সরকারের ১৮০ দিনের কার্যক্রম শেষে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান নিজেই জনগণের সামনে সরকারের অর্জন, সীমাবদ্ধতা ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা তুলে ধরতে পারেন বলে জানিয়েছেন তথ্য ও সম্প্রচারবিষয়ক উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান।
মঙ্গলবার সচিবালয়ে সরকারের বিভিন্ন কার্যক্রমের অগ্রগতি নিয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ কথা জানান।
ডা. জাহেদ উর রহমান বলেন, ১৮০ দিনে বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের কার্যক্রম কী ছিল, তা পর্যালোচনা করা হচ্ছে। এ জন্য প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে উপদেষ্টা ও বিশেষ সহকারীদের সমন্বয়ে একটি কমিটি কাজ করছে। তিনি নিজেও ওই কমিটির সদস্য।
তিনি জানান, ১৮০ দিন পূর্ণ হওয়ার পর মন্ত্রিসভায় রদবদল হবে—এমন কোনো ইঙ্গিত সরকার দেয়নি। তবে প্রধানমন্ত্রী যেকোনো সময় মন্ত্রী ও মন্ত্রণালয়ের কাজ মূল্যায়ন করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে পারেন।
রেলপথ সম্প্রসারণে অগ্রগতি
রেলপথ সম্প্রসারণে সরকারের বিভিন্ন উদ্যোগের কথাও তুলে ধরেন তথ্য উপদেষ্টা। তিনি বলেন, ইশতেহারে ঘোষিত আন্তঃনগর ও কমিউটার ট্রেন সেবা সম্প্রসারণে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হয়েছে। এর অংশ হিসেবে ঢাকা-গোপালগঞ্জ-ঢাকা রুটে ‘অভিযাত্রিক কমিউটার’ নামে নতুন এক জোড়া ট্রেন চালু করা হয়েছে।
ভারত সফরে আমন্ত্রণ প্রধানমন্ত্রীকে
ভারতে অনুষ্ঠেয় ব্রিকস সম্মেলনে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর অংশগ্রহণ প্রসঙ্গে জাহেদ উর রহমান বলেন, প্রধানমন্ত্রীকে বাংলাদেশের সরকারপ্রধান হিসেবে নয়, বিমসটেকের সভাপতি হিসেবে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। পাশাপাশি ভারতের প্রধানমন্ত্রীর পক্ষ থেকেও পৃথক আমন্ত্রণ রয়েছে।
তিনি জানান, সরকার গঠনের পর ভারতের প্রধানমন্ত্রীর পাঠানো বার্তায় তারেক রহমানকে ভারত সফরের আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। সুবিধাজনক সময়ে সেই সফর হতে পারে।
সাকিব-শেখ হাসিনা প্রসঙ্গেও মন্তব্য
সাকিব আল হাসান ও শেখ হাসিনার প্রসঙ্গেও কথা বলেন তথ্য উপদেষ্টা। সাকিব ভালো খেলোয়াড় হতে পারেন উল্লেখ করে তিনি বলেন, শেখ হাসিনার সঙ্গে যিনি ‘এলাইনড’ এবং এখনো আছেন, তিনি ‘নষ্ট-পচে যাওয়া মানুষ’।
সাকিবের সাম্প্রতিক বক্তব্যকে সরকারকে চাপে ফেলার চেষ্টা বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
তবে সাকিব আল হাসান কিংবা শেখ হাসিনা দেশে ফিরলে তাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে বলে জানান জাহেদ উর রহমান। দেশে ফিরলে তাদের বিচারিক প্রক্রিয়ার মুখোমুখি হতে হবে এবং আইনি অধিকারও নিশ্চিত করা হবে বলে জানান তিনি।
তথ্য উপদেষ্টা বলেন, ‘এটি ফ্যাসিস্ট আমল নয়, এটি একটি গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র।’ গুরুতর অপরাধের অভিযোগ থাকলেও সাকিব কিংবা শেখ হাসিনা কেউই নাগরিক ও সাংবিধানিক অধিকার থেকে বঞ্চিত হবেন না। আদালতের সিদ্ধান্তই চূড়ান্ত হবে এবং সংশ্লিষ্ট সবাইকে সেই সিদ্ধান্ত মেনে নিতে হবে।

ডেস্ক রিপোর্ট 























