কাঁথা গায়ে দিয়ে ঘুমাচ্ছিলো তিন বোন, জানতো না বাবার হাতেই অপেক্ষা করছে মৃত্যু!
ঘরের মেঝেতে রক্তে ভেসে আছে ৩ বোনের নিথর দেহ। খাটের উপরে মামার ক্ষতবিক্ষত মরদেহ। আর ঘরের জানালার গ্রীলে গৃহবধুর মূখ ও হাত বাঁধা লাশ। প্রতিবেশীদের ফোনের বার্তায় এমন নৃশংস হত্যার খবর জানলো পুলিশ। ততক্ষণে এলাকায় ছড়িয়ে পড়েছে চাঞ্চল্য, বিরাজ করছে আতঙ্ক।
শুক্রবার দিবাগত রাতে গাজীপুরের কাপাসিয়া উপজেলার রাউতকোনা এলাকায় প্রবাসী মনিরের বাড়িতে ঘটেছে নৃশংস এ ঘটনা। নিহতরা হলেন, গোপালগঞ্জ জেলার ফোরকান সরকারের স্ত্রী শারমিন আক্তার, তিন মেয়ে মিম, মারিয়া ও ফারিয়া এবং ফোরকানের শ্যালক রসুল হোসেন। ১ বছর আগে গোপালগঞ্জ থেকে এসে ওই বাসায় ভাড়ায় ছিলেন ফোরকান ও পরিবারের সদস্যরা। সংবাদ বিশ্লেষণ সেবা
নিহতের স্বজনরা জানান, শনিবার সকাল সাড়ে ৬টার দিকে ফোরকান তার ছোট ভাইয়ের স্ত্রী রাশিদাকে ফোন করে জানান, তিনি পাঁচজনকে হত্যা করে পালিয়ে যাচ্ছেন। এর আগে শুক্রবার বিকালের শ্যালক রসূলকে ফোন দিয়ে ফোরকান জানায় তার জন্য একটি চাকরি ব্যবস্থা করা হয়েছে। এই কথা শুনে সন্ধ্যায় তার বাসায় আসে রসূল। ফোরকান বিভিন্ন সময়ে নেশা করতো। সরকারী সংবাদ
এলাকাবাসী জানায়, ফোরকান স্থানীয় একটি ব্যাটারি কারখানার গাড়ি চালক। এক বছর ধরে এই এলাকায় বসবাস করছে। এই মর্মান্তি ঘটনায় এলাকায় শোকের আবহ বিরাজ করছে।
গাজীপুরের সহকারী পুলিশ সুপার (কালিগঞ্জ সার্কেল) মো. আসাদুজ্জামান জানান, ঘটনাস্থলে পুলিশের একাধিকটিম রয়েছে। মরদেহ উদ্ধারের পাশাপাশি ঘটনার মূল রহস্য উদঘাটনের চেষ্টা চলমান রয়েছে।
এই নির্মম ঘটনাটি কে ঘটিয়েছে তদন্ত চালাচ্ছে জেলা প্রশাসন। গাজীপুরে অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট সালমা খাতুন বলছেন ঘটনাস্থলে মাদকের আলামত পাওয়া গেছে। একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে।
সপরিবারে হত্যাযজ্ঞের ঘটনায় স্তব্ধ এলাকাবাসী। নৃশংসতম এই হত্যাযজ্ঞের সুষ্ঠু তদন্ত ও বিচার হোক এটাই স্থানীয়দের প্রত্যাশা।

ডেস্ক রিপোর্ট 



















