ঢাকা , মঙ্গলবার, ১১ অগাস্ট ২০২৬, ২৭ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম ::
মা-বাবা নেই, দুই ভাইয়ের শূন্য ঘরে ‘গোল্ডেন এ প্লাস’ মুক্তিযুদ্ধের বিরোধিতাকারীদের বীরত্বের ইতিহাস নেই: রিজভী ভারতের ‘র’ প্রধানের ঢাকা সফর নিয়ে জল্পনার কিছু নেই: ডা. জাহেদ সাকিব এখন নষ্ট পচে যাওয়া মানুষ: ডা. জাহেদ আন্দোলনকারীদের ওপর ভর করে জামায়াত-বিএনপি খুন করছে: শেখ হাসিনা আন্দোলনকারীদের ওপর ভর করে জামায়াত-বিএনপি খুন করছে: শেখ হাসিনা কিউবার পরিণতি ইরানের মতো হতে পারে— মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর সতর্কবার্তা সড়ক দুর্ঘটনায় এ আর রহমানের ছেলে আমিন আহত, হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র সড়ক দুর্ঘটনা নিয়ে ভয়াবহ বর্ণনা দিলেন মেঘলা মুক্তা ভারতের ‘র’ প্রধানের ঢাকা সফর নিয়মিত কার্যক্রমের অংশ, জল্পনার কিছু নেই: তথ্য উপদেষ্টা

সাড়ে ৫ কোটি টাকা ব্যয়ে হাসপাতাল, দুই বছরেও শুরু হয়নি চিকিৎসাসেবা

  • ডেস্ক রিপোর্ট
  • আপডেট সময় ০১:৪৩:৫৯ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১১ অগাস্ট ২০২৬
  • ৬ বার পড়া হয়েছে

গাজীপুরের শ্রীপুরে প্রায় সাড়ে ৫ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত দমদমা ১০ শয্যা বিশিষ্ট মা ও শিশু কল্যাণ কেন্দ্রটি দুই বছর ধরে তালাবদ্ধ অবস্থায় পড়ে আছে। আধুনিক সুযোগ-সুবিধাসহ হাসপাতালটির নির্মাণকাজ শেষ হলেও প্রশাসনিক অনুমতির জটিলতায় এখনো চালু করা সম্ভব হয়নি। ফলে মিলছে না প্রয়োজনীয় বরাদ্দ, হচ্ছে না জনবল নিয়োগ।

স্থানীয়দের অভিযোগ, হাসপাতালটি চালু হলে শ্রীপুরসহ আশপাশের সীমান্তবর্তী তিন উপজেলার কয়েক হাজার মানুষ সহজে মাতৃ ও শিশুস্বাস্থ্যসেবা পেতেন। কিন্তু প্রতিদিন দূর-দূরান্ত থেকে রোগীরা এসে চিকিৎসা না পেয়েই ফিরে যাচ্ছেন। দীর্ঘদিন ব্যবহার না হওয়ায় নষ্ট হচ্ছে হাসপাতালের ভবন, আসবাবপত্র ও বিভিন্ন সরঞ্জামও।

জানা গেছে, গর্ভবতী মা, প্রসূতি ও নবজাতকের চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করা, মাতৃ ও শিশুমৃত্যু কমানো এবং প্রজনন স্বাস্থ্যসেবা ও টিকাদান কার্যক্রম জোরদারের লক্ষ্যেই ইউনিয়ন পর্যায়ে এই ১০ শয্যার মা ও শিশু কল্যাণ কেন্দ্র নির্মাণ করা হয়।

শ্রীপুর উপজেলার প্রহলাদপুর ইউনিয়নের দমদমা গ্রামে স্থানীয়দের দান করা ৪৩ শতাংশ জমির ওপর ৫ কোটি ৩৮ লাখ টাকা ব্যয়ে হাসপাতালটির নির্মাণকাজ বাস্তবায়ন করে স্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তর। ২০২৪ সালের জুনে নির্মাণকাজ শেষ হওয়ার পর ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান মেসার্স হ্যাভেন এন্টারপ্রাইজ ও মেসার্স রুপালী এন্টারপ্রাইজ হাসপাতালটি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে হস্তান্তর করে।

হাসপাতালটিতে রোগীর শয্যা, জেনারেটর, এসি, ফ্যান, চেয়ার-টেবিলসহ প্রয়োজনীয় বিভিন্ন সরঞ্জামও স্থাপন করা হয়েছে। তবে ভবন প্রস্তুত হলেও চিকিৎসক ও অন্যান্য প্রয়োজনীয় জনবল না থাকায় সেবা কার্যক্রম শুরু করা যাচ্ছে না।

স্থানীয় বাসিন্দা আব্দুস ছাত্তার বলেন, হাসপাতাল নির্মাণের জন্য গ্রামের কয়েকজন মিলে জমি দান করেছেন। আধুনিক ভবন ও প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম থাকলেও এখন পর্যন্ত চিকিৎসক বা সেবার সুযোগ পাননি তারা। চিকিৎসার জন্য জেলা শহরে যেতে হওয়ায় সময় ও খরচ দুটোই বাড়ছে।

আরেক বাসিন্দা আব্দুর রহিম বলেন, হাসপাতালটি চালু হলে সীমান্তবর্তী তিন উপজেলার বেশ কয়েকটি গ্রামের মানুষ সহজেই চিকিৎসাসেবা পেতেন। সবকিছু প্রস্তুত থাকার পরও শুধু অনুমতির কারণে এটি চালু না হওয়ায় স্থানীয়দের মধ্যে হতাশা তৈরি হয়েছে।

স্থানীয়দের দাবি, দমদমা, নলগাঁও, চিনাশুকানিয়া, দরপাড়াসহ আশপাশের প্রায় ২০টি গ্রামের হাজার হাজার মানুষ হাসপাতালটির ওপর নির্ভর করে আছেন। দ্রুত প্রশাসনিক জটিলতা কাটিয়ে হাসপাতালটি চালুর দাবি জানিয়েছেন তারা।

হাসপাতালের দেখভালের দায়িত্বে থাকা সহকারী নার্সিং অ্যাটেন্ডেন্ট জোবাইদা আক্তার রিমা জানান, তিনি ডেপুটেশনে সেখানে দায়িত্ব পালন করছেন। তবে দুই বছরের বেশি সময় ধরে বেতন-ভাতা না পাওয়ায় মানবেতর জীবনযাপন করছেন তিনি। বড় একটি হাসপাতালে একা দায়িত্ব পালন করাও নিরাপদ মনে করছেন না বলে জানান তিনি।

গাজীপুরের স্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের নির্বাহী প্রকৌশলী শিহাব উদ্দিন জানান, হাসপাতালটি নির্মাণে ব্যয় হয়েছে ৫ কোটি ৩৮ লাখ টাকা। নির্মাণকাজ শেষে ২০২৪ সালের জুনে পরিবার পরিকল্পনা কার্যালয়ের কমিটির মাধ্যমে হাসপাতালটি হস্তান্তর করা হয়েছে।

এ বিষয়ে পরিবার পরিকল্পনা কার্যালয়ের উপপরিচালক আবু তাহের মো. সানাউল্লাহ নুরী বলেন, প্রশাসনিক অনুমতি না থাকায় হাসপাতালটি চালু করা যাচ্ছে না। বিষয়টি মন্ত্রণালয় ও অধিদপ্তরকে জানিয়ে চিঠি দেওয়া হয়েছে। দ্রুতই হাসপাতালটির কার্যক্রম চালু করা সম্ভব হবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।

অন্যদিকে, স্থানীয়দের প্রশ্ন—কোটি কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত হাসপাতাল যদি রোগীর সেবায়ই না আসে, তাহলে এতদিন ধরে পড়ে থাকবে কেন? দ্রুত অনুমোদন, জনবল নিয়োগ ও প্রয়োজনীয় বরাদ্দ দিয়ে হাসপাতালটি চালুর দাবি তাদের।

ট্যাগস

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

জনপ্রিয় সংবাদ

মা-বাবা নেই, দুই ভাইয়ের শূন্য ঘরে ‘গোল্ডেন এ প্লাস’

সাড়ে ৫ কোটি টাকা ব্যয়ে হাসপাতাল, দুই বছরেও শুরু হয়নি চিকিৎসাসেবা

আপডেট সময় ০১:৪৩:৫৯ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১১ অগাস্ট ২০২৬

গাজীপুরের শ্রীপুরে প্রায় সাড়ে ৫ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত দমদমা ১০ শয্যা বিশিষ্ট মা ও শিশু কল্যাণ কেন্দ্রটি দুই বছর ধরে তালাবদ্ধ অবস্থায় পড়ে আছে। আধুনিক সুযোগ-সুবিধাসহ হাসপাতালটির নির্মাণকাজ শেষ হলেও প্রশাসনিক অনুমতির জটিলতায় এখনো চালু করা সম্ভব হয়নি। ফলে মিলছে না প্রয়োজনীয় বরাদ্দ, হচ্ছে না জনবল নিয়োগ।

স্থানীয়দের অভিযোগ, হাসপাতালটি চালু হলে শ্রীপুরসহ আশপাশের সীমান্তবর্তী তিন উপজেলার কয়েক হাজার মানুষ সহজে মাতৃ ও শিশুস্বাস্থ্যসেবা পেতেন। কিন্তু প্রতিদিন দূর-দূরান্ত থেকে রোগীরা এসে চিকিৎসা না পেয়েই ফিরে যাচ্ছেন। দীর্ঘদিন ব্যবহার না হওয়ায় নষ্ট হচ্ছে হাসপাতালের ভবন, আসবাবপত্র ও বিভিন্ন সরঞ্জামও।

জানা গেছে, গর্ভবতী মা, প্রসূতি ও নবজাতকের চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করা, মাতৃ ও শিশুমৃত্যু কমানো এবং প্রজনন স্বাস্থ্যসেবা ও টিকাদান কার্যক্রম জোরদারের লক্ষ্যেই ইউনিয়ন পর্যায়ে এই ১০ শয্যার মা ও শিশু কল্যাণ কেন্দ্র নির্মাণ করা হয়।

শ্রীপুর উপজেলার প্রহলাদপুর ইউনিয়নের দমদমা গ্রামে স্থানীয়দের দান করা ৪৩ শতাংশ জমির ওপর ৫ কোটি ৩৮ লাখ টাকা ব্যয়ে হাসপাতালটির নির্মাণকাজ বাস্তবায়ন করে স্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তর। ২০২৪ সালের জুনে নির্মাণকাজ শেষ হওয়ার পর ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান মেসার্স হ্যাভেন এন্টারপ্রাইজ ও মেসার্স রুপালী এন্টারপ্রাইজ হাসপাতালটি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে হস্তান্তর করে।

হাসপাতালটিতে রোগীর শয্যা, জেনারেটর, এসি, ফ্যান, চেয়ার-টেবিলসহ প্রয়োজনীয় বিভিন্ন সরঞ্জামও স্থাপন করা হয়েছে। তবে ভবন প্রস্তুত হলেও চিকিৎসক ও অন্যান্য প্রয়োজনীয় জনবল না থাকায় সেবা কার্যক্রম শুরু করা যাচ্ছে না।

স্থানীয় বাসিন্দা আব্দুস ছাত্তার বলেন, হাসপাতাল নির্মাণের জন্য গ্রামের কয়েকজন মিলে জমি দান করেছেন। আধুনিক ভবন ও প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম থাকলেও এখন পর্যন্ত চিকিৎসক বা সেবার সুযোগ পাননি তারা। চিকিৎসার জন্য জেলা শহরে যেতে হওয়ায় সময় ও খরচ দুটোই বাড়ছে।

আরেক বাসিন্দা আব্দুর রহিম বলেন, হাসপাতালটি চালু হলে সীমান্তবর্তী তিন উপজেলার বেশ কয়েকটি গ্রামের মানুষ সহজেই চিকিৎসাসেবা পেতেন। সবকিছু প্রস্তুত থাকার পরও শুধু অনুমতির কারণে এটি চালু না হওয়ায় স্থানীয়দের মধ্যে হতাশা তৈরি হয়েছে।

স্থানীয়দের দাবি, দমদমা, নলগাঁও, চিনাশুকানিয়া, দরপাড়াসহ আশপাশের প্রায় ২০টি গ্রামের হাজার হাজার মানুষ হাসপাতালটির ওপর নির্ভর করে আছেন। দ্রুত প্রশাসনিক জটিলতা কাটিয়ে হাসপাতালটি চালুর দাবি জানিয়েছেন তারা।

হাসপাতালের দেখভালের দায়িত্বে থাকা সহকারী নার্সিং অ্যাটেন্ডেন্ট জোবাইদা আক্তার রিমা জানান, তিনি ডেপুটেশনে সেখানে দায়িত্ব পালন করছেন। তবে দুই বছরের বেশি সময় ধরে বেতন-ভাতা না পাওয়ায় মানবেতর জীবনযাপন করছেন তিনি। বড় একটি হাসপাতালে একা দায়িত্ব পালন করাও নিরাপদ মনে করছেন না বলে জানান তিনি।

গাজীপুরের স্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের নির্বাহী প্রকৌশলী শিহাব উদ্দিন জানান, হাসপাতালটি নির্মাণে ব্যয় হয়েছে ৫ কোটি ৩৮ লাখ টাকা। নির্মাণকাজ শেষে ২০২৪ সালের জুনে পরিবার পরিকল্পনা কার্যালয়ের কমিটির মাধ্যমে হাসপাতালটি হস্তান্তর করা হয়েছে।

এ বিষয়ে পরিবার পরিকল্পনা কার্যালয়ের উপপরিচালক আবু তাহের মো. সানাউল্লাহ নুরী বলেন, প্রশাসনিক অনুমতি না থাকায় হাসপাতালটি চালু করা যাচ্ছে না। বিষয়টি মন্ত্রণালয় ও অধিদপ্তরকে জানিয়ে চিঠি দেওয়া হয়েছে। দ্রুতই হাসপাতালটির কার্যক্রম চালু করা সম্ভব হবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।

অন্যদিকে, স্থানীয়দের প্রশ্ন—কোটি কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত হাসপাতাল যদি রোগীর সেবায়ই না আসে, তাহলে এতদিন ধরে পড়ে থাকবে কেন? দ্রুত অনুমোদন, জনবল নিয়োগ ও প্রয়োজনীয় বরাদ্দ দিয়ে হাসপাতালটি চালুর দাবি তাদের।