ঢাকা , বৃহস্পতিবার, ০৯ জুলাই ২০২৬, ২৫ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

৩৯ বছর পর আসছে ২০০ কিমি গতির শক্তিশালী টাইফুন

  • ডেস্ক রিপোর্ট
  • আপডেট সময় ০৫:২৮:০৫ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৯ জুলাই ২০২৬
  • ১৫ বার পড়া হয়েছে

প্রায় ৩৯ বছর পর সবচেয়ে বড় আকারের টাইফুনবাভিচীন ও তাইওয়ানের দিকে ধেয়ে আসছে। ঘণ্টায় প্রায় ২০০ কিলোমিটার বেগে এগিয়ে আসা শক্তিশালী এই ঘূর্ণিঝড়কে ১৯৮৭ সালের পর অঞ্চলটিতে আঘাত হানতে যাওয়া সবচেয়ে বড় টাইফুন হিসেবে উল্লেখ করেছেন আবহাওয়াবিদরা। তাইওয়ানের কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, রাজধানী তাইপের আশপাশের উত্তরাঞ্চলীয় পার্বত্য এলাকায় সর্বোচ্চ এক মিটার পর্যন্ত বৃষ্টিপাত হতে পারে। সম্ভাব্য দুর্যোগ মোকাবিলায় দেশটির প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় প্রায় ২৯ হাজার সেনাকে প্রস্তুত রেখেছে। উপকূলীয় এলাকাগুলোতে জারি করা হয়েছে সর্বোচ্চ সতর্কতা।

বার্তা সংস্থা রয়টার্সের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪ সালের টাইফুনকংরের পর এটিই তাইওয়ানে আঘাত হানতে যাওয়া সবচেয়ে শক্তিশালী ঝড় হতে পারে। এর আগে কংরে টাইফুনে তিনজন নিহত হয়েছিলেন। চীনের জাতীয় আবহাওয়া কেন্দ্র জানিয়েছে, প্রায় এক হাজার কিলোমিটার প্রশস্ত টাইফুনবাভিউত্তর তাইওয়ানের পাশ দিয়ে অতিক্রম করে শনিবার সন্ধ্যায় পূর্বাঞ্চলীয় ফুজিয়ান প্রদেশে আঘাত হানতে পারে। তাইওয়ানের কেন্দ্রীয় আবহাওয়া প্রশাসনের পূর্বাভাসকারী জেসন চ্যাং বলেন, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে এত বড় আকারের টাইফুন খুবই বিরল। তার মতে, ১৯৮৭ সালের পর বাভিই হতে পারে দ্বীপটিতে আঘাত হানতে যাওয়া সবচেয়ে বড় টাইফুন।

এদিকে কয়েকদিন আগেই টাইফুনমায়সাকএর আঘাতে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির মুখে পড়ে চীন। স্থানীয় কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, গুয়াংজি অঞ্চলে ওই ঝড়ে অন্তত ৩৯ জন নিহত হয়েছেন এবং এখনো অন্তত ৯ জন নিখোঁজ রয়েছেন। উদ্ধার অভিযানও অব্যাহত রয়েছে। আবহাওয়াবিদদের মতে, জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে চীন, তাইওয়ান ও জাপানে শক্তিশালী ঘূর্ণিঝড়ের সংখ্যা ও তীব্রতা বাড়ছে। চলতি বছরে সম্ভাব্য এল নিনোর প্রভাব পরিস্থিতিকে আরও উদ্বেগজনক করে তুলতে পারে। বাণিজ্যিক আবহাওয়া পূর্বাভাস প্রতিষ্ঠান অ্যাকুওয়েদারের বিশেষজ্ঞ জেসন নিকোলস বলেন, বৃহস্পতিবার(৯ জুলাই) থেকে ঝড়ের বাতাস কিছুটা দুর্বল হওয়ার সম্ভাবনা থাকলেও শুক্রবার থেকে সোমবার পর্যন্ত তাইওয়ান ও পূর্ব চীনে আঘাত হানার সময় এটি অত্যন্ত বিপজ্জনক অবস্থায় থাকবে।

অন্যদিকে, জাপানের ওকিনাওয়া প্রিফেকচারে প্রবল বাতাস, ভারী বৃষ্টি, ভূমিধস, বন্যা ও জলোচ্ছ্বাসের আশঙ্কায় সর্বোচ্চ সতর্কতা জারি করেছে দেশটির আবহাওয়া সংস্থা। টাইফুনের প্রভাবে জাপান এয়ারলাইন্স ৫০টি এবং অল নিপ্পন এয়ারওয়েজ ৬৭টি অভ্যন্তরীণ ফ্লাইট বাতিল করেছে। এতে প্রায় ১৫ হাজারের বেশি যাত্রী ভোগান্তিতে পড়বেন। ইম্পেরিয়াল কলেজ লন্ডনের ক্রান্তীয় ঘূর্ণিঝড় গবেষক শিয়াংবো ফেং বলেন, দীর্ঘ সময় উষ্ণ প্রশান্ত মহাসাগরের ওপর দিয়ে অতিক্রম করায় টাইফুনবাভিবিপুল শক্তি ও আর্দ্রতা সঞ্চয় করেছে। ফলে এটি স্থলভাগে আঘাত হানলে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির আশঙ্কা রয়েছে। তিনি সতর্ক করে বলেন, ঝড়ের গতিপথে সামান্য পরিবর্তনও বড় ধরনের প্রভাব ফেলতে পারে।

ট্যাগস

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

জনপ্রিয় সংবাদ

৩৯ বছর পর আসছে ২০০ কিমি গতির শক্তিশালী টাইফুন

আপডেট সময় ০৫:২৮:০৫ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৯ জুলাই ২০২৬

প্রায় ৩৯ বছর পর সবচেয়ে বড় আকারের টাইফুনবাভিচীন ও তাইওয়ানের দিকে ধেয়ে আসছে। ঘণ্টায় প্রায় ২০০ কিলোমিটার বেগে এগিয়ে আসা শক্তিশালী এই ঘূর্ণিঝড়কে ১৯৮৭ সালের পর অঞ্চলটিতে আঘাত হানতে যাওয়া সবচেয়ে বড় টাইফুন হিসেবে উল্লেখ করেছেন আবহাওয়াবিদরা। তাইওয়ানের কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, রাজধানী তাইপের আশপাশের উত্তরাঞ্চলীয় পার্বত্য এলাকায় সর্বোচ্চ এক মিটার পর্যন্ত বৃষ্টিপাত হতে পারে। সম্ভাব্য দুর্যোগ মোকাবিলায় দেশটির প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় প্রায় ২৯ হাজার সেনাকে প্রস্তুত রেখেছে। উপকূলীয় এলাকাগুলোতে জারি করা হয়েছে সর্বোচ্চ সতর্কতা।

বার্তা সংস্থা রয়টার্সের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪ সালের টাইফুনকংরের পর এটিই তাইওয়ানে আঘাত হানতে যাওয়া সবচেয়ে শক্তিশালী ঝড় হতে পারে। এর আগে কংরে টাইফুনে তিনজন নিহত হয়েছিলেন। চীনের জাতীয় আবহাওয়া কেন্দ্র জানিয়েছে, প্রায় এক হাজার কিলোমিটার প্রশস্ত টাইফুনবাভিউত্তর তাইওয়ানের পাশ দিয়ে অতিক্রম করে শনিবার সন্ধ্যায় পূর্বাঞ্চলীয় ফুজিয়ান প্রদেশে আঘাত হানতে পারে। তাইওয়ানের কেন্দ্রীয় আবহাওয়া প্রশাসনের পূর্বাভাসকারী জেসন চ্যাং বলেন, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে এত বড় আকারের টাইফুন খুবই বিরল। তার মতে, ১৯৮৭ সালের পর বাভিই হতে পারে দ্বীপটিতে আঘাত হানতে যাওয়া সবচেয়ে বড় টাইফুন।

এদিকে কয়েকদিন আগেই টাইফুনমায়সাকএর আঘাতে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির মুখে পড়ে চীন। স্থানীয় কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, গুয়াংজি অঞ্চলে ওই ঝড়ে অন্তত ৩৯ জন নিহত হয়েছেন এবং এখনো অন্তত ৯ জন নিখোঁজ রয়েছেন। উদ্ধার অভিযানও অব্যাহত রয়েছে। আবহাওয়াবিদদের মতে, জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে চীন, তাইওয়ান ও জাপানে শক্তিশালী ঘূর্ণিঝড়ের সংখ্যা ও তীব্রতা বাড়ছে। চলতি বছরে সম্ভাব্য এল নিনোর প্রভাব পরিস্থিতিকে আরও উদ্বেগজনক করে তুলতে পারে। বাণিজ্যিক আবহাওয়া পূর্বাভাস প্রতিষ্ঠান অ্যাকুওয়েদারের বিশেষজ্ঞ জেসন নিকোলস বলেন, বৃহস্পতিবার(৯ জুলাই) থেকে ঝড়ের বাতাস কিছুটা দুর্বল হওয়ার সম্ভাবনা থাকলেও শুক্রবার থেকে সোমবার পর্যন্ত তাইওয়ান ও পূর্ব চীনে আঘাত হানার সময় এটি অত্যন্ত বিপজ্জনক অবস্থায় থাকবে।

অন্যদিকে, জাপানের ওকিনাওয়া প্রিফেকচারে প্রবল বাতাস, ভারী বৃষ্টি, ভূমিধস, বন্যা ও জলোচ্ছ্বাসের আশঙ্কায় সর্বোচ্চ সতর্কতা জারি করেছে দেশটির আবহাওয়া সংস্থা। টাইফুনের প্রভাবে জাপান এয়ারলাইন্স ৫০টি এবং অল নিপ্পন এয়ারওয়েজ ৬৭টি অভ্যন্তরীণ ফ্লাইট বাতিল করেছে। এতে প্রায় ১৫ হাজারের বেশি যাত্রী ভোগান্তিতে পড়বেন। ইম্পেরিয়াল কলেজ লন্ডনের ক্রান্তীয় ঘূর্ণিঝড় গবেষক শিয়াংবো ফেং বলেন, দীর্ঘ সময় উষ্ণ প্রশান্ত মহাসাগরের ওপর দিয়ে অতিক্রম করায় টাইফুনবাভিবিপুল শক্তি ও আর্দ্রতা সঞ্চয় করেছে। ফলে এটি স্থলভাগে আঘাত হানলে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির আশঙ্কা রয়েছে। তিনি সতর্ক করে বলেন, ঝড়ের গতিপথে সামান্য পরিবর্তনও বড় ধরনের প্রভাব ফেলতে পারে।