বেসরকারি স্কুল-কলেজে শিক্ষক নিয়োগের ক্ষমতা ম্যানেজিং কমিটির হাতে পুনরায় ফিরিয়ে দেওয়ার বিষয়ে চূড়ান্ত কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি বলে জানিয়েছেন শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলন।
সোমবার (১০ আগস্ট) রাতে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ফেসবুকে তার ভেরিফায়েড পেইজ থেকে পোস্ট দিয়ে সরকারের এই অবস্থানের কথা জানান তিনি।
শিক্ষামন্ত্রী ফেসবুক পোস্টে জানান, ম্যানেজিং কমিটির হাতে নিয়োগের ক্ষমতা দেওয়ার চূড়ান্ত কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি। ৭৭ হাজার শিক্ষক নিয়োগে বাছাইয়ের পর নিয়োগের প্রক্রিয়া ঠিক করা হবে।
একই সঙ্গে ওই পোস্টে এই বিষয়ক অপতথ্য প্রচার না করার জন্য সকলের প্রতি অনুরোধ জানান শিক্ষামন্ত্রী।
বাংলাভিশনের পাঠকের জন্য পোস্টটি হুবহু তুলে ধরা হলো, ‘বেসরকারি শিক্ষক নিবন্ধন ও প্রত্যয়ন কর্তৃপক্ষ (NTRCA) ২০০৫ সালে দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার নেতৃত্বাধীন সরকারের সময়ে প্রতিষ্ঠিত হয়। NTRCA এর কার্যক্রম ও শিক্ষক নিয়োগ প্রক্রিয়াকে আরও স্বচ্ছ, দক্ষ ও সুন্দরভাবে কীভাবে পরিচালনা করা যায়, সে বিষয়ে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে পর্যালোচনা অব্যাহত রেখেছে। ম্যানেজিং কমিটি/গভর্নিং বডি কর্তৃক শিক্ষক নিয়োগ প্রদান সংক্রান্ত কোনও সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়নি। এ বিষয়ে কোনো অপতথ্য প্রচার না করার জন্য সকলের প্রতি অনুরোধ রইল।’
সম্প্রতি বিভিন্ন গণমাধ্যমে খবর প্রকাশিত হয় যে বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ম্যানেজিং কমিটি বা পরিচালনা পর্ষদের হাতে শিক্ষক নিয়োগের ক্ষমতা ফিরিয়ে দেওয়া হতে পারে। এমন আলোচনার প্রেক্ষাপটেই বিষয়টি নিয়ে অবস্থান পরিষ্কার করলেন শিক্ষামন্ত্রী।
এই বিষয়ে প্রধানমন্ত্রীর উপ-প্রেস সচিব মো. সুজাউদ্দৌলা (সুজন মাহমুদ) শিক্ষামন্ত্রীর পোস্টটি শেয়ার করে নিজের ফেসবুক প্রোফাইলে লেখেন, “ম্যানেজিং কমিটির মাধ্যমে শিক্ষক নিয়োগ সংক্রান্ত বিভিন্ন ধরনের গুজব, বিভ্রান্তিকর ও অসত্য তথ্য ছড়ানো হচ্ছে। এসব অপপ্রচারের মাধ্যমে শিক্ষা খাতে পরিকল্পিতভাবে অস্থিরতা ও বিভ্রান্তি সৃষ্টির অপচেষ্টা চালানো হচ্ছে।
এ ধরনের গুজব ও ভিত্তিহীন প্রচারে বিভ্রান্ত না হওয়ার জন্য শিক্ষক, শিক্ষার্থী, অভিভাবকসহ সংশ্লিষ্ট সবাইকে আহ্বান জানানো হলো। শিক্ষক নিয়োগ সংক্রান্ত যেকোনো সিদ্ধান্ত বা তথ্যের ক্ষেত্রে কেবলমাত্র সরকারের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের অনুমোদিত ও নির্ভরযোগ্য সূত্রের তথ্য অনুসরণ করার জন্য অনুরোধ করা হলো।”
প্রধানমন্ত্রী উপ-প্রেস সচিব আরও লেখেন, “শিক্ষাখাতে স্থিতিশীলতা, শৃঙ্খলা ও স্বচ্ছতা বজায় রাখতে সরকার দৃঢ়ভাবে কাজ করে যাচ্ছে। এ বিষয়ে কোনো ধরনের অপপ্রচার বা বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়িয়ে জনমনে অস্থিরতা সৃষ্টির অপচেষ্টা কোনোভাবেই কাম্য নয়।”

ডেস্ক রিপোর্ট 


















