ঢাকা , মঙ্গলবার, ১১ অগাস্ট ২০২৬, ২৭ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম ::
ইউক্রেনে ৫ লাখ সৈন্য পাঠানোর প্রস্তুতি রাশিয়ার, চালাতে পারে পারমাণবিক হামলা প্রায় ৩ বছর বন্ধ থাকার পর ফিরছে ফিলিস্তিনি ক্লাব ফুটবল অবৈধ যুদ্ধে জড়িয়ে বের হওয়ার পথ হারিয়েছেন ট্রাম্প: : মার্কিন সিনেটর শিক্ষকদের কক্ষে রেখে তালা ঝুলিয়ে দিলো ফেল করা শিক্ষার্থীরা শিক্ষক নিয়োগে ম্যানেজিং কমিটিকে ক্ষমতা দেওয়া কোনোভাবেই মেনে নেওয়া হবে না: জামায়াত আমির শিক্ষার্থীরা সপ্তাহে ১ দিন বিনামূল্যে জুলাই জাদুঘর পরিদর্শন করতে পারবে: তথ্য উপদেষ্টা প্রত্যেক এমপিকে ডাকো, সব জায়গায় আগুন দেবে: শেখ হাসিনা কলম্বিয়ায় শক্তিশালী ভূমিকম্পে নিহত বেড়ে ১৩২, জরুরি অবস্থা জারি এক ব্যক্তির পেটে মিলল ১৮০ পেরেক, চুম্বকসহ এক কেজির বেশি নাট-বল্টু! আনোয়ার ইব্রাহিম বাংলাদেশের মূল্যবান বন্ধু, দ্রুত সুস্থতা কামনায় প্রধানমন্ত্রীর দোয়া

কোম্পানি আইনে চালু হচ্ছে সুপার স্পেশালাইজড হাসপাতাল

  • ডেস্ক রিপোর্ট
  • আপডেট সময় ১১:০১:০৩ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১১ অগাস্ট ২০২৬
  • ১২ বার পড়া হয়েছে

অবশেষে জট কাটছে শাহবাগের সুপার স্পেশালাইজড হাসপাতালের। প্রায় চার বছর ধরে অব্যবহৃত পড়ে থাকা দেড় হাজার কোটি টাকার এই হাসপাতাল পরিচালনার পদ্ধতিও এখন প্রায় চূড়ান্ত। কোম্পানি আইনের আওতায় করপোরেট ব্যবস্থাপনায় পরিচালিত হবে হাসপাতালটি। দ্রুতই গঠন করা হবে আলাদা পরিচালনা পর্ষদ। এরপর শুরু হবে নতুন করে জনবল নিয়োগ।

সিঙ্গাপুরের একটি হাসপাতালের আদলে নির্মিত এই হাসপাতালটি দক্ষিণ কোরিয়ার সহায়তায় তৈরি করা হয়। ২০২২ সালের ১৪ সেপ্টেম্বর উদ্বোধনের পর নানা অনিয়ম, দুর্নীতি ও অব্যবস্থাপনার কারণে কার্যক্রম কাঙ্ক্ষিতভাবে এগোয়নি।

নতুন উদ্যোগের অংশ হিসেবে সংশোধন করা হয়েছে বাংলাদেশ মেডিকেল ইউনিভার্সিটি আইন। এর আওতায় হাসপাতাল পরিচালনায় থাকবে আলাদা বোর্ড অব ডিরেক্টরস। পরিচালনায় অভিজ্ঞ ব্যক্তিদের নিয়ে আগামী সপ্তাহেই এই বোর্ড গঠনের সম্ভাবনা রয়েছে।

হাসপাতালের ১০ শতাংশ মালিকানা সরকারের এবং ৯০ শতাংশ বাংলাদেশ মেডিকেল ইউনিভার্সিটির। উপাচার্য থাকবেন চেয়ারম্যান হিসেবে, ব্যবস্থাপনা পরিচালকের দায়িত্বে থাকবেন একজন উপ-উপাচার্য। আর প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা নিয়োগ দেওয়া হবে বাইরে থেকে—করপোরেট হাসপাতাল পরিচালনায় অভিজ্ঞ কাউকে।

পরিচালনা পর্ষদের অধীনে গঠন করা হবে নিয়োগ কমিটি। তাদের মাধ্যমে চুক্তিভিত্তিক জনবল নিয়োগ দেওয়া হবে। আলাদা বেতন কাঠামোর পাশাপাশি স্বাস্থ্যকর্মীরা লভ্যাংশও পাবেন। তবে হাসপাতালে কর্মরত চিকিৎসক ও অন্যান্য কর্মীরা কোনো ধরনের প্রাইভেট প্র্যাকটিস করতে পারবেন না।

স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার সাখাওয়াত হোসেন জানিয়েছেন, হাসপাতালটি লাভজনক না অলাভজনক হবে, সে বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। তবে হাসপাতাল থেকে আয় হলে তা ব্যক্তিগতভাবে নেওয়া হবে না; বরং হাসপাতালের উন্নয়ন ও আধুনিকায়নে পুনর্বিনিয়োগ করা হবে।

তিনি বলেন, বিশ্বমানের চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করাই সরকারের লক্ষ্য। আগামী দুই থেকে তিন মাসের মধ্যে, এমনকি দুই মাসের মধ্যেও হাসপাতালটি চালুর পরিকল্পনা রয়েছে। এখানে থাকবে দক্ষ চিকিৎসক, আধুনিক পরীক্ষা-নিরীক্ষা ও উন্নত চিকিৎসা সুবিধা।

সরকারের প্রত্যাশা, হাসপাতালটি পূর্ণাঙ্গভাবে চালু হলে জটিল রোগের চিকিৎসায় বিদেশমুখী রোগীর সংখ্যা কমবে এবং দেশেই বিশ্বমানের চিকিৎসার বিকল্প তৈরি হবে।

৭৫৮ শয্যার এই হাসপাতালে রয়েছে ১০০ শয্যার আইসিইউ ইউনিট ও ১৪টি অত্যাধুনিক অপারেশন থিয়েটার। এছাড়া লিভার, কিডনি ও কার্ডিয়াকসহ পাঁচটি বিশেষায়িত সেন্টারের মাধ্যমে উন্নত চিকিৎসাসেবা দেওয়ার সক্ষমতা রয়েছে।

ট্যাগস

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

জনপ্রিয় সংবাদ

ইউক্রেনে ৫ লাখ সৈন্য পাঠানোর প্রস্তুতি রাশিয়ার, চালাতে পারে পারমাণবিক হামলা

কোম্পানি আইনে চালু হচ্ছে সুপার স্পেশালাইজড হাসপাতাল

আপডেট সময় ১১:০১:০৩ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১১ অগাস্ট ২০২৬

অবশেষে জট কাটছে শাহবাগের সুপার স্পেশালাইজড হাসপাতালের। প্রায় চার বছর ধরে অব্যবহৃত পড়ে থাকা দেড় হাজার কোটি টাকার এই হাসপাতাল পরিচালনার পদ্ধতিও এখন প্রায় চূড়ান্ত। কোম্পানি আইনের আওতায় করপোরেট ব্যবস্থাপনায় পরিচালিত হবে হাসপাতালটি। দ্রুতই গঠন করা হবে আলাদা পরিচালনা পর্ষদ। এরপর শুরু হবে নতুন করে জনবল নিয়োগ।

সিঙ্গাপুরের একটি হাসপাতালের আদলে নির্মিত এই হাসপাতালটি দক্ষিণ কোরিয়ার সহায়তায় তৈরি করা হয়। ২০২২ সালের ১৪ সেপ্টেম্বর উদ্বোধনের পর নানা অনিয়ম, দুর্নীতি ও অব্যবস্থাপনার কারণে কার্যক্রম কাঙ্ক্ষিতভাবে এগোয়নি।

নতুন উদ্যোগের অংশ হিসেবে সংশোধন করা হয়েছে বাংলাদেশ মেডিকেল ইউনিভার্সিটি আইন। এর আওতায় হাসপাতাল পরিচালনায় থাকবে আলাদা বোর্ড অব ডিরেক্টরস। পরিচালনায় অভিজ্ঞ ব্যক্তিদের নিয়ে আগামী সপ্তাহেই এই বোর্ড গঠনের সম্ভাবনা রয়েছে।

হাসপাতালের ১০ শতাংশ মালিকানা সরকারের এবং ৯০ শতাংশ বাংলাদেশ মেডিকেল ইউনিভার্সিটির। উপাচার্য থাকবেন চেয়ারম্যান হিসেবে, ব্যবস্থাপনা পরিচালকের দায়িত্বে থাকবেন একজন উপ-উপাচার্য। আর প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা নিয়োগ দেওয়া হবে বাইরে থেকে—করপোরেট হাসপাতাল পরিচালনায় অভিজ্ঞ কাউকে।

পরিচালনা পর্ষদের অধীনে গঠন করা হবে নিয়োগ কমিটি। তাদের মাধ্যমে চুক্তিভিত্তিক জনবল নিয়োগ দেওয়া হবে। আলাদা বেতন কাঠামোর পাশাপাশি স্বাস্থ্যকর্মীরা লভ্যাংশও পাবেন। তবে হাসপাতালে কর্মরত চিকিৎসক ও অন্যান্য কর্মীরা কোনো ধরনের প্রাইভেট প্র্যাকটিস করতে পারবেন না।

স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার সাখাওয়াত হোসেন জানিয়েছেন, হাসপাতালটি লাভজনক না অলাভজনক হবে, সে বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। তবে হাসপাতাল থেকে আয় হলে তা ব্যক্তিগতভাবে নেওয়া হবে না; বরং হাসপাতালের উন্নয়ন ও আধুনিকায়নে পুনর্বিনিয়োগ করা হবে।

তিনি বলেন, বিশ্বমানের চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করাই সরকারের লক্ষ্য। আগামী দুই থেকে তিন মাসের মধ্যে, এমনকি দুই মাসের মধ্যেও হাসপাতালটি চালুর পরিকল্পনা রয়েছে। এখানে থাকবে দক্ষ চিকিৎসক, আধুনিক পরীক্ষা-নিরীক্ষা ও উন্নত চিকিৎসা সুবিধা।

সরকারের প্রত্যাশা, হাসপাতালটি পূর্ণাঙ্গভাবে চালু হলে জটিল রোগের চিকিৎসায় বিদেশমুখী রোগীর সংখ্যা কমবে এবং দেশেই বিশ্বমানের চিকিৎসার বিকল্প তৈরি হবে।

৭৫৮ শয্যার এই হাসপাতালে রয়েছে ১০০ শয্যার আইসিইউ ইউনিট ও ১৪টি অত্যাধুনিক অপারেশন থিয়েটার। এছাড়া লিভার, কিডনি ও কার্ডিয়াকসহ পাঁচটি বিশেষায়িত সেন্টারের মাধ্যমে উন্নত চিকিৎসাসেবা দেওয়ার সক্ষমতা রয়েছে।