ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে প্রশাসনিক কর্মকর্তা রেজাউল ইসলামের বদলি ও এক কর্মচারীকে মারধরের অভিযোগকে কেন্দ্র করে চিকিৎসক ও কর্মচারীদের মধ্যে উত্তেজনা দেখা দিয়েছে।
মঙ্গলবার দুপুরে হাসপাতালের প্রশাসনিক ব্লকে চিকিৎসক ও শিক্ষার্থীরা পরিচালকের কক্ষে প্রবেশ করে ‘দফা এক, দাবি এক—পরিচালকের পদত্যাগ’ স্লোগান দেন। বর্তমানে তারা পরিচালকের কক্ষের ভেতরে অবস্থান করছেন। অন্যদিকে, হাসপাতালের তৃতীয় ও চতুর্থ শ্রেণির কর্মচারীরা অবস্থান করছেন বাইরে।
সম্প্রতি ঢামেকের প্রশাসনিক কর্মকর্তা রেজাউল ইসলামকে ময়মনসিংহে বদলি করা হয়। একই সঙ্গে ময়মনসিংহের প্রশাসনিক কর্মকর্তা মোজাম্মেল হককে ঢামেকে বদলি করা হয়। তবে মোজাম্মেল হককে যোগদানে সুযোগ না দেওয়াকে কেন্দ্র করে চিকিৎসকদের একটি পক্ষ পরিচালকের সঙ্গে দফায় দফায় বৈঠক করে আসছিল।
সোমবার রেজাউলের কক্ষে তালা দেওয়ার চেষ্টা করলে তালা চাওয়াকে কেন্দ্র করে তৃতীয় শ্রেণির কর্মচারী মো. হানিফকে চিকিৎসকরা মারধর করেছেন বলে অভিযোগ ওঠে। এর প্রতিবাদে কর্মচারীরা পরিচালকের কাছে বিচার দাবি করেন।
মঙ্গলবার হানিফকে মারধরের ঘটনায় লিখিত স্মারকলিপি দিতে আসেন কর্মচারীরা। এ সময় চিকিৎসকরাও পরিচালকের কক্ষে অবস্থান নেন। ফলে দুই পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা তৈরি হয়।
এদিকে, রেজাউল ইসলামের বদলির আদেশও স্বাস্থ্য অধিদপ্তর বাতিল করেছে বলে জানা গেছে। এর পরই পরিচালকের পদত্যাগ দাবিতে অবস্থান কর্মসূচি শুরু করেন চিকিৎসক ও শিক্ষার্থীরা।
ঢামেক চতুর্থ শ্রেণির কর্মচারী সমিতির সভাপতি মো. আজিম বলেন, কর্মচারী হানিফকে মারধরের ঘটনার বিচার দাবি করতেই তারা স্মারকলিপি দিতে এসেছেন। তবে চিকিৎসকরা পরিচালকের কক্ষে অবস্থান করায় এখনো স্মারকলিপি দেওয়া সম্ভব হয়নি।
অন্যদিকে, কর্মসূচিতে ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় কমিটির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ডা. সাইফুল আলম বাদশা পরিচালকের বিরুদ্ধে জুলাই আন্দোলনের সময় চিকিৎসাসেবা বাধাগ্রস্ত করার অভিযোগ তোলেন। তার দাবি, পরিচালক পদত্যাগ না করা পর্যন্ত তাদের অবস্থান কর্মসূচি চলবে।
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ঘটনাস্থলে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।

ডেস্ক রিপোর্ট 























