ঢাকা , সোমবার, ১০ অগাস্ট ২০২৬, ২৬ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম ::
সন্ধানের ৩ দিন পর যেভাবে ৯৬টি ল্যান্ড মাইন নিস্ক্রিয় করলো সেনাবাহিনী ‘ম্যানেজিং কমিটির ক্ষমতায় শিক্ষক নিয়োগ’-অবস্থান স্পষ্ট করলেন শিক্ষামন্ত্রী প্রধানমন্ত্রী যাবেন তাই এক পাশে রং, অন্য পাশে মলিন বাংলাদেশে কেয়ামত পর্যন্ত ঘুষ-দুর্নীতি বন্ধ হবে না, চ্যালেঞ্জ দিলাম: ফয়জুল করীম গুলিতে আহত সেই ছাত্রদল নেতা ৯ দিন পর মারা গেছেন এসএসসিতে একইসঙ্গে জিপিএ-৫ পেলেন মা-ছেলে জুলাই জাদুঘরের সব ভাস্কর্য অবিলম্বে অপসারণের দাবি হেফাজতের সাতক্ষীরায় প্রতিবন্ধী নারীকে ধর্ষণের অভিযোগে ঘের মালিক গ্রেপ্তার অভাবের কাছে হার মানেননি আকবর, ৫৪ বছর বয়সে এসএসসি পাস ফল দেখে মায়ের শাড়ি গলায় পেঁচিয়ে জীবন দিলো এসএসসি পরীক্ষার্থী কারিনা

জুলাই জাদুঘরের সব ভাস্কর্য অবিলম্বে অপসারণের দাবি হেফাজতের

  • ডেস্ক রিপোর্ট
  • আপডেট সময় ০৯:৩৯:২৩ অপরাহ্ন, সোমবার, ১০ অগাস্ট ২০২৬
  • ৭ বার পড়া হয়েছে

জুলাই জাদুঘরে হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশের নেতাকর্মীদের অবয়বে ভাস্কর্যসহ সব ভাস্কর্য স্থাপনকে শরিয়তের বিধানের চরম লঙ্ঘন বলে মন্তব্য করেছে সংগঠনটি। একই সঙ্গে এসব ভাস্কর্যকে আলেমদের আত্মত্যাগের সঙ্গে বৈপরীত্য ও উপহাস হিসেবে আখ্যা দিয়েছে হেফাজত।

 

এ নিয়ে তীব্র ক্ষোভ ও প্রতিবাদ জানিয়েছেন সংগঠনের আমির শাহ মুহিব্বুল্লাহ বাবুনগরী ও মহাসচিব আল্লামা সাজিদুর রহমান।

 

সোমবার (১০ আগস্ট) এক যৌথ বিবৃতিতে তারা অবিলম্বে জুলাই জাদুঘর থেকে এসব ভাস্কর্য অপসারণের দাবি জানান।

 

বিবৃতিতে তারা বলেন, ‘ইসলামের স্পষ্ট বিধান বা শরিয়তের দৃষ্টিতে যে কোনো মানুষের ভাস্কর্য নির্মাণ সম্পূর্ণ হারাম ও অবৈধ। ব্যক্তি, রাজনৈতিক পরিচয় বা অবদান যত বড়ই হোক না কেন, শরিয়তের বিধানকে তোয়াক্কা না করে মনগড়া কিছু করার সুযোগ কারও নেই।’

 

হেফাজতের নেতৃদ্বয় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেন, ‘যারা জীবনভর ইসলামের আকিদা, ঈমান ও ইসলামী মূল্যবোধ রক্ষার লড়াইতে প্রাতঃস্মরণীয় ভূমিকা রেখেছেন, তাদের স্মৃতি রক্ষার অজুহাতে ভাস্কর্য বানিয়ে ইসলামী বিধানের চরম বরখেলাপ করা কোনোভাবেই বরদাশত করা যায় না। যে আলেম সমাজ অতীতে এ ভাস্কর্য ও মূর্তি সংস্কৃতির বিরুদ্ধে আন্দোলন করতে গিয়ে জীবন দিয়েছেন ও কারা নির্যাতন ভোগ করেছেন, আজ স্বৈরাচারমুক্ত বাংলাদেশে তাদেরই অবয়বে ভাস্কর্য বানিয়ে অপমান করা হচ্ছে—এটি একটি চরম মর্মান্তিক ও নজিরবিহীন বৈপরীত্য।’

 

তারা স্পষ্ট জানান, চব্বিশের জুলাই গণঅভ্যুত্থানের ঐতিহাসিক বিপ্লব, বীর শহীদ ও আন্দোলনকারীদের মহান ত্যাগকে জাতি অবশ্যই আজীবন শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণে রাখবে। কিন্তু সেই স্মৃতিরক্ষাকে কোনোভাবেই দেশের সংখ্যাগরিষ্ঠ মানুষের ধর্মীয় অনুভূতি ও ইসলামী মূল্যবোধের মুখোমুখি দাঁড় করানো যাবে না।

 

ভাস্কর্য নামক এ অশুভ সংস্কৃতি পরিহার করে ইতিহাসকে চিরসংরক্ষিত রাখতে কঠোরভাবে শরিয়তসম্মত দুটি বিকল্প প্রস্তাব দিয়েছে হেফাজতে ইসলাম। এর মধ্যে প্রথমটি আন্দোলনের সঠিক ও বস্তুনিষ্ঠ ইতিহাস ছড়িয়ে দিতে জাদুঘরে লিখিত ইতিহাস, প্রামাণ্য দলিলপত্র ও বিপ্লবী নথিসমূহ সংরক্ষণ করে তা প্রদর্শনীর ব্যবস্থা করা। দ্বিতীয়টি, ২০১৩ সালের শাপলা চত্বরে ও ২০২১ সালে মোদিবিরোধী আন্দোলনে নির্মম গণহত্যাসহ ইসলামের জন্য আলেম ও তৌহিদি জনতার ত্যাগ এবং ২০২৪-এর অভ্যুত্থানের সত্য ইতিহাস জাতীয় পাঠ্যপুস্তকে অন্তর্ভুক্ত করতে হবে।

 

বিবৃতিতে হেফাজত নেতারা স্মরণ করিয়ে দেন যে, মহানবী (সা.)-এর সাহাবিদের কোনো ভাস্কর্য ছিল না। কিন্তু তাদের আদর্শ আজও বিশ্বজুড়ে আলো ছড়াচ্ছে। তাই সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে কোনো প্রকার গড়িমসি না করে জুলাই জাদুঘর থেকে এ ভাস্কর্যগুলো অনতিবিলম্বে অপসারণের জোর দাবি জানানো হচ্ছে। অন্যথায় আলেম সমাজ তাদের নীতি ও আকিদা রক্ষায় নীরব দর্শক হয়ে থাকবে না।

ট্যাগস

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

জনপ্রিয় সংবাদ

সন্ধানের ৩ দিন পর যেভাবে ৯৬টি ল্যান্ড মাইন নিস্ক্রিয় করলো সেনাবাহিনী

জুলাই জাদুঘরের সব ভাস্কর্য অবিলম্বে অপসারণের দাবি হেফাজতের

আপডেট সময় ০৯:৩৯:২৩ অপরাহ্ন, সোমবার, ১০ অগাস্ট ২০২৬

জুলাই জাদুঘরে হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশের নেতাকর্মীদের অবয়বে ভাস্কর্যসহ সব ভাস্কর্য স্থাপনকে শরিয়তের বিধানের চরম লঙ্ঘন বলে মন্তব্য করেছে সংগঠনটি। একই সঙ্গে এসব ভাস্কর্যকে আলেমদের আত্মত্যাগের সঙ্গে বৈপরীত্য ও উপহাস হিসেবে আখ্যা দিয়েছে হেফাজত।

 

এ নিয়ে তীব্র ক্ষোভ ও প্রতিবাদ জানিয়েছেন সংগঠনের আমির শাহ মুহিব্বুল্লাহ বাবুনগরী ও মহাসচিব আল্লামা সাজিদুর রহমান।

 

সোমবার (১০ আগস্ট) এক যৌথ বিবৃতিতে তারা অবিলম্বে জুলাই জাদুঘর থেকে এসব ভাস্কর্য অপসারণের দাবি জানান।

 

বিবৃতিতে তারা বলেন, ‘ইসলামের স্পষ্ট বিধান বা শরিয়তের দৃষ্টিতে যে কোনো মানুষের ভাস্কর্য নির্মাণ সম্পূর্ণ হারাম ও অবৈধ। ব্যক্তি, রাজনৈতিক পরিচয় বা অবদান যত বড়ই হোক না কেন, শরিয়তের বিধানকে তোয়াক্কা না করে মনগড়া কিছু করার সুযোগ কারও নেই।’

 

হেফাজতের নেতৃদ্বয় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেন, ‘যারা জীবনভর ইসলামের আকিদা, ঈমান ও ইসলামী মূল্যবোধ রক্ষার লড়াইতে প্রাতঃস্মরণীয় ভূমিকা রেখেছেন, তাদের স্মৃতি রক্ষার অজুহাতে ভাস্কর্য বানিয়ে ইসলামী বিধানের চরম বরখেলাপ করা কোনোভাবেই বরদাশত করা যায় না। যে আলেম সমাজ অতীতে এ ভাস্কর্য ও মূর্তি সংস্কৃতির বিরুদ্ধে আন্দোলন করতে গিয়ে জীবন দিয়েছেন ও কারা নির্যাতন ভোগ করেছেন, আজ স্বৈরাচারমুক্ত বাংলাদেশে তাদেরই অবয়বে ভাস্কর্য বানিয়ে অপমান করা হচ্ছে—এটি একটি চরম মর্মান্তিক ও নজিরবিহীন বৈপরীত্য।’

 

তারা স্পষ্ট জানান, চব্বিশের জুলাই গণঅভ্যুত্থানের ঐতিহাসিক বিপ্লব, বীর শহীদ ও আন্দোলনকারীদের মহান ত্যাগকে জাতি অবশ্যই আজীবন শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণে রাখবে। কিন্তু সেই স্মৃতিরক্ষাকে কোনোভাবেই দেশের সংখ্যাগরিষ্ঠ মানুষের ধর্মীয় অনুভূতি ও ইসলামী মূল্যবোধের মুখোমুখি দাঁড় করানো যাবে না।

 

ভাস্কর্য নামক এ অশুভ সংস্কৃতি পরিহার করে ইতিহাসকে চিরসংরক্ষিত রাখতে কঠোরভাবে শরিয়তসম্মত দুটি বিকল্প প্রস্তাব দিয়েছে হেফাজতে ইসলাম। এর মধ্যে প্রথমটি আন্দোলনের সঠিক ও বস্তুনিষ্ঠ ইতিহাস ছড়িয়ে দিতে জাদুঘরে লিখিত ইতিহাস, প্রামাণ্য দলিলপত্র ও বিপ্লবী নথিসমূহ সংরক্ষণ করে তা প্রদর্শনীর ব্যবস্থা করা। দ্বিতীয়টি, ২০১৩ সালের শাপলা চত্বরে ও ২০২১ সালে মোদিবিরোধী আন্দোলনে নির্মম গণহত্যাসহ ইসলামের জন্য আলেম ও তৌহিদি জনতার ত্যাগ এবং ২০২৪-এর অভ্যুত্থানের সত্য ইতিহাস জাতীয় পাঠ্যপুস্তকে অন্তর্ভুক্ত করতে হবে।

 

বিবৃতিতে হেফাজত নেতারা স্মরণ করিয়ে দেন যে, মহানবী (সা.)-এর সাহাবিদের কোনো ভাস্কর্য ছিল না। কিন্তু তাদের আদর্শ আজও বিশ্বজুড়ে আলো ছড়াচ্ছে। তাই সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে কোনো প্রকার গড়িমসি না করে জুলাই জাদুঘর থেকে এ ভাস্কর্যগুলো অনতিবিলম্বে অপসারণের জোর দাবি জানানো হচ্ছে। অন্যথায় আলেম সমাজ তাদের নীতি ও আকিদা রক্ষায় নীরব দর্শক হয়ে থাকবে না।