ঢাকা , সোমবার, ১০ অগাস্ট ২০২৬, ২৬ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

২০ বছরের রেকর্ড ভেঙে ৮২ দিনে এসএসসির ফল

  • ডেস্ক রিপোর্ট
  • আপডেট সময় ১০:০৩:৫১ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১০ অগাস্ট ২০২৬
  • ১১ বার পড়া হয়েছে

এসএসসি ও সমমান পরীক্ষার ফল প্রকাশ হচ্ছে আজ লিখিত পরীক্ষা শেষ হওয়ার ৮২ দিন পর ফল পেতে যাচ্ছে প্রায় সাড়ে ১৮ লাখ শিক্ষার্থী। করোনাভাইরাস মহামারির কারণে ২০২০ সালে ফল প্রকাশে হওয়া বিলম্ব বাদ দিলে গত ২০ বছরের মধ্যে এবারই সবচেয়ে বেশি সময় লাগছে এসএসসি ও সমমানের ফল প্রকাশে। চলতি বছরের এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষা শুরু হয় ২১ এপ্রিল। লিখিত পরীক্ষা শেষ হয় ২০ মে। সে হিসাবে ২০ জুলাইয়ের মধ্যে ফল প্রকাশের কথা জানিয়েছিলেন শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন।

শিক্ষা বোর্ডগুলোর পক্ষ থেকেও ওই সময়ের মধ্যে ফল প্রকাশের প্রস্তুতির কথা জানানো হয়েছিল। তবে নির্ধারিত সময়ে ফল প্রকাশ করা সম্ভব হয়নি। পরে ২৮ জুলাই শিক্ষামন্ত্রী জানান, ১০ আগস্ট ফল প্রকাশ করা হবে। শিক্ষা বোর্ডগুলোর তথ্য অনুযায়ী, ২০০৭ থেকে ২০২৫ সাল পর্যন্ত প্রায় সব বছরেই পরীক্ষা শেষ হওয়ার ৬০ দিনের মধ্যে এসএসসি ও সমমানের ফল প্রকাশ করা হয়েছে। ২০০৭ সালে পরীক্ষা শেষের ৬৮ দিন পর, ২০০৮ সালে ৩২ দিন, ২০০৯ সালে ৫১ দিন এবং ২০১০ সালে ৭০ দিন পর ফল প্রকাশ করা হয়। ২০১১ থেকে ২০১৯ সাল পর্যন্ত ফল প্রকাশে সময় লেগেছে ৫৩ থেকে ৬৯ দিন। ২০২০ সালে করোনাভাইরাস মহামারির কারণে পরীক্ষা শেষের ৯৪ দিন পর ফল প্রকাশ করা হয়েছিল। বিশেষ পরিস্থিতির কারণে ওই বছরকে স্বাভাবিক সময়ের সঙ্গে তুলনা করা হয় না। এরপর ২০২১ সালে ৩৭ দিন, ২০২২ সালে ৫৮ দিন, ২০২৩ ও ২০২৪ সালে ৬১ দিন এবং ২০২৫ সালে ৫৮ দিন পর ফল প্রকাশ করা হয়।

পাবলিক পরীক্ষার ফল ৬০ দিনের মধ্যে প্রকাশের দীর্ঘদিনের একটি রীতি রয়েছে। তবে এ বিষয়ে নির্দিষ্ট কোনো আইন নেই। ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের সাবেক চেয়ারম্যান অধ্যাপক তপন কুমার সরকার বলেন, ৬০ দিনের মধ্যে ফল প্রকাশ করা দীর্ঘদিনের প্রথা। এতে শিক্ষার্থীদের সেশনজট কমানোর পাশাপাশি শিক্ষা প্রশাসনের কার্যক্রমও নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে রাখা সম্ভব হয়। এবার ফল প্রকাশে দেরির কারণ হিসেবে অতিবৃষ্টি ও বন্যার কারণে এইচএসসি পরীক্ষা ঘিরে তৈরি হওয়া পরিস্থিতির কথা জানিয়েছে শিক্ষা বোর্ড। তবে নাম প্রকাশ না করার শর্তে বোর্ডের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক দপ্তরের কয়েকজন কর্মকর্তা জানিয়েছেন, ফল প্রস্তুত ও পুনরায় যাচাইয়ের কারণে এবার বেশি সময় লেগেছে।

এদিকে ফল বিপর্যয়ের গুঞ্জনও ছড়িয়েছে। তবে এ ধরনের আশঙ্কা নাকচ করেছেন ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান অধ্যাপক সৈয়দ আক্তারুজ্জামান। এসএসসির ফল প্রকাশে বিলম্বের প্রভাব পড়ছে একাদশ শ্রেণির ভর্তি কার্যক্রমেও। সাধারণত জুলাইয়ে একাদশ শ্রেণির শিক্ষাবর্ষ শুরু হওয়ার কথা থাকলেও এবার ফল প্রকাশ হচ্ছে আগস্টে। ফল প্রকাশের পর আবেদন ও ভর্তি কার্যক্রম শেষ করতেও সময় লাগবে। ফলে অক্টোবরের দিকে একাদশের ক্লাস শুরু হতে পারে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।

এতে একাদশে ভর্তি হওয়ার আগেই শিক্ষার্থীদের প্রায় তিন মাসের সেশনজটে পড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। শুধু একাদশ শ্রেণির ভর্তি নয়, এর প্রভাব পড়তে পারে একাদশদ্বাদশের পুরো শিক্ষা কার্যক্রম এবং এইচএসসি পরীক্ষার প্রস্তুতিতেও। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের অধ্যাপক মজিবুর রহমান বলেন, ‘পাবলিক পরীক্ষাগুলোর দীর্ঘসূত্রতার কারণে শিক্ষার্থীদের শিক্ষাজীবনে উল্লেখযোগ্য সময় নষ্ট হচ্ছে। এসএসসি ও এইচএসসির পর ফল প্রকাশ এবং পরবর্তী ভর্তি কার্যক্রমের মধ্যকার দীর্ঘ বিরতি কমানো গেলে শিক্ষার্থীরা দ্রুত উচ্চশিক্ষা শেষ করার সুযোগ পাবে।

ট্যাগস

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

জনপ্রিয় সংবাদ

সীমান্তে আটক ভারতীয় নাগরিককে পুলিশের নিকট হস্তান্তর

২০ বছরের রেকর্ড ভেঙে ৮২ দিনে এসএসসির ফল

আপডেট সময় ১০:০৩:৫১ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১০ অগাস্ট ২০২৬

এসএসসি ও সমমান পরীক্ষার ফল প্রকাশ হচ্ছে আজ লিখিত পরীক্ষা শেষ হওয়ার ৮২ দিন পর ফল পেতে যাচ্ছে প্রায় সাড়ে ১৮ লাখ শিক্ষার্থী। করোনাভাইরাস মহামারির কারণে ২০২০ সালে ফল প্রকাশে হওয়া বিলম্ব বাদ দিলে গত ২০ বছরের মধ্যে এবারই সবচেয়ে বেশি সময় লাগছে এসএসসি ও সমমানের ফল প্রকাশে। চলতি বছরের এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষা শুরু হয় ২১ এপ্রিল। লিখিত পরীক্ষা শেষ হয় ২০ মে। সে হিসাবে ২০ জুলাইয়ের মধ্যে ফল প্রকাশের কথা জানিয়েছিলেন শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন।

শিক্ষা বোর্ডগুলোর পক্ষ থেকেও ওই সময়ের মধ্যে ফল প্রকাশের প্রস্তুতির কথা জানানো হয়েছিল। তবে নির্ধারিত সময়ে ফল প্রকাশ করা সম্ভব হয়নি। পরে ২৮ জুলাই শিক্ষামন্ত্রী জানান, ১০ আগস্ট ফল প্রকাশ করা হবে। শিক্ষা বোর্ডগুলোর তথ্য অনুযায়ী, ২০০৭ থেকে ২০২৫ সাল পর্যন্ত প্রায় সব বছরেই পরীক্ষা শেষ হওয়ার ৬০ দিনের মধ্যে এসএসসি ও সমমানের ফল প্রকাশ করা হয়েছে। ২০০৭ সালে পরীক্ষা শেষের ৬৮ দিন পর, ২০০৮ সালে ৩২ দিন, ২০০৯ সালে ৫১ দিন এবং ২০১০ সালে ৭০ দিন পর ফল প্রকাশ করা হয়। ২০১১ থেকে ২০১৯ সাল পর্যন্ত ফল প্রকাশে সময় লেগেছে ৫৩ থেকে ৬৯ দিন। ২০২০ সালে করোনাভাইরাস মহামারির কারণে পরীক্ষা শেষের ৯৪ দিন পর ফল প্রকাশ করা হয়েছিল। বিশেষ পরিস্থিতির কারণে ওই বছরকে স্বাভাবিক সময়ের সঙ্গে তুলনা করা হয় না। এরপর ২০২১ সালে ৩৭ দিন, ২০২২ সালে ৫৮ দিন, ২০২৩ ও ২০২৪ সালে ৬১ দিন এবং ২০২৫ সালে ৫৮ দিন পর ফল প্রকাশ করা হয়।

পাবলিক পরীক্ষার ফল ৬০ দিনের মধ্যে প্রকাশের দীর্ঘদিনের একটি রীতি রয়েছে। তবে এ বিষয়ে নির্দিষ্ট কোনো আইন নেই। ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের সাবেক চেয়ারম্যান অধ্যাপক তপন কুমার সরকার বলেন, ৬০ দিনের মধ্যে ফল প্রকাশ করা দীর্ঘদিনের প্রথা। এতে শিক্ষার্থীদের সেশনজট কমানোর পাশাপাশি শিক্ষা প্রশাসনের কার্যক্রমও নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে রাখা সম্ভব হয়। এবার ফল প্রকাশে দেরির কারণ হিসেবে অতিবৃষ্টি ও বন্যার কারণে এইচএসসি পরীক্ষা ঘিরে তৈরি হওয়া পরিস্থিতির কথা জানিয়েছে শিক্ষা বোর্ড। তবে নাম প্রকাশ না করার শর্তে বোর্ডের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক দপ্তরের কয়েকজন কর্মকর্তা জানিয়েছেন, ফল প্রস্তুত ও পুনরায় যাচাইয়ের কারণে এবার বেশি সময় লেগেছে।

এদিকে ফল বিপর্যয়ের গুঞ্জনও ছড়িয়েছে। তবে এ ধরনের আশঙ্কা নাকচ করেছেন ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান অধ্যাপক সৈয়দ আক্তারুজ্জামান। এসএসসির ফল প্রকাশে বিলম্বের প্রভাব পড়ছে একাদশ শ্রেণির ভর্তি কার্যক্রমেও। সাধারণত জুলাইয়ে একাদশ শ্রেণির শিক্ষাবর্ষ শুরু হওয়ার কথা থাকলেও এবার ফল প্রকাশ হচ্ছে আগস্টে। ফল প্রকাশের পর আবেদন ও ভর্তি কার্যক্রম শেষ করতেও সময় লাগবে। ফলে অক্টোবরের দিকে একাদশের ক্লাস শুরু হতে পারে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।

এতে একাদশে ভর্তি হওয়ার আগেই শিক্ষার্থীদের প্রায় তিন মাসের সেশনজটে পড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। শুধু একাদশ শ্রেণির ভর্তি নয়, এর প্রভাব পড়তে পারে একাদশদ্বাদশের পুরো শিক্ষা কার্যক্রম এবং এইচএসসি পরীক্ষার প্রস্তুতিতেও। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের অধ্যাপক মজিবুর রহমান বলেন, ‘পাবলিক পরীক্ষাগুলোর দীর্ঘসূত্রতার কারণে শিক্ষার্থীদের শিক্ষাজীবনে উল্লেখযোগ্য সময় নষ্ট হচ্ছে। এসএসসি ও এইচএসসির পর ফল প্রকাশ এবং পরবর্তী ভর্তি কার্যক্রমের মধ্যকার দীর্ঘ বিরতি কমানো গেলে শিক্ষার্থীরা দ্রুত উচ্চশিক্ষা শেষ করার সুযোগ পাবে।