ঢাকা , শুক্রবার, ১৭ এপ্রিল ২০২৬, ৪ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম ::
মেহেরপুরে বাস্তবে রূপ নিতে যাচ্ছিল ‘ছুটির ঘণ্টা’ সিনেমা, বাথরুমে বন্দি ছাত্রীকে অবশেষে উদ্ধার অদক্ষ ব্যক্তিদের হাতে রাষ্ট্র পড়লে জনগণের অনেক ভোগান্তি হয়: স্পিকার ইরানকে হরমুজ প্রণালি খুলে দিতে বলল চীন বাউফলের পাঁচ নবজাতকের অসহায় পরিবারে ড. মাসুদ এমপির মানবতার স্পর্শ সাবেক আইআরজিসি প্রধান কেন চান যুক্তরাষ্ট্র ইরানে ‘স্থল আক্রমণ’ চালাক ম্যাচ হারের পর ভিনিসিউসকে বায়ার্নের মাঠে রেখেই চলে গেল রিয়ালের বাস মার্কিন যুদ্ধবিমানের নতুন আতঙ্ক, চীনের তৈরি ইরানের অত্যাধুনিক ম্যানপ্যাড গণভোটের রায় পূর্ণ বাস্তবায়নে দেশব্যাপী আন্দোলন গড়ে তোলা হবে: মামুনুল হক সন্ধ্যায় সাবেক অধিনায়কদের ক্যাপ্টেনস কার্ড দেবে বিসিবি আমার স্বামীকে হাত-পা বেঁধে পেট কেটে সিমেন্টের বস্তায় বেঁধে হত্যা করা হয়: বিডিআর সদস্যর স্ত্রী

পাকিস্তান সেই ভাষায় জবাব দিয়েছে, যা ভারত বোঝে

  • ডেস্ক রিপোর্ট
  • আপডেট সময় ১০:১৪:২৯ অপরাহ্ন, রবিবার, ১১ মে ২০২৫
  • ৪২৬ বার পড়া হয়েছে

জাতির উদ্দেশে এক আবেগময় ও শক্তিশালী ভাষণে প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরীফ ভারতের সাম্প্রতিক আগ্রাসনের বিরুদ্ধে পাকিস্তানের জবাবকে ‘ঐতিহাসিক বিজয়’ হিসেবে আখ্যায়িত করে বলেন, এটি দেশের প্রতিরক্ষা ইতিহাসে “একটি নতুন সোনালি অধ্যায়” হিসেবে যুক্ত হলো।

প্রধানমন্ত্রী পাকিস্তান সশস্ত্র বাহিনীর সাহসিকতা ও দক্ষতার ভূয়সী প্রশংসা করে বলেন, “ভারতের কামানগুলোকে কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই নিশ্চুপ করে দেওয়া হয়েছে এবং তাদের বিমানঘাঁটিগুলোকে ধ্বংসস্তূপে পরিণত করেছে আমাদের বাহিনী। ইতিহাস এই জবাব কোনোদিন ভুলবে না।” তিনি আরও বলেন, “আমাদের প্রতিক্রিয়া ছিল এমনই যা একটি মর্যাদাশীল ও আত্মসম্মানবোধসম্পন্ন জাতির পক্ষেই সম্ভব।”

জাতীয় ঐক্য ও সেনাবাহিনীর শৃঙ্খলার ওপর গুরুত্ব দিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, পাকিস্তান সেনাবাহিনীর পেশাদারিত্ব এবং দ্রুত প্রতিক্রিয়া গোটা জাতিকে গর্বিত করেছে। এটি আমাদের সার্বভৌমত্ব রক্ষার একটি অনন্য উদাহরণ।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, “ভারতের সাম্প্রতিক পদক্ষেপ ছিল প্রকাশ্য আগ্রাসন।” তিনি জানান, পাকিস্তান শুরুতে নিরপেক্ষ তদন্তের আহ্বান জানিয়েছিল এবং সংযম দেখিয়েছিল। কিন্তু বারবার উস্কানি দেওয়ার পর রাষ্ট্র “শুধু সেই ভাষায় জবাব দিয়েছে, যা শত্রু বোঝে।”

প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শহীদদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করেন, বিশেষ করে শহীদ আর্জাতা আব্বাসের প্রতি, যাকে তিনি আখ্যা দেন “একটি ফুল যা ফুটে ওঠার আগেই ঝরে গেল।” তিনি শহীদদের মায়েদের স্যালুট জানিয়ে বলেন, তাদের আত্মত্যাগ জাতির জন্য চিরকালীন অনুপ্রেরণা।

তিনি সেনাবাহিনীর ঊর্ধ্বতন নেতৃত্বের ভূমিকাও প্রশংসা করেন, বিশেষ করে জয়েন্ট চিফস চেয়ারম্যান জেনারেল সাহির শামশাদ, সেনাপ্রধান জেনারেল আসিম মুনির, বিমানবাহিনী ও নৌবাহিনীর প্রধানদের সাহসী ও দায়িত্বশীল নেতৃত্বের জন্য ধন্যবাদ জানান।

শেহবাজ বলেন, “সারা জাতি আমাদের সেনাবাহিনীর পেছনে এক অভেদ্য ইস্পাতের দেয়ালের মতো দাঁড়িয়ে ছিল। এটি কৃতজ্ঞতা জানানোর মুহূর্ত, যখন প্রতিটি পাকিস্তানিই আকাশ ও সীমান্ত রক্ষীদের স্যালুট জানায়।”

আন্তর্জাতিক সহায়তার কথাও স্বীকার করে শেহবাজ ধন্যবাদ জানান বিশ্ব নেতাদের—ডোনাল্ড ট্রাম্প, মোহাম্মদ বিন সালমান, শেখ তামিম, রিসেপ তাইয়েপ এরদোয়ানসহ আরও অনেককে, যারা শান্তি প্রতিষ্ঠায় কাজ করেছেন। বিশেষভাবে তিনি চীনের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানান, বলেন, “গত ৭৮ বছর ধরে প্রতিটি সংকটে চীন আমাদের পাশে এক অবিচল স্তম্ভ হিসেবে থেকেছে।”

সামরিক সাফল্য উদযাপন করলেও প্রধানমন্ত্রী শান্তির প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করেন। তিনি বলেন, ইসলামাবাদ সব অমীমাংসিত ইস্যু, বিশেষ করে জম্মু ও কাশ্মীর নিয়ে আলোচনার জন্য সবসময় প্রস্তুত।

তিনি ভাষণ শেষ করেন এই বলে—“আমরা একটি দায়িত্বশীল জাতি। আমরা শান্তিতে বিশ্বাস করি, কিন্তু আমাদের সার্বভৌমত্বের প্রশ্নে কখনোই আপস করবো না। আমাদের শক্তি আমাদের ঢাল, আর আমাদের ঐক্য আমাদের তলোয়ার।”

ট্যাগস

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

জনপ্রিয় সংবাদ

মেহেরপুরে বাস্তবে রূপ নিতে যাচ্ছিল ‘ছুটির ঘণ্টা’ সিনেমা, বাথরুমে বন্দি ছাত্রীকে অবশেষে উদ্ধার

পাকিস্তান সেই ভাষায় জবাব দিয়েছে, যা ভারত বোঝে

আপডেট সময় ১০:১৪:২৯ অপরাহ্ন, রবিবার, ১১ মে ২০২৫

জাতির উদ্দেশে এক আবেগময় ও শক্তিশালী ভাষণে প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরীফ ভারতের সাম্প্রতিক আগ্রাসনের বিরুদ্ধে পাকিস্তানের জবাবকে ‘ঐতিহাসিক বিজয়’ হিসেবে আখ্যায়িত করে বলেন, এটি দেশের প্রতিরক্ষা ইতিহাসে “একটি নতুন সোনালি অধ্যায়” হিসেবে যুক্ত হলো।

প্রধানমন্ত্রী পাকিস্তান সশস্ত্র বাহিনীর সাহসিকতা ও দক্ষতার ভূয়সী প্রশংসা করে বলেন, “ভারতের কামানগুলোকে কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই নিশ্চুপ করে দেওয়া হয়েছে এবং তাদের বিমানঘাঁটিগুলোকে ধ্বংসস্তূপে পরিণত করেছে আমাদের বাহিনী। ইতিহাস এই জবাব কোনোদিন ভুলবে না।” তিনি আরও বলেন, “আমাদের প্রতিক্রিয়া ছিল এমনই যা একটি মর্যাদাশীল ও আত্মসম্মানবোধসম্পন্ন জাতির পক্ষেই সম্ভব।”

জাতীয় ঐক্য ও সেনাবাহিনীর শৃঙ্খলার ওপর গুরুত্ব দিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, পাকিস্তান সেনাবাহিনীর পেশাদারিত্ব এবং দ্রুত প্রতিক্রিয়া গোটা জাতিকে গর্বিত করেছে। এটি আমাদের সার্বভৌমত্ব রক্ষার একটি অনন্য উদাহরণ।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, “ভারতের সাম্প্রতিক পদক্ষেপ ছিল প্রকাশ্য আগ্রাসন।” তিনি জানান, পাকিস্তান শুরুতে নিরপেক্ষ তদন্তের আহ্বান জানিয়েছিল এবং সংযম দেখিয়েছিল। কিন্তু বারবার উস্কানি দেওয়ার পর রাষ্ট্র “শুধু সেই ভাষায় জবাব দিয়েছে, যা শত্রু বোঝে।”

প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শহীদদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করেন, বিশেষ করে শহীদ আর্জাতা আব্বাসের প্রতি, যাকে তিনি আখ্যা দেন “একটি ফুল যা ফুটে ওঠার আগেই ঝরে গেল।” তিনি শহীদদের মায়েদের স্যালুট জানিয়ে বলেন, তাদের আত্মত্যাগ জাতির জন্য চিরকালীন অনুপ্রেরণা।

তিনি সেনাবাহিনীর ঊর্ধ্বতন নেতৃত্বের ভূমিকাও প্রশংসা করেন, বিশেষ করে জয়েন্ট চিফস চেয়ারম্যান জেনারেল সাহির শামশাদ, সেনাপ্রধান জেনারেল আসিম মুনির, বিমানবাহিনী ও নৌবাহিনীর প্রধানদের সাহসী ও দায়িত্বশীল নেতৃত্বের জন্য ধন্যবাদ জানান।

শেহবাজ বলেন, “সারা জাতি আমাদের সেনাবাহিনীর পেছনে এক অভেদ্য ইস্পাতের দেয়ালের মতো দাঁড়িয়ে ছিল। এটি কৃতজ্ঞতা জানানোর মুহূর্ত, যখন প্রতিটি পাকিস্তানিই আকাশ ও সীমান্ত রক্ষীদের স্যালুট জানায়।”

আন্তর্জাতিক সহায়তার কথাও স্বীকার করে শেহবাজ ধন্যবাদ জানান বিশ্ব নেতাদের—ডোনাল্ড ট্রাম্প, মোহাম্মদ বিন সালমান, শেখ তামিম, রিসেপ তাইয়েপ এরদোয়ানসহ আরও অনেককে, যারা শান্তি প্রতিষ্ঠায় কাজ করেছেন। বিশেষভাবে তিনি চীনের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানান, বলেন, “গত ৭৮ বছর ধরে প্রতিটি সংকটে চীন আমাদের পাশে এক অবিচল স্তম্ভ হিসেবে থেকেছে।”

সামরিক সাফল্য উদযাপন করলেও প্রধানমন্ত্রী শান্তির প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করেন। তিনি বলেন, ইসলামাবাদ সব অমীমাংসিত ইস্যু, বিশেষ করে জম্মু ও কাশ্মীর নিয়ে আলোচনার জন্য সবসময় প্রস্তুত।

তিনি ভাষণ শেষ করেন এই বলে—“আমরা একটি দায়িত্বশীল জাতি। আমরা শান্তিতে বিশ্বাস করি, কিন্তু আমাদের সার্বভৌমত্বের প্রশ্নে কখনোই আপস করবো না। আমাদের শক্তি আমাদের ঢাল, আর আমাদের ঐক্য আমাদের তলোয়ার।”