রাজশাহীর তানোরে পরিত্যক্ত গভীর নলকূপের গর্তে পড়ে প্রাণ হারানো শিশু সাজিদের ‘মৃত্যুকূপ’ দেখতে জেলার বিভিন্ন প্রান্ত থেকে মানুষ ছুটে আসছেন। মর্মান্তিক এই ঘটনায় আবেগাপ্লুত সাধারণ মানুষ ঘটনাস্থলে গিয়ে শোক ও বেদনা প্রকাশ করছেন।
শনিবার (১৩ ডিসেম্বর) বিকেলে সরেজমিনে তানোর উপজেলার কোয়েলহাট পূর্বপাড়া গ্রামে গিয়ে দেখা গেছে, রাজশাহী ছাড়াও চাঁপাইনবাবগঞ্জ, নাটোর, নওগাঁ ও জয়পুরহাটসহ আশপাশের বিভিন্ন জেলা থেকে লোকজন সেখানে ভিড় করছেন। তারা শিশু সাজিদ যে গভীর নলকূপের গর্তে পড়ে গিয়েছিল, সেটি ঘুরে দেখছেন এবং নীরবে শোক প্রকাশ করছেন।
চাঁপাইনবাবগঞ্জের শিবগঞ্জ উপজেলার রাণীহাটি এলাকা থেকে আসা ৭০ বছর বয়সি ইসরাইল বলেন, “ফেসবুক, পত্রিকা আর মানুষের মুখে মুখে ঘটনাটা শোনার পর নিজেকে আর ধরে রাখতে পারিনি। শিশুটিকে দেখতে পাইনি, তাই সে যে গর্তে পড়ে মারা গেছে সেটি দেখতে এলাম। ঘটনাটা ভীষণ হৃদয়বিদারক। আমরা ছয়জন শুধু নিজের মনকে একটু বোঝাতে এসেছি।”
নওগাঁর নিয়ামতপুর থেকে আসা শহিদুল ইসলাম জানান, তিনি স্ত্রী-সন্তান নিয়ে ভোরেই রওনা হয়েছেন। আর মেহেরপুরের মুজিবনগর থেকে আসা যুবক সাকিবুল হাসান বলেন, “মা-বাবাকে নিয়ে এসেছি। এই ঘটনায় পুরো দেশ নাড়া দিয়েছে। সরাসরি দেখে একটু প্রশান্তি পাচ্ছি, আবার শিশুটির জন্য খুব কষ্ট হচ্ছে। আল্লাহ যেন শিশুটিকে জান্নাত নসিব করেন এবং আমাদের সবাইকে ক্ষমা করেন।”
উল্লেখ্য, তানোর উপজেলার কোয়েলহাট গ্রামে পরিত্যক্ত একটি গভীর নলকূপের গর্তে পড়ে দুই বছরের শিশু সাজিদ নিখোঁজ হয়। টানা ৩৩ ঘণ্টার অনুসন্ধান শেষে বৃহস্পতিবার (১১ ডিসেম্বর) রাত ৯টার পর প্রায় ৫০ ফুট গভীরতা থেকে শিশুটিকে উদ্ধার করা হয়। উদ্ধার শেষে তানোর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। এই মর্মান্তিক ঘটনায় এলাকাসহ দেশজুড়ে গভীর শোকের ছায়া নেমে এসেছে।

ডেস্ক রিপোর্ট 

























