ঢাকা , শুক্রবার, ১৬ জানুয়ারী ২০২৬, ৩ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম ::
বাউফলে নির্বাচন ঘিরে একাধিক সহিংসতা; পাল্টাপাল্টি অভিযোগ বিএনপি—জামায়াতের ১১ দলীয় জোটের চূড়ান্ত আসন ঘোষণা ১১ দলীয় জোটে আসন সমঝোতা চূড়ান্ত, সর্বোচ্চ ১৯০ আসন জামায়াতে ইসলামী ভোলায় বালিশ চাপায় স্ত্রীকে হত্যা, পাষণ্ড স্বামী আটক ফ্যামিলি ও কৃষি কার্ড বিতরণ বন্ধের দাবি জামায়াতের, সিইসির সঙ্গে বৈঠকে প্রটোকল সমতার আহ্বান জাতীয় পরিচয়পত্র জালিয়াতি ও তথ্য বিক্রি করে মাসে কোটি টাকার বেশি আয়; নির্বাচন কমিশনের দুই কর্মচারী গ্রেফতার বাউফলে ইউনিয়ন বিএনপির কার্যালয়ে পেট্রোল ঢেলে অগ্নিসংযোগের অভিযোগ বাউফলে জামায়াতের নেতা–কর্মীদের ওপর হামলার প্রতিবাদে সংবাদ সম্মেলন শেষ মুহূর্তে নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়ালেন রাশেদ প্রধান ‘১১ দলীয় নির্বাচনী ঐক্য’ নামে নির্বাচনে অংশ নেবে ১১ দল

এবার ‘ক্রিকেট হাইজ্যাক’ এর অভিযোগ আইসিসি চেয়ারম্যান জয় শাহ’র বিরুদ্ধে!

  • ডেস্ক রিপোর্ট
  • আপডেট সময় ০১:৩৯:০১ অপরাহ্ন, শনিবার, ১০ জানুয়ারী ২০২৬
  • ৯১৪ বার পড়া হয়েছে

এবার ভারত-পাকিস্তানের বৈরীতা থেকে শুরু এশিয়ার ক্রিকেটের উত্তাপ। সেই উত্তাপের আঁচ লেগেছে বাংলাদেশেও। এবারো সূত্রপাত ঘটিয়েছে সেই ভারত। বাংলাদেশি পেসার মুস্তাফিজুর রহমানকে ঘিরে চলমান ইস্যুর মধ্যে এবার আইসিসির চেয়ারম্যান ও ভারতের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর ছেলে জয় শাহের বিরুদ্ধে ক্রিকেট হাইজ্যাকের অভিযোগ উঠেছে। সম্প্রতি আইপিএল থেকে মুস্তাফিজকে বাদ দেওয়ার পর, নিরাপত্তা শঙ্কার কথা উল্লেখ করে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি) সিদ্ধান্ত নিয়েছে যে তারা আসন্ন আইসিসি টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ ২০২৬ উপলক্ষে ভারতে সফর করবে না।

এবার এই ইস্যুতে এশিয়ার ক্রিকেট প্রশাসনের বিরুদ্ধে সরব হয়েছেন বিসিবির সাবেক সচিব সৈয়দ আশরাফুল হক। বিশেষ করে তিনি সরাসরি আক্রমণ করেছেন আইসিসি চেয়ারম্যান জয় শাহকে। সৈয়দ আশরাফুল হকের দাবি, এশিয়ার ক্রিকেট ব্যবস্থাকে কার্যত ‘হাইজ্যাক’ করে নিয়েছে রাজনীতি। তার মতে, জগমোহন ডালমিয়া, আইএস বিন্দ্রা, মাধবরাও সিন্ধিয়া, এন কে পি সালভে বা এমনকি এন শ্রীনিবাসনের সময়ে থাকলে মুস্তাফিজুরকে ঘিরে এমন ঘটনা কখনোই ঘটত না।

টাইমস অব ইন্ডিয়াকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, ‘ভারত, বাংলাদেশ, পাকিস্তান—সব জায়গাতেই ক্রিকেট ব্যবস্থা রাজনীতিবিদদের হাতে জিম্মি হয়ে গেছে। ভাবুন তো, জগমোহন ডালমিয়া, আইএস বিন্দ্রা, মাধবরাও সিন্ধিয়া, এনকেপি সালভে কিংবা এমনকি এন শ্রীনিবাসনের সময়ে কি এমন কিছু হতো? কখনোই না। কারণ তারা পরিণত মানুষ ছিলেন, ক্রিকেট বুঝতেন এবং একজন খেলোয়াড়ের ওপর এর প্রভাব কী হতে পারে, সেটাও জানতেন।’

সাবেক এই বিসিবি সচিব বাংলাদেশের বিশ্বকাপে ভারতে না যাওয়ার সিদ্ধান্তকেও কঠোর ভাষায় সমালোচনা করেছেন। তার মতে, বিশ্বকাপের মতো টুর্নামেন্ট বর্জন কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। তিনি বলেন, ‘এখন সবকিছু পুরোপুরি হাইজ্যাক হয়ে গেছে। যাদের হাতে ক্রিকেট, তারা কেউই কখনো ব্যাট ধরেননি। জয় শাহ কখনো প্রতিযোগিতামূলক ক্রিকেট খেলেননি। অথচ আমাদের ক্রীড়া উপদেষ্টা বলছেন, বাংলাদেশ ভারতে যাবে না। এটা কি আইপিএল? না, এটা বিশ্বকাপ, একটি আন্তর্জাতিক ইভেন্ট। এমন বিষয়ে হঠকারী বক্তব্য দেওয়া যায় না।’

সৈয়দ আশরাফুল হকের অভিযোগ, বিসিসিআইয়ের এই সিদ্ধান্ত রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। তার মতে, মুস্তাফিজুর রহমানের বদলে যদি লিটন দাস বা সৌম্য সরকার হতেন, তাহলে এমন সিদ্ধান্ত নেওয়া হতো না। তিনি আরো বলেন, ‘এটা সস্তা ধর্মীয় আবেগকে কাজে লাগানোর চেষ্টা। অপরিণত রাজনীতিবিদরা যখন ক্রিকেট চালায়, তখনই এমন হয়। পশ্চিমবঙ্গ ও আসামে নির্বাচন সামনে রেখে ভোটের রাজনীতি করা হচ্ছে। আর তার খেসারত দিতে হচ্ছে বিশ্বকাপের মতো আন্তর্জাতিক টুর্নামেন্টকে।’

আগামী ৭ ফেব্রুয়ারি থেকে শুরু হওয়ার কথা টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ। মূল সূচি অনুযায়ী বাংলাদেশ চারটি ম্যাচ খেলবে—তিনটি কলকাতাতে এবং একটি মুম্বাইতে। এখন পর্যন্ত আইসিসি বিসিবির আবেদনের বিষয়ে কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত জানায়নি। বাংলাদেশের ম্যাচগুলো ভারত থেকে শ্রীলঙ্কাতে সরানো হবে কি না, সে বিষয়েও এখনো কোনো নিশ্চিত তথ্য নেই।

ট্যাগস

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

জনপ্রিয় সংবাদ

বাউফলে নির্বাচন ঘিরে একাধিক সহিংসতা; পাল্টাপাল্টি অভিযোগ বিএনপি—জামায়াতের

এবার ‘ক্রিকেট হাইজ্যাক’ এর অভিযোগ আইসিসি চেয়ারম্যান জয় শাহ’র বিরুদ্ধে!

আপডেট সময় ০১:৩৯:০১ অপরাহ্ন, শনিবার, ১০ জানুয়ারী ২০২৬

এবার ভারত-পাকিস্তানের বৈরীতা থেকে শুরু এশিয়ার ক্রিকেটের উত্তাপ। সেই উত্তাপের আঁচ লেগেছে বাংলাদেশেও। এবারো সূত্রপাত ঘটিয়েছে সেই ভারত। বাংলাদেশি পেসার মুস্তাফিজুর রহমানকে ঘিরে চলমান ইস্যুর মধ্যে এবার আইসিসির চেয়ারম্যান ও ভারতের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর ছেলে জয় শাহের বিরুদ্ধে ক্রিকেট হাইজ্যাকের অভিযোগ উঠেছে। সম্প্রতি আইপিএল থেকে মুস্তাফিজকে বাদ দেওয়ার পর, নিরাপত্তা শঙ্কার কথা উল্লেখ করে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি) সিদ্ধান্ত নিয়েছে যে তারা আসন্ন আইসিসি টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ ২০২৬ উপলক্ষে ভারতে সফর করবে না।

এবার এই ইস্যুতে এশিয়ার ক্রিকেট প্রশাসনের বিরুদ্ধে সরব হয়েছেন বিসিবির সাবেক সচিব সৈয়দ আশরাফুল হক। বিশেষ করে তিনি সরাসরি আক্রমণ করেছেন আইসিসি চেয়ারম্যান জয় শাহকে। সৈয়দ আশরাফুল হকের দাবি, এশিয়ার ক্রিকেট ব্যবস্থাকে কার্যত ‘হাইজ্যাক’ করে নিয়েছে রাজনীতি। তার মতে, জগমোহন ডালমিয়া, আইএস বিন্দ্রা, মাধবরাও সিন্ধিয়া, এন কে পি সালভে বা এমনকি এন শ্রীনিবাসনের সময়ে থাকলে মুস্তাফিজুরকে ঘিরে এমন ঘটনা কখনোই ঘটত না।

টাইমস অব ইন্ডিয়াকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, ‘ভারত, বাংলাদেশ, পাকিস্তান—সব জায়গাতেই ক্রিকেট ব্যবস্থা রাজনীতিবিদদের হাতে জিম্মি হয়ে গেছে। ভাবুন তো, জগমোহন ডালমিয়া, আইএস বিন্দ্রা, মাধবরাও সিন্ধিয়া, এনকেপি সালভে কিংবা এমনকি এন শ্রীনিবাসনের সময়ে কি এমন কিছু হতো? কখনোই না। কারণ তারা পরিণত মানুষ ছিলেন, ক্রিকেট বুঝতেন এবং একজন খেলোয়াড়ের ওপর এর প্রভাব কী হতে পারে, সেটাও জানতেন।’

সাবেক এই বিসিবি সচিব বাংলাদেশের বিশ্বকাপে ভারতে না যাওয়ার সিদ্ধান্তকেও কঠোর ভাষায় সমালোচনা করেছেন। তার মতে, বিশ্বকাপের মতো টুর্নামেন্ট বর্জন কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। তিনি বলেন, ‘এখন সবকিছু পুরোপুরি হাইজ্যাক হয়ে গেছে। যাদের হাতে ক্রিকেট, তারা কেউই কখনো ব্যাট ধরেননি। জয় শাহ কখনো প্রতিযোগিতামূলক ক্রিকেট খেলেননি। অথচ আমাদের ক্রীড়া উপদেষ্টা বলছেন, বাংলাদেশ ভারতে যাবে না। এটা কি আইপিএল? না, এটা বিশ্বকাপ, একটি আন্তর্জাতিক ইভেন্ট। এমন বিষয়ে হঠকারী বক্তব্য দেওয়া যায় না।’

সৈয়দ আশরাফুল হকের অভিযোগ, বিসিসিআইয়ের এই সিদ্ধান্ত রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। তার মতে, মুস্তাফিজুর রহমানের বদলে যদি লিটন দাস বা সৌম্য সরকার হতেন, তাহলে এমন সিদ্ধান্ত নেওয়া হতো না। তিনি আরো বলেন, ‘এটা সস্তা ধর্মীয় আবেগকে কাজে লাগানোর চেষ্টা। অপরিণত রাজনীতিবিদরা যখন ক্রিকেট চালায়, তখনই এমন হয়। পশ্চিমবঙ্গ ও আসামে নির্বাচন সামনে রেখে ভোটের রাজনীতি করা হচ্ছে। আর তার খেসারত দিতে হচ্ছে বিশ্বকাপের মতো আন্তর্জাতিক টুর্নামেন্টকে।’

আগামী ৭ ফেব্রুয়ারি থেকে শুরু হওয়ার কথা টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ। মূল সূচি অনুযায়ী বাংলাদেশ চারটি ম্যাচ খেলবে—তিনটি কলকাতাতে এবং একটি মুম্বাইতে। এখন পর্যন্ত আইসিসি বিসিবির আবেদনের বিষয়ে কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত জানায়নি। বাংলাদেশের ম্যাচগুলো ভারত থেকে শ্রীলঙ্কাতে সরানো হবে কি না, সে বিষয়েও এখনো কোনো নিশ্চিত তথ্য নেই।