আধুনিক কাতারের রূপকার, দেশটিকে বিশ্বের অন্যতম ধনী ও প্রভাবশালী রাষ্ট্রে পরিণত করার নেপথ্যের নেতা শেখ হামাদ বিন খলিফা আল থানিকে রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় দাফন করা হয়েছে। ৭৪ বছর বয়সে তার মৃত্যুর পর রোববার রাজধানী দোহায় অনুষ্ঠিত হয় জানাজা।

মাগরিবের নামাজের পর ইমাম মুহাম্মদ ইবন আবদুল ওয়াহহাব মসজিদে জানাজায় অংশ নেন হাজারো মানুষ। পরে বর্তমান আমির শেখ তামিম বিন হামাদ আল থানি ও পরিবারের সদস্যরা মরদেহ কাঁধে নিয়ে দোহার উত্তরের লুসাইল কবরস্থানে তাকে দাফন করেন। পুরো আয়োজন ছিল ইসলামী রীতিনীতি অনুযায়ী অত্যন্ত সাদামাটা।

১৯৯৫ থেকে ২০১৩ সাল পর্যন্ত কাতারের আমির হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন শেখ হামাদ। তার নেতৃত্বেই প্রাকৃতিক গ্যাসভিত্তিক অর্থনীতির বিকাশ ঘটিয়ে কাতার বিশ্বের অন্যতম ধনী রাষ্ট্রে পরিণত হয়। একই সময়ে যাত্রা শুরু করে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরা এবং তার শাসনামলেই কাতার বিশ্ব কূটনীতিতে শক্ত অবস্থান তৈরি করে।

২০০৪ সালে দেশের প্রথম স্থায়ী সংবিধান কার্যকর, নারীদের রাজনৈতিক অংশগ্রহণের সুযোগ সৃষ্টি এবং ২০১৩ সালে স্বেচ্ছায় ক্ষমতা ছেলে শেখ তামিমের হাতে তুলে দেওয়ার মতো সিদ্ধান্তের জন্যও তিনি প্রশংসিত হন।

অনেকের মতে, শেখ হামাদ শুধু একজন শাসক নন, বরং এমন এক দূরদর্শী নেতা, যার হাত ধরেই মরুভূমির ছোট্ট কাতার বিশ্বমঞ্চে প্রভাবশালী রাষ্ট্র হিসেবে নিজেদের প্রতিষ্ঠিত করেছে।