ঢাকা , মঙ্গলবার, ১৮ অগাস্ট ২০২৬, ৩ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম ::
ঝগড়ার পর ৯৯৯-এ ফোন দিলেন স্ত্রী, ৫৪টি জাল নোটসহ স্বামী গ্রেপ্তার কেউ ব্যক্তি আক্রমণ করলে আমি তাকে চুমু দেব, এমন সুশীল আমি না: রাশেদ খান অস্ট্রেলিয়াকে হারাবে বাংলাদেশ, আশা করেননি ডি ভিলিয়ার্স ‘তারেক রহমান ভারতে না এলে সুযোগ হারাবে, বন্ধ হতে পারে যোগাযোগের পথ’ মহাসড়কে এআই ক্যামেরা স্থাপন করায় পরিবহনে চাঁদাবাজি কমে আসবে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী পদত্যাগ করছেন পিএসসি চেয়ারম্যান অধ্যাপক মোবাশ্বের মোনেম আমরা টহল দেওয়া শুরু করলে অনেক এলাকা থেকে জামায়াত-শিবির নাই হয়ে যাবে: নুর বলিউড সিনেমা বানিয়ে যুদ্ধের পরাজয় মুছে ফেলা যায় না: পাকিস্তানের সেনাবাহিনী অপ্রয়োজনীয় খাতে ব্যয় কমানোর চেষ্টা করছে সরকার: প্রধানমন্ত্রী ভারতজুড়ে ব্যাপক ধরপাকড়, আইএসআই সম্পৃক্ততার অভিযোগে আটক শত শত

“অর্থ সংকটে অসহায় মা: নিজের কন্যাকে বিক্রি করতে বাধ্য হওয়ার ঝুঁকি”

  • ডেস্ক রিপোর্ট
  • আপডেট সময় ০৮:৪৮:৪৬ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১২ সেপ্টেম্বর ২০২৫
  • ৩৭১ বার পড়া হয়েছে

শরীয়তপুরের জান্নাতুল ফেরদৌস নামের এক মা চরম আর্থিক সংকটে পড়েছেন। অভাব-অনটন, ঋণের পাহাড়চাপ এবং দেনাদারদের লাগাতার হুমকি পুরো পরিবারকে দিশেহারা করে তুলেছে। পরিস্থিতি এতটা কঠিন যে তিনি এক মেয়েকে বিক্রি করার মর্মান্তিক সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য হয়েছেন।

পরিবারের তথ্য অনুযায়ী, স্বামী রুবেল সরদার স্থানীয় একটি বেকারিতে কাজ করতেন। কিন্তু ব্যবসায়িক লেনদেনের জটিলতায় তিনি প্রায় ১০ লক্ষ টাকার ঋণের জালে জড়িয়ে পড়েছেন। দেনাদারদের চাপ, ভয়ভীতি ও অপমান প্রতিদিন পরিবারটিকে অস্থির করে তুলছে।

জান্নাতুল ফেরদৌস অশ্রুসিক্ত কণ্ঠে বলেন, ‘আমার তিন মেয়ে মানসুরা, মাইমুনা ও মরিয়মকে নিয়ে বেঁচে থাকতে চাই। কিন্তু আর্থিক সংকটে খাবার জোগাড় করাও কঠিন হয়ে গেছে। অনেক দিন অর্ধেক খেয়ে দিন পার করছি। দেনাদারদের চাপে বাধ্য হয়ে এক মেয়েকে বিক্রির সিদ্ধান্ত নিয়েছি। আমি চাই না সন্তানদের থেকে আলাদা হতে। তাই সমাজের সচ্ছল ও হৃদয়বান মানুষদের কাছে সাহায্যের হাত বাড়াচ্ছি।’

রুবেল সরদারও বলেন, ‘দেনাদারদের ভয়ভীতি প্রতিদিন আমাদের অস্থির করে তুলছে। এখন সমাজের দয়ালু ও সহানুভূতিশীল মানুষ ছাড়া বাঁচার কোনো পথ নেই।’

স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আজাহার খান জানান, ‘পরিবারটির অসহায়তার খবর পেয়ে আমি তাদের পাশে দাঁড়িয়েছি। সন্তান বিক্রির সিদ্ধান্ত থেকে বিরত থাকার পরামর্শ দিয়েছি। সরকারিভাবে ও সামাজিকভাবে সাহায্যের চেষ্টা করছি। সমাজের সবাই একসাথে এগিয়ে এলে পরিবারটি অন্তত স্বাভাবিকভাবে বেঁচে থাকতে পারবে।’

বর্তমানে মানবিক সহায়তা ছাড়া এই পরিবারটির সামনে কোনো পথ খোলা নেই। স্থানীয় সমাজ ও দেশের হৃদয়বান মানুষের সহযোগিতাই তাদের বেঁচে থাকার একমাত্র ভরসা।

ট্যাগস

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

জনপ্রিয় সংবাদ

ঝগড়ার পর ৯৯৯-এ ফোন দিলেন স্ত্রী, ৫৪টি জাল নোটসহ স্বামী গ্রেপ্তার

“অর্থ সংকটে অসহায় মা: নিজের কন্যাকে বিক্রি করতে বাধ্য হওয়ার ঝুঁকি”

আপডেট সময় ০৮:৪৮:৪৬ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১২ সেপ্টেম্বর ২০২৫

শরীয়তপুরের জান্নাতুল ফেরদৌস নামের এক মা চরম আর্থিক সংকটে পড়েছেন। অভাব-অনটন, ঋণের পাহাড়চাপ এবং দেনাদারদের লাগাতার হুমকি পুরো পরিবারকে দিশেহারা করে তুলেছে। পরিস্থিতি এতটা কঠিন যে তিনি এক মেয়েকে বিক্রি করার মর্মান্তিক সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য হয়েছেন।

পরিবারের তথ্য অনুযায়ী, স্বামী রুবেল সরদার স্থানীয় একটি বেকারিতে কাজ করতেন। কিন্তু ব্যবসায়িক লেনদেনের জটিলতায় তিনি প্রায় ১০ লক্ষ টাকার ঋণের জালে জড়িয়ে পড়েছেন। দেনাদারদের চাপ, ভয়ভীতি ও অপমান প্রতিদিন পরিবারটিকে অস্থির করে তুলছে।

জান্নাতুল ফেরদৌস অশ্রুসিক্ত কণ্ঠে বলেন, ‘আমার তিন মেয়ে মানসুরা, মাইমুনা ও মরিয়মকে নিয়ে বেঁচে থাকতে চাই। কিন্তু আর্থিক সংকটে খাবার জোগাড় করাও কঠিন হয়ে গেছে। অনেক দিন অর্ধেক খেয়ে দিন পার করছি। দেনাদারদের চাপে বাধ্য হয়ে এক মেয়েকে বিক্রির সিদ্ধান্ত নিয়েছি। আমি চাই না সন্তানদের থেকে আলাদা হতে। তাই সমাজের সচ্ছল ও হৃদয়বান মানুষদের কাছে সাহায্যের হাত বাড়াচ্ছি।’

রুবেল সরদারও বলেন, ‘দেনাদারদের ভয়ভীতি প্রতিদিন আমাদের অস্থির করে তুলছে। এখন সমাজের দয়ালু ও সহানুভূতিশীল মানুষ ছাড়া বাঁচার কোনো পথ নেই।’

স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আজাহার খান জানান, ‘পরিবারটির অসহায়তার খবর পেয়ে আমি তাদের পাশে দাঁড়িয়েছি। সন্তান বিক্রির সিদ্ধান্ত থেকে বিরত থাকার পরামর্শ দিয়েছি। সরকারিভাবে ও সামাজিকভাবে সাহায্যের চেষ্টা করছি। সমাজের সবাই একসাথে এগিয়ে এলে পরিবারটি অন্তত স্বাভাবিকভাবে বেঁচে থাকতে পারবে।’

বর্তমানে মানবিক সহায়তা ছাড়া এই পরিবারটির সামনে কোনো পথ খোলা নেই। স্থানীয় সমাজ ও দেশের হৃদয়বান মানুষের সহযোগিতাই তাদের বেঁচে থাকার একমাত্র ভরসা।