ঢাকা , মঙ্গলবার, ১১ অগাস্ট ২০২৬, ২৭ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম ::
এক বাংলাদেশিকে ধরে নিয়ে যাওয়ায় দুই ভারতীয়কে আটক করল গ্রামবাসী লন্ডনের রাস্তায় দুবাইয়ের শাসককে অপমান! যারা ইসরায়েলকে পিতৃভূমি মনে করে, তাদের সাথেই আঁতাত করতে চায় জামায়াত: রিজভী নারী সংকটে চীন, বিয়ে করতে গিয়ে নানা বিপাকে পড়ছে পুরুষেরা নারী সংকটে চীন, বিয়ে করতে গিয়ে নানা বিপাকে পড়ছে পুরুষেরা ভারতের ‘র’ প্রধানের ঢাকা সফর নিয়ে জল্পনার কিছু নেই: ডা. জাহেদ মা-বাবা নেই, দুই ভাইয়ের শূন্য ঘরে ‘গোল্ডেন এ প্লাস’ মুক্তিযুদ্ধের বিরোধিতাকারীদের বীরত্বের ইতিহাস নেই: রিজভী ভারতের ‘র’ প্রধানের ঢাকা সফর নিয়ে জল্পনার কিছু নেই: ডা. জাহেদ সাকিব এখন নষ্ট পচে যাওয়া মানুষ: ডা. জাহেদ

আন্দোলনকারীদের ওপর ভর করে জামায়াত-বিএনপি খুন করছে: শেখ হাসিনা

  • ডেস্ক রিপোর্ট
  • আপডেট সময় ০২:১৬:৩৮ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১১ অগাস্ট ২০২৬
  • ১৫ বার পড়া হয়েছে

২০২৪ সালের জুলাইয়ে ছাত্র-জনতার আন্দোলনের সময় আন্দোলনকারীদের ওপর হত্যার দায় চাপিয়ে বিএনপি-জামায়াতকে অভিযুক্ত করার বিষয়ে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও আওয়ামী লীগ নেতা হাছান মাহমুদের মধ্যে কথোপকথন হয়েছিল বলে জানিয়েছে প্রসিকিউশন।

সম্প্রতি তাদের একটি ফোনালাপের রেকর্ড আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের হাতে এসেছে। প্রসিকিউশনের দাবি, ওই ফোনালাপে আন্দোলনে ছাত্র নিহত হওয়া এবং সহিংসতার দায় আন্দোলনকারীদের ওপর চাপানোর কৌশল নিয়ে আলোচনা হয়।

ফোনালাপে শেখ হাসিনার কণ্ঠে শোনা যায়, আন্দোলনের সময় গুলিতে ছাত্র নিহত হয়নি; বরং আন্দোলনকারীরা নিজেরাই এসব ঘটনা ঘটিয়েছে—এমন বক্তব্য সামনে আনার কথা বলা হচ্ছে। জবাবে হাছান মাহমুদকে বলতে শোনা যায়, ধীরে ধীরে ওই অবস্থানেই যেতে হবে।

একপর্যায়ে শেখ হাসিনা তার বিরুদ্ধে ওঠা হত্যার অভিযোগ নিয়েও কথা বলেন। নিজেকে ‘খুনি’ বলা হচ্ছে কেন—এমন প্রশ্ন তুলে আন্দোলনকারীদের দায়ী করে বক্তব্য প্রচারের কথা বলেন তিনি। জবাবে হাছান মাহমুদ জানান, পরদিন থেকেই এ ধরনের বক্তব্য প্রচার শুরু করবেন।

ফোনালাপে কোটা সংস্কার আন্দোলন ও আদালতের রায়ের প্রসঙ্গও উঠে আসে। শেখ হাসিনা বলেন, কোটা-সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন আদালত বাতিল করেছিল এবং সরকারই ওই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আপিল করেছিল। তাহলে তাদের খুনি বলা হবে কেন—এমন প্রশ্নও তোলেন তিনি।

এরপর শেখ হাসিনার কণ্ঠে শোনা যায়, আন্দোলনে অংশ নেওয়া ব্যক্তিরাই খুনি এবং তাদের ওপর ভর করে জামায়াত-বিএনপি হত্যাকাণ্ড চালিয়েছে। হাছান মাহমুদও আন্দোলনের সুযোগ নিয়ে জামায়াত-বিএনপি মানুষ হত্যার সুযোগ পেয়েছে বলে মন্তব্য করেন।

এ সময় আন্দোলনকে কেন্দ্র করে বিভিন্ন স্থাপনায় ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের অভিযোগও তোলেন শেখ হাসিনা।

প্রসিকিউশন বলছে, ফোনালাপের এই বক্তব্যগুলো জুলাই আন্দোলন চলাকালে তৎকালীন সরকারের অবস্থান এবং আন্দোলনকারীদের ওপর সহিংসতার দায় চাপানোর কৌশল সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য তুলে ধরে।

ট্যাগস

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

জনপ্রিয় সংবাদ

এক বাংলাদেশিকে ধরে নিয়ে যাওয়ায় দুই ভারতীয়কে আটক করল গ্রামবাসী

আন্দোলনকারীদের ওপর ভর করে জামায়াত-বিএনপি খুন করছে: শেখ হাসিনা

আপডেট সময় ০২:১৬:৩৮ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১১ অগাস্ট ২০২৬

২০২৪ সালের জুলাইয়ে ছাত্র-জনতার আন্দোলনের সময় আন্দোলনকারীদের ওপর হত্যার দায় চাপিয়ে বিএনপি-জামায়াতকে অভিযুক্ত করার বিষয়ে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও আওয়ামী লীগ নেতা হাছান মাহমুদের মধ্যে কথোপকথন হয়েছিল বলে জানিয়েছে প্রসিকিউশন।

সম্প্রতি তাদের একটি ফোনালাপের রেকর্ড আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের হাতে এসেছে। প্রসিকিউশনের দাবি, ওই ফোনালাপে আন্দোলনে ছাত্র নিহত হওয়া এবং সহিংসতার দায় আন্দোলনকারীদের ওপর চাপানোর কৌশল নিয়ে আলোচনা হয়।

ফোনালাপে শেখ হাসিনার কণ্ঠে শোনা যায়, আন্দোলনের সময় গুলিতে ছাত্র নিহত হয়নি; বরং আন্দোলনকারীরা নিজেরাই এসব ঘটনা ঘটিয়েছে—এমন বক্তব্য সামনে আনার কথা বলা হচ্ছে। জবাবে হাছান মাহমুদকে বলতে শোনা যায়, ধীরে ধীরে ওই অবস্থানেই যেতে হবে।

একপর্যায়ে শেখ হাসিনা তার বিরুদ্ধে ওঠা হত্যার অভিযোগ নিয়েও কথা বলেন। নিজেকে ‘খুনি’ বলা হচ্ছে কেন—এমন প্রশ্ন তুলে আন্দোলনকারীদের দায়ী করে বক্তব্য প্রচারের কথা বলেন তিনি। জবাবে হাছান মাহমুদ জানান, পরদিন থেকেই এ ধরনের বক্তব্য প্রচার শুরু করবেন।

ফোনালাপে কোটা সংস্কার আন্দোলন ও আদালতের রায়ের প্রসঙ্গও উঠে আসে। শেখ হাসিনা বলেন, কোটা-সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন আদালত বাতিল করেছিল এবং সরকারই ওই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আপিল করেছিল। তাহলে তাদের খুনি বলা হবে কেন—এমন প্রশ্নও তোলেন তিনি।

এরপর শেখ হাসিনার কণ্ঠে শোনা যায়, আন্দোলনে অংশ নেওয়া ব্যক্তিরাই খুনি এবং তাদের ওপর ভর করে জামায়াত-বিএনপি হত্যাকাণ্ড চালিয়েছে। হাছান মাহমুদও আন্দোলনের সুযোগ নিয়ে জামায়াত-বিএনপি মানুষ হত্যার সুযোগ পেয়েছে বলে মন্তব্য করেন।

এ সময় আন্দোলনকে কেন্দ্র করে বিভিন্ন স্থাপনায় ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের অভিযোগও তোলেন শেখ হাসিনা।

প্রসিকিউশন বলছে, ফোনালাপের এই বক্তব্যগুলো জুলাই আন্দোলন চলাকালে তৎকালীন সরকারের অবস্থান এবং আন্দোলনকারীদের ওপর সহিংসতার দায় চাপানোর কৌশল সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য তুলে ধরে।