগ্রি বা ন্যূনতম ৩০০ নম্বরের আরবি বা ইসলামি শিক্ষাসহ স্নাতক ডিগ্রি থাকতে হবে। বয়সসীমা ৩৫ বছরের নিচে। এসব যোগ্যতার প্রার্থীকে ১১তম গ্রেডে নিয়োগ দেওয়া হবে।

হিন্দু ধর্ম শিক্ষকের নিয়োগ যোগ্যতা ও বেতন

হিন্দু ধর্মের শিক্ষকের ক্ষেত্রে দুই ধরনের যোগ্যতার প্রার্থী নিয়োগ পেতে পারেন।

  • ক. উপাধি ডিগ্রিসহ স্নাতক ডিগ্রি/সমমান – দশম গ্রেড
  • খ. সংস্কৃত বিষয়সহ স্নাতক ডিগ্রি/সমমান – ১১তম গ্রেড

শিক্ষক নেতাদের প্রতিক্রিয়া

শিক্ষক নেতারা একই পদে ভিন্ন গ্রেডকে বৈষম্য হিসেবে দেখছেন। এমপিওভুক্ত শিক্ষা জাতীয়করণপ্রত্যাশী জোটের সদস্যসচিব অধ্যক্ষ দেলাওয়ার হোসেন আজিজী বলেছেন, “সহকারী শিক্ষক ইসলাম ধর্মের ক্ষেত্রে ১১তম গ্রেড এবং হিন্দু ধর্মের ক্ষেত্রে দশম গ্রেড দেওয়ায় এটি চরম বৈষম্য। বাংলাদেশে মুসলিম অধ্যুষিত রাষ্ট্রে ইসলাম শিক্ষকের প্রতি এ ধরনের অবহেলা কেন?” তিনি দুই ধর্মের শিক্ষকের বেতন গ্রেড সমান করার দাবি জানিয়েছেন।

বাংলাদেশ ইসলামিক স্টাডিজ সোসাইটির আহ্বায়ক মো. রাশেদুল আলমও বলেছেন, “এ নীতিমালা প্রণয়ন সরকারকে বিপদে ফেলতে পারে। অবিলম্বে এই সিদ্ধান্ত প্রত্যাহারের দাবি জানাচ্ছি।”

শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের ব্যাখ্যা

শিক্ষাগত যোগ্যতার ভিন্নতার কারণে দুই রকম গ্রেড রাখা হয়েছে বলে মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন। এক উপসচিব বলেছেন, “উপাধি ডিগ্রিধারী হিন্দু শিক্ষক দশম গ্রেডে থাকবেন, কিন্তু সংস্কৃত বিষয়সহ স্নাতক ডিগ্রিধারী হিন্দু শিক্ষক ১১তম গ্রেড পাবেন। ইসলাম শিক্ষকের ক্ষেত্রে ফাজিল ডিগ্রিধারীরা ১১তম গ্রেডে থাকবেন। এখানে ধর্ম নয়, শিক্ষাগত যোগ্যতার তারতম্য ভিত্তি।”

আগের নীতিমালার তুলনা

২০২১ সালের নীতিমালায় শিক্ষাগত যোগ্যতা ভেদে ১০ম ও ১১তম গ্রেড ছিল। ইসলাম শিক্ষকের ক্ষেত্রে ফাজিল ও বিএড ডিগ্রি থাকলে ১০ম গ্রেড, শুধু ফাজিল ডিগ্রি থাকলে ১১তম গ্রেড। হিন্দু শিক্ষকের ক্ষেত্রে উপাধি ডিগ্রিসহ স্নাতক বা সংস্কৃত বিষয়সহ স্নাতক ডিগ্রি ও বিএড থাকলে ১০ম গ্রেড, শুধু সংস্কৃত বিষয়সহ স্নাতক ডিগ্রি থাকলে ১১তম গ্রেড।

বৌদ্ধ ও খ্রিস্টান শিক্ষকের ক্ষেত্রে একই ধারা অনুসরণ করা হয়।