ঢাকা , শনিবার, ২৭ জুন ২০২৬, ১২ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম ::
বেনজীরকে ফেরাতে ইউএইর জবাবের অপেক্ষায় বাংলাদেশ: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বিকাশ দোকানে ডাকাতি: প্রধান আসামি মামুন গ্রেফতার মেসির প্রশংসায় বিনয়ী মেদিনা, বললেন—‘অধিনায়কের জন্য জীবন দিতেও প্রস্তুত’ অপারেশন সিঁদুর: নিহত সেনাদের তালিকা প্রকাশ ভারতের রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনে বাংলাদেশ-মিয়ানমার আলোচনায় পাশে থাকবে চীন শাহজালাল (র.) মাজারের দানের অর্থে স্বচ্ছতা আনতে কমিটি, এক মাসের মধ্যে সুপারিশ সরকারি হাসপাতালে সন্তান জন্ম দিলেই মিলবে এক গ্রাম সোনার আংটি, ব্যতিক্রমী উদ্যোগে আলোচনায় মুখ্যমন্ত্রী বিজয় হরমুজ প্রণালি থেকে বছরে ৪০ বিলিয়ন ডলার আয় করবে ইরান নরসিংদীতে কুকুরের গলায় ইট বেঁধে নদীতে ফেলে হত্যা, ভাইরাল ভিডিওতে তোলপাড় মাদক নির্মূলে ব্যবস্থা না নিলে এমপি পদ ছাড়ব, গোলাবাড়িতে ১০ হাজার মানুষ নিয়ে লংমার্চের হুঁশিয়ারি

এবার বিধানসভাতেও থালাপতি ম্যাজিক, বিরোধী শিবিরে ভাঙন

  • ডেস্ক রিপোর্ট
  • আপডেট সময় ০৫:৩০:০১ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৩ মে ২০২৬
  • ৭২ বার পড়া হয়েছে

এবার তামিলনাড়ুর রাজনীতিতে ঐতিহাসিক পালাবদলের মধ্য দিয়ে সুপারস্টার অভিনেতা জোসেফ ‘থালাপতি’ বিজয় আনুষ্ঠানিকভাবে মুখ্যমন্ত্রীর দায়িত্ব নিশ্চিত করেছেন। বুধবার (১৩ মে) নাটকীয় আস্থা ভোটে জয় পেয়ে তিনি রাজ্যের নতুন সরকারপ্রধান হিসেবে নিজের অবস্থান পাকাপোক্ত করেন। রাজ্য বিধানসভায় আস্থা ভোটে বিজয়ের পক্ষে ভোট পড়ে ১৪৪টি, বিপক্ষে ২২টি, আর কয়েকজন নিরপেক্ষ থাকেন। ভোটাভুটির আগে ডিএমকে তাদের ৫৯ বিধায়ক নিয়ে ওয়াকআউট করে, আর এআইএডিএমকের একটি অংশ দলীয় নির্দেশ অমান্য করে বিভক্ত অবস্থান নেয়। ফল ঘোষণার পর বিজয় বলেন, “টিভিকের প্রতীক বাঁশির শব্দ ইতিহাস বদলে দিয়েছে। আমরা নিজেদের সংখ্যালঘু সরকার বলব, যারা সংখ্যালঘুদের অধিকার রক্ষায় করবে।”

গত ৪ মে ঘোষিত নির্বাচনী ফলাফলে বিজয়ের দল তামিলাগা ভেত্রি কাজাগাম (টিভিকে) ২৩৪ আসনের মধ্যে ১০৮টিতে জয় পায়, যা সংখ্যাগরিষ্ঠতার জন্য প্রয়োজনীয় আসনের চেয়ে ১০টি কম ছিল। পরে কংগ্রেস, বাম জোট, বিদুথালাই চিরুথাইগাল কাচ্চি (ভিসিকে), ইন্ডিয়ান ইউনিয়ন মুসলিম লীগসহ কয়েকটি দলের সমর্থন নিশ্চিত করে সরকার গঠনের পথ সুগম হয়। মিত্রদের সমর্থনে বিজয়ের পক্ষে প্রয়োজনীয় সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিশ্চিত হয়। পাশাপাশি এআইএডিএমকের ভেতরে বড় ধরনের বিভক্তি তার অবস্থান আরও শক্তিশালী করে।

বিশেষ করে এআইএডিএমকের ২৪ জন বিধায়ক বিজয়ের পক্ষে ভোট দেন, যা দলটির ভেতরে গুরুতর নেতৃত্ব সংকটের ইঙ্গিত দেয়। দলীয় প্রধান এডাপ্পাডি কে পালানিস্বামীর নির্দেশ উপেক্ষা করে এই সমর্থন রাজ্যের রাজনীতিতে নতুন সমীকরণ তৈরি করেছে। দলীয় বিদ্রোহের নেতৃত্বে থাকা সি ভি শানমুগম ও এস পি ভেলুমানি প্রকাশ্যে ইঙ্গিত দিয়েছেন, পরপর চার নির্বাচনী পরাজয়ের পর এআইএডিএমকের বর্তমান নেতৃত্ব পরিবর্তন জরুরি। এআইএডিএমকে দ্রুত পাল্টা প্রতিক্রিয়া জানিয়ে বিদ্রোহী নেতাদের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নেয় এবং অভিযোগ তোলে যে তারা মন্ত্রিত্বের লোভে দলীয় অবস্থান দুর্বল করেছে।

দীর্ঘ ৬২ বছর ধরে ডিএমকে ও এআইএডিএমকের দ্বিমুখী আধিপত্যে পরিচালিত তামিলনাড়ুর রাজনীতিতে বিজয়ের উত্থান এক নতুন যুগের সূচনা হিসেবে দেখা হচ্ছে। চলচ্চিত্র জগত থেকে সরাসরি রাজনীতির কেন্দ্রবিন্দুতে উঠে এসে বিজয় এখন রাজ্যের ক্ষমতার শীর্ষে। তবে সংখ্যাগরিষ্ঠতা অল্প ব্যবধানে নিশ্চিত হওয়ায় তার সরকারকে এখন থেকেই রাজনৈতিক ভারসাম্য, জোট রক্ষা এবং বিরোধী শিবিরের চাপ সামলানোর কঠিন পরীক্ষার মুখোমুখি হতে হবে।

ট্যাগস

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

জনপ্রিয় সংবাদ

বেনজীরকে ফেরাতে ইউএইর জবাবের অপেক্ষায় বাংলাদেশ: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

এবার বিধানসভাতেও থালাপতি ম্যাজিক, বিরোধী শিবিরে ভাঙন

আপডেট সময় ০৫:৩০:০১ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৩ মে ২০২৬

এবার তামিলনাড়ুর রাজনীতিতে ঐতিহাসিক পালাবদলের মধ্য দিয়ে সুপারস্টার অভিনেতা জোসেফ ‘থালাপতি’ বিজয় আনুষ্ঠানিকভাবে মুখ্যমন্ত্রীর দায়িত্ব নিশ্চিত করেছেন। বুধবার (১৩ মে) নাটকীয় আস্থা ভোটে জয় পেয়ে তিনি রাজ্যের নতুন সরকারপ্রধান হিসেবে নিজের অবস্থান পাকাপোক্ত করেন। রাজ্য বিধানসভায় আস্থা ভোটে বিজয়ের পক্ষে ভোট পড়ে ১৪৪টি, বিপক্ষে ২২টি, আর কয়েকজন নিরপেক্ষ থাকেন। ভোটাভুটির আগে ডিএমকে তাদের ৫৯ বিধায়ক নিয়ে ওয়াকআউট করে, আর এআইএডিএমকের একটি অংশ দলীয় নির্দেশ অমান্য করে বিভক্ত অবস্থান নেয়। ফল ঘোষণার পর বিজয় বলেন, “টিভিকের প্রতীক বাঁশির শব্দ ইতিহাস বদলে দিয়েছে। আমরা নিজেদের সংখ্যালঘু সরকার বলব, যারা সংখ্যালঘুদের অধিকার রক্ষায় করবে।”

গত ৪ মে ঘোষিত নির্বাচনী ফলাফলে বিজয়ের দল তামিলাগা ভেত্রি কাজাগাম (টিভিকে) ২৩৪ আসনের মধ্যে ১০৮টিতে জয় পায়, যা সংখ্যাগরিষ্ঠতার জন্য প্রয়োজনীয় আসনের চেয়ে ১০টি কম ছিল। পরে কংগ্রেস, বাম জোট, বিদুথালাই চিরুথাইগাল কাচ্চি (ভিসিকে), ইন্ডিয়ান ইউনিয়ন মুসলিম লীগসহ কয়েকটি দলের সমর্থন নিশ্চিত করে সরকার গঠনের পথ সুগম হয়। মিত্রদের সমর্থনে বিজয়ের পক্ষে প্রয়োজনীয় সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিশ্চিত হয়। পাশাপাশি এআইএডিএমকের ভেতরে বড় ধরনের বিভক্তি তার অবস্থান আরও শক্তিশালী করে।

বিশেষ করে এআইএডিএমকের ২৪ জন বিধায়ক বিজয়ের পক্ষে ভোট দেন, যা দলটির ভেতরে গুরুতর নেতৃত্ব সংকটের ইঙ্গিত দেয়। দলীয় প্রধান এডাপ্পাডি কে পালানিস্বামীর নির্দেশ উপেক্ষা করে এই সমর্থন রাজ্যের রাজনীতিতে নতুন সমীকরণ তৈরি করেছে। দলীয় বিদ্রোহের নেতৃত্বে থাকা সি ভি শানমুগম ও এস পি ভেলুমানি প্রকাশ্যে ইঙ্গিত দিয়েছেন, পরপর চার নির্বাচনী পরাজয়ের পর এআইএডিএমকের বর্তমান নেতৃত্ব পরিবর্তন জরুরি। এআইএডিএমকে দ্রুত পাল্টা প্রতিক্রিয়া জানিয়ে বিদ্রোহী নেতাদের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নেয় এবং অভিযোগ তোলে যে তারা মন্ত্রিত্বের লোভে দলীয় অবস্থান দুর্বল করেছে।

দীর্ঘ ৬২ বছর ধরে ডিএমকে ও এআইএডিএমকের দ্বিমুখী আধিপত্যে পরিচালিত তামিলনাড়ুর রাজনীতিতে বিজয়ের উত্থান এক নতুন যুগের সূচনা হিসেবে দেখা হচ্ছে। চলচ্চিত্র জগত থেকে সরাসরি রাজনীতির কেন্দ্রবিন্দুতে উঠে এসে বিজয় এখন রাজ্যের ক্ষমতার শীর্ষে। তবে সংখ্যাগরিষ্ঠতা অল্প ব্যবধানে নিশ্চিত হওয়ায় তার সরকারকে এখন থেকেই রাজনৈতিক ভারসাম্য, জোট রক্ষা এবং বিরোধী শিবিরের চাপ সামলানোর কঠিন পরীক্ষার মুখোমুখি হতে হবে।