প্রধানমন্ত্রী যাবেন, তাই কি সড়কের এক পাশেই সৌন্দর্যবর্ধন? চট্টগ্রামের অক্সিজেন মোড় থেকে হাটহাজারী বাসস্ট্যান্ড পর্যন্ত প্রায় ১২ কিলোমিটার সড়কের ডিভাইডারের এক পাশে নতুন রং করা হলেও অন্য পাশ রয়ে গেছে মলিন। এমন দৃশ্যের একাধিক ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর বিষয়টি নিয়ে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনা শুরু হয়েছে। নেটিজেনদের কেউ কেউ প্রশ্ন তুলেছেন, গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তির চলাচলের পথ হলেই কি সড়কের সৌন্দর্যবর্ধনের কাজ জোরদার হয়?
সরেজমিনে সোমবার (১০ আগস্ট) সকালে হাটহাজারী থেকে অক্সিজেন পর্যন্ত সড়ক ঘুরে দেখা যায়, এক পাশের ডিভাইডারজুড়ে রঙের কাজ শেষ হয়েছে। ওই পাশটি তুলনামূলক পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নও। বিপরীত পাশে কোথাও ময়লা-আবর্জনা পড়ে আছে এবং ডিভাইডারের বড় অংশে রং করা হয়নি। তবে অক্সিজেন মোড় থেকে ওই পাশের ডিভাইডারে নতুন করে রং করার কাজ শুরু করেছেন কয়েকজন শ্রমিক। এর আগে রোববার প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান চট্টগ্রাম সফরে এসে হাটহাজারীতে বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের পুনর্বাসন কর্মসূচিতে অংশ নেন।
স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, প্রধানমন্ত্রী যে পাশ দিয়ে যাতায়াত করেছেন, মূলত সেই পাশেই পরিচ্ছন্নতা ও ডিভাইডারে রং করার কাজ করা হয়েছে। বিপরীত পাশটি থেকে গেছে মলিন অবস্থায়। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভিডিও ছড়িয়ে পড়ার পর সোমবার সকাল থেকে অক্সিজেন মোড়ের দিক থেকে ডিভাইডারের অপর পাশে রং করার কাজ শুরু করেন শ্রমিকরা।
অক্সিজেন এলাকার বাসিন্দা হারুন বলেন, ‘অক্সিজেন থেকে নিয়মিত চৌধুরীহাটে যাতায়াত করি। গতকাল দেখলাম, সড়কের ডিভাইডারের এক পাশে রং করা হয়েছে, অন্য পাশে করা হয়নি। দুই পাশেই রং করা হলে দেখতে ভালো লাগত।’
বালুচরা এলাকার বাসিন্দা শিহাব উদ্দিন জানান, ‘প্রধানমন্ত্রী যাতায়াতের জন্য যে পাশ দিয়ে গেছেন, ওই পাশেই কেবল পরিষ্কার ও ডিভাইডারে রং করা হয়েছে। সাধারণ মানুষের জন্যও দুই পাশ সমানভাবে সুন্দর রাখা উচিত।’
এদিকে বিষয়টি নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নানা মন্তব্য করছেন নেটিজেনরা। কেউ এটিকে ‘দেখানোর উন্নয়ন’ বলে মন্তব্য করেছেন, আবার কেউ বলছেন, সড়কের সৌন্দর্যবর্ধনের কাজ হলে দুই পাশেই একইভাবে করার কথা। অনেকে প্রশ্ন তুলেছেন, কাজটি আগে থেকেই পরিকল্পিত হলে কেন দুই পাশের কাজ একসঙ্গে দৃশ্যমান হলো না।
তবে সড়ক বিভাগের কর্মকর্তারা বলছেন, প্রধানমন্ত্রীর সফরকে কেন্দ্র করে ডিভাইডারে রং করা হয়নি। এটি সড়কের সৌন্দর্যবর্ধন ও নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণের চলমান কাজ। সড়ক ও জনপথ বিভাগের উপসহকারী রঞ্জন কুমার বিশ্বাস বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী আসার দুই থেকে তিন দিন আগেই কাজ শুরু হয়েছিল। বৃষ্টি ও নানা সমস্যার কারণে দুই পাশে একসঙ্গে কাজ করা সম্ভব হয়নি।’
অপর পাশের কাজ শুরু হওয়া প্রসঙ্গে তিনি বলেন, দুই পাশেই রং করার পরিকল্পনা শুরু থেকেই ছিল। তবে বিভিন্ন কারণে তা একসঙ্গে করা যায়নি। কাজের ব্যয় সম্পর্কে তিনি জানান, সড়কের নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণের খরচ থেকেই কাজটি করা হচ্ছে এবং পুরো কাজ শেষ হওয়ার পর সঠিক বাজেট জানা যাবে।
হাটহাজারী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মুহাম্মদ আবদুল্লাহ আল মুমিন গণমাধ্যমে জানান , বিষয়টি সম্পর্কে তিনি অবগত হয়েছি। সড়ক ও জনপথ বিভাগের সঙ্গে কথা হয়েছে এবং বৃষ্টির কারণে দুই পাশের কাজ একসঙ্গে করা সম্ভব হয়নি বলে তারা জানিয়েছেন। সোমবার সকাল থেকে অপর পাশে রং করার কাজ শুরু করেছেন তারা।
চট্টগ্রাম জেলা সড়ক বিভাগ জানিয়েছে, অক্সিজেন মোড় থেকে হাটহাজারী বাসস্ট্যান্ড পর্যন্ত সড়কের সৌন্দর্যবর্ধন ও পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার কাজ চলমান। প্রায় এক মাস আগে থেকেই সড়কের পাশের জঙ্গল পরিষ্কার, ব্রিজ-কালভার্ট পরিষ্কারসহ বিভিন্ন কাজ করা হচ্ছে। বর্তমানে ডিভাইডারে রং করার কাজ চলছে।
চট্টগ্রাম জেলা সড়ক বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী মোহাম্মদ মোসলেহ্উদ্দীন বলেন, ‘এটি আগে থেকেই চলমান কাজ। আগে থেকে পরিকল্পনা না থাকলে প্রায় ১২ কিলোমিটার সড়কের এত কাজ দ্রুত বাস্তবায়ন করা সম্ভব হতো না। অক্সিজেন থেকে হাটহাজারীর দিকে অনেক আগেই কাজ শুরু হয়েছে।’

ডেস্ক রিপোর্ট 


















