ঢাকা , সোমবার, ১৬ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ৩ ফাল্গুন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম ::
জাতীয় দলে ফিরছেন সাকিব, খেলবেন ২০২৭ বিশ্বকাপেও! মন্ত্রিসভার শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠানে মোদিকে দাওয়াত দেওয়া হয়নি: উপদেষ্টা রিজওয়ানা হাসান পুরো রমজান মাস মাধ্যমিক ও নিম্নমাধ্যমিক স্কুল বন্ধ রাখতে হাইকোর্টের নির্দেশ আদালতের নির্দেশ পেলে ভোট পুনর্গণনার সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে: ইসি আনোয়ারুল জাতিকে বিভ্রান্ত করলে ছাড় নয়: ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক তারেক রহমানের সঙ্গে বসতে চান জয়: ব্রিটিশ গণমাধ্যমে সাক্ষাৎকার একইসাথে সংসদ ও রাজপথে থাকবে ১১ দলীয় জোট: হামিদুর রহমান আযাদ সেই রিকশাচালকের কবর জিয়ারত করলেন জামায়াত আমির, নিলেন পরিবারের দায়িত্ব পবিত্র রমজান উপলক্ষে শুভেচ্ছা জানালেন প্রধান উপদেষ্টা চাঁদাবাজির অভিযোগে বিএনপির ২৬ নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে মামলা করলেন নবনির্বাচিত এমপি

ছাত্রদলের তদন্ত কমিটিতেও ‘ছাত্রলীগের সাবেক নেতা’

  • ডেস্ক রিপোর্ট
  • আপডেট সময় ১১:২৩:৩৬ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ৯ অগাস্ট ২০২৫
  • ২৫৩ বার পড়া হয়েছে

এবার বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে (ঢাবি) বিভিন্ন হলে নবগঠিত আহ্বায়ক কমিটি নিয়ে সংগঠনের মধ্যে তীব্র অসন্তোষ ও বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে। শুক্রবার বিশ্ববিদ্যালয়ের ১৮টি হল শাখায় এক বছর মেয়াদি এই কমিটির অনুমোদন দেন বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের সভাপতি গণেশ চন্দ্র রায় সাহস ও সাধারণ সম্পাদক নাহিদুজ্জামান শিপন।

মোট ৫৯৩ জন শিক্ষার্থী এ তালিকায় স্থান পেয়েছে। এদের মধ্যে এখন পর্যন্ত অন্তত ৫০ জনের বিরুদ্ধে নিষিদ্ধ সংগঠন ছাত্রলীগের কমিটিতে থাকার প্রমাণ মিলেছে। তবে এই সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে অভিযোগ পদবঞ্চিতদের। এ ঘটনায় তদন্ত কমিটি করা হয়েছে। তবে খোদ তদন্ত কমিটির নেতার বিরুদ্ধেও ছাত্রলীগের সঙ্গে সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ তুলেছেন বঞ্চিতরা।

এদিকে কমিটি ঘোষণার পরপরই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পদবঞ্চিত ও ত্যাগী নেতা-কর্মীরা ক্ষোভ প্রকাশ করেন। তারা সংগঠনের নেতাদের বিরুদ্ধে স্বজনপ্রীতি, কমিটি বাণিজ্য ও রাজনৈতিক অনুপ্রবেশ ঘটানোর অভিযোগ তোলেন। অনেকের ছবি ও তথ্য দিয়ে অভিযোগ প্রমাণের চেষ্টা করেন। কমিটির বিষয়ে জিয়াউর রহমান হল শাখা ছাত্রদল একজন কর্মী বলেন, ‘রাজপথের কর্মীদের চেয়ে নেতাদের ব্যক্তিগত পছন্দের লোকই বেশি এসেছে।’

সংগঠনটির অসংখ্য নেতা-কর্মীর অভিযোগ, বছরের পর বছর ঝুঁকি নিয়ে আন্দোলন করেও তারা পদ পাননি। শেখ মুজিব হলের সাবেক কর্মী আবু তালিব বলেন, ‘‘ছাত্রলীগের হাতে নির্যাতিত হয়ে হল ছাড়তে হয়েছে, তবুও পদ পাননি। অথচ ‘জুনিয়ররা’ কমিটিতে এসেছে।’’ রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থী মোহাম্মদ শামীম মিয়া বলেন, ‘আমরা যাদের বিরুদ্ধে আন্দোলন করেছি, তাদের অনেকের নামও এই কমিটিতে এসেছে। যারা ‘জয় বাংলা’ স্লোগান দিয়েছে, তারাও কমিটিতে স্থান পেয়েছে।’

এদিকে অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদল যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক নাছির উদ্দিন শাওন ও সাংগঠনিক সম্পাদক নূর আলম ভূঁইয়া ইমনকে নিয়ে দুই সদস্য বিশিষ্ট একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়। এ-সংক্রান্ত বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, নবগঠিত কমিটিতে দায়িত্বপ্রাপ্ত কারও বিষয়ে তথ্য গোপন রাখা বা সাংগঠনিক শৃঙ্খলাভঙ্গের অভিযোগ যাচাই করে তিন কার্যদিবসের মধ্যে প্রতিবেদন দিতে হবে। তবে খোদ তদন্ত কমিটিতে থাকা নাছির উদ্দিন শাওনের বিরুদ্ধে অতীতে ছাত্রলীগ সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ উঠেছে। ছাত্রলীগের বিভিন্ন প্রোগ্রামে তোলা শাওনের ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পোস্ট করে তার বিরুদ্ধে শিক্ষার্থীরা অভিযোগ তোলেন।

ট্যাগস

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

জনপ্রিয় সংবাদ

জাতীয় দলে ফিরছেন সাকিব, খেলবেন ২০২৭ বিশ্বকাপেও!

ছাত্রদলের তদন্ত কমিটিতেও ‘ছাত্রলীগের সাবেক নেতা’

আপডেট সময় ১১:২৩:৩৬ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ৯ অগাস্ট ২০২৫

এবার বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে (ঢাবি) বিভিন্ন হলে নবগঠিত আহ্বায়ক কমিটি নিয়ে সংগঠনের মধ্যে তীব্র অসন্তোষ ও বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে। শুক্রবার বিশ্ববিদ্যালয়ের ১৮টি হল শাখায় এক বছর মেয়াদি এই কমিটির অনুমোদন দেন বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের সভাপতি গণেশ চন্দ্র রায় সাহস ও সাধারণ সম্পাদক নাহিদুজ্জামান শিপন।

মোট ৫৯৩ জন শিক্ষার্থী এ তালিকায় স্থান পেয়েছে। এদের মধ্যে এখন পর্যন্ত অন্তত ৫০ জনের বিরুদ্ধে নিষিদ্ধ সংগঠন ছাত্রলীগের কমিটিতে থাকার প্রমাণ মিলেছে। তবে এই সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে অভিযোগ পদবঞ্চিতদের। এ ঘটনায় তদন্ত কমিটি করা হয়েছে। তবে খোদ তদন্ত কমিটির নেতার বিরুদ্ধেও ছাত্রলীগের সঙ্গে সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ তুলেছেন বঞ্চিতরা।

এদিকে কমিটি ঘোষণার পরপরই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পদবঞ্চিত ও ত্যাগী নেতা-কর্মীরা ক্ষোভ প্রকাশ করেন। তারা সংগঠনের নেতাদের বিরুদ্ধে স্বজনপ্রীতি, কমিটি বাণিজ্য ও রাজনৈতিক অনুপ্রবেশ ঘটানোর অভিযোগ তোলেন। অনেকের ছবি ও তথ্য দিয়ে অভিযোগ প্রমাণের চেষ্টা করেন। কমিটির বিষয়ে জিয়াউর রহমান হল শাখা ছাত্রদল একজন কর্মী বলেন, ‘রাজপথের কর্মীদের চেয়ে নেতাদের ব্যক্তিগত পছন্দের লোকই বেশি এসেছে।’

সংগঠনটির অসংখ্য নেতা-কর্মীর অভিযোগ, বছরের পর বছর ঝুঁকি নিয়ে আন্দোলন করেও তারা পদ পাননি। শেখ মুজিব হলের সাবেক কর্মী আবু তালিব বলেন, ‘‘ছাত্রলীগের হাতে নির্যাতিত হয়ে হল ছাড়তে হয়েছে, তবুও পদ পাননি। অথচ ‘জুনিয়ররা’ কমিটিতে এসেছে।’’ রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থী মোহাম্মদ শামীম মিয়া বলেন, ‘আমরা যাদের বিরুদ্ধে আন্দোলন করেছি, তাদের অনেকের নামও এই কমিটিতে এসেছে। যারা ‘জয় বাংলা’ স্লোগান দিয়েছে, তারাও কমিটিতে স্থান পেয়েছে।’

এদিকে অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদল যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক নাছির উদ্দিন শাওন ও সাংগঠনিক সম্পাদক নূর আলম ভূঁইয়া ইমনকে নিয়ে দুই সদস্য বিশিষ্ট একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়। এ-সংক্রান্ত বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, নবগঠিত কমিটিতে দায়িত্বপ্রাপ্ত কারও বিষয়ে তথ্য গোপন রাখা বা সাংগঠনিক শৃঙ্খলাভঙ্গের অভিযোগ যাচাই করে তিন কার্যদিবসের মধ্যে প্রতিবেদন দিতে হবে। তবে খোদ তদন্ত কমিটিতে থাকা নাছির উদ্দিন শাওনের বিরুদ্ধে অতীতে ছাত্রলীগ সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ উঠেছে। ছাত্রলীগের বিভিন্ন প্রোগ্রামে তোলা শাওনের ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পোস্ট করে তার বিরুদ্ধে শিক্ষার্থীরা অভিযোগ তোলেন।