ঢাকা , শুক্রবার, ১৪ অগাস্ট ২০২৬, ৩০ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম ::
ইরান আর কতদিন যুদ্ধ চালিয়ে যেতে পারবে? ইরানের পরমাণু অস্ত্র ঠেকানো নয়, তেলের দাম কম রাখাই এখন প্রধান লক্ষ্য: যুক্তরাষ্ট্র মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার তৈরি হলেও ‘অ্যান্ডি হলের’ কারণে থেমে যায় ইমরানকে সাক্ষাতের সুযোগ না দিলে ২০ লাখের লং মার্চের হুঁশিয়ারি ১৫ আগস্ট খালেদা জিয়ার জন্মদিনে দোয়া ও মিলাদ মাহফিল করবে বিএনপি বাংলাদেশ সফর নিয়ে মুখ খুলল বিসিসিআই ফেসবুকে সমালোচকদের অশালীন গালি ও ‘তুলে আনার’ হুমকি এমপি মোবাশ্বেরের ট্রাম্পের শুল্ক এড়াতে চীনকে সাহায্য করেছে ৪০টিরও বেশি দেশ: যুক্তরাষ্ট্র শেখ হাসিনার প্রত্যার্পণ নয়, প্রধানমন্ত্রীর ভারত সফরেই নজর দিল্লির রেকর্ড গরমে মাটির নিচেই ‘সেদ্ধ’ হচ্ছে আলু

ভাইয়ের সম্পত্তিতে বোনের উত্তরাধিকার দাবি গ্রহণযোগ্য নয়: হাইকোর্ট

  • ডেস্ক রিপোর্ট
  • আপডেট সময় ০১:৩৭:৪০ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৪ অগাস্ট ২০২৬
  • ৩৫ বার পড়া হয়েছে

হিন্দু দায়ভাগা আইনে ভাইয়ের সম্পত্তিতে বোন উত্তরাধিকারী বা ‘রিভার্সনার’ হিসেবে স্বত্ব দাবি করতে পারবেন না বলে পর্যবেক্ষণ দিয়েছেন হাইকোর্ট। একই সঙ্গে ভাইয়ের বিধবা স্ত্রীর সম্পত্তি হস্তান্তর নিয়ে অধিকারহীন কেউ আদালতে প্রশ্ন তুলতে পারবেন না বলেও রায়ে উল্লেখ করা হয়েছে।

‘অমর কুমার দাসের উত্তরাধিকারী লিলি রানী দাস ও অন্যান্য বনাম ড. মনোরঞ্জন মহুরী ও অন্যান্য’ মামলায় এই পর্যবেক্ষণ দেন হাইকোর্ট। গত ৯ জুলাই বিচারপতি শেখ আবদুল আউয়াল ও বিচারপতি মো. রাফিজুল ইসলামের বেঞ্চ রায় দেন। বুধবার (১২ আগস্ট) রায়ের পূর্ণাঙ্গ অনুলিপি প্রকাশিত হয়।

মামলার নথি অনুযায়ী, চট্টগ্রামের পটিয়ার রামকান্ত বিশ্বাসের এক ছেলে ও তিন মেয়ে ছিলেন। ১৯২০ সালে তিনি নিজের অর্থে ছেলে সতীশ চন্দ্র বিশ্বাসের নামে ১ দশমিক ৩৫ একর জমি কেনেন। তবে বাবার জীবদ্দশাতেই সতীশ মারা যান। পরে ১৯৩৩ সালে মারা যান রামকান্ত বিশ্বাস।

এরপর রামকান্তের মেয়ে শৌল বালা দাস ওই জমিতে উত্তরাধিকার দাবি করেন। অন্যদিকে, সতীশের স্ত্রী সাবিত্রী বালা ১৯৯৬ সালে জমিটি ড. মনোরঞ্জন মহুরীর কাছে বিক্রি করে দেন।

এই বিক্রয় দলিলকে জাল ও প্রতারণামূলক দাবি করে ১৯৯৮ সালে পটিয়ার আদালতে মামলা করেন শৌল বালা দাস। তবে ২০০০ সালে বিচারিক আদালত তার মামলা খারিজ করে দেন। পরে জেলা জজ আদালতে আপিল করেও তিনি সফল হননি।

এরপর ২০০৮ সালে হাইকোর্টে দেওয়ানি রিভিশন আবেদন করেন তিনি। দীর্ঘ শুনানি শেষে গত ৯ জুলাই সেই রুল খারিজ করে দেন হাইকোর্ট। একই সঙ্গে নিম্ন আদালতের রায় ও ডিক্রি বহাল রাখা হয়।

রায়ে হাইকোর্ট বলেন, দায়ভাগা হিন্দু আইনে স্বামীর মৃত্যুর পর বিধবা স্ত্রী জীবদ্দশায় স্বামীর সম্পত্তিতে অধিকার লাভ করেন। তবে সেই সম্পত্তি হস্তান্তরের ক্ষেত্রে তার ক্ষমতা সীমিত।

আদালত আরও বলেন, বিধবার মৃত্যুর পর যিনি ওই সম্পত্তির প্রকৃত উত্তরাধিকারী বা ‘রিভার্সনার’, কেবল তিনিই বিধবার করা হস্তান্তরের বৈধতা নিয়ে প্রশ্ন তুলতে পারেন। যার বর্তমান বা ভবিষ্যতে ওই সম্পত্তিতে কোনো আইনগত স্বার্থ নেই, তিনি হস্তান্তরকে চ্যালেঞ্জ করার অধিকার রাখেন না।

অর্থাৎ, শুধু হস্তান্তরটি ‘আইনগত প্রয়োজনের’ জন্য করা হয়নি—এমন অভিযোগে সম্পত্তিতে উত্তরাধিকারী হওয়ার কোনো আইনগত অধিকার নেই এমন ব্যক্তি আদালতে মামলা করতে পারবেন না বলে স্পষ্ট করেছেন হাইকোর্ট।

ট্যাগস

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

জনপ্রিয় সংবাদ

ইরান আর কতদিন যুদ্ধ চালিয়ে যেতে পারবে?

ভাইয়ের সম্পত্তিতে বোনের উত্তরাধিকার দাবি গ্রহণযোগ্য নয়: হাইকোর্ট

আপডেট সময় ০১:৩৭:৪০ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৪ অগাস্ট ২০২৬

হিন্দু দায়ভাগা আইনে ভাইয়ের সম্পত্তিতে বোন উত্তরাধিকারী বা ‘রিভার্সনার’ হিসেবে স্বত্ব দাবি করতে পারবেন না বলে পর্যবেক্ষণ দিয়েছেন হাইকোর্ট। একই সঙ্গে ভাইয়ের বিধবা স্ত্রীর সম্পত্তি হস্তান্তর নিয়ে অধিকারহীন কেউ আদালতে প্রশ্ন তুলতে পারবেন না বলেও রায়ে উল্লেখ করা হয়েছে।

‘অমর কুমার দাসের উত্তরাধিকারী লিলি রানী দাস ও অন্যান্য বনাম ড. মনোরঞ্জন মহুরী ও অন্যান্য’ মামলায় এই পর্যবেক্ষণ দেন হাইকোর্ট। গত ৯ জুলাই বিচারপতি শেখ আবদুল আউয়াল ও বিচারপতি মো. রাফিজুল ইসলামের বেঞ্চ রায় দেন। বুধবার (১২ আগস্ট) রায়ের পূর্ণাঙ্গ অনুলিপি প্রকাশিত হয়।

মামলার নথি অনুযায়ী, চট্টগ্রামের পটিয়ার রামকান্ত বিশ্বাসের এক ছেলে ও তিন মেয়ে ছিলেন। ১৯২০ সালে তিনি নিজের অর্থে ছেলে সতীশ চন্দ্র বিশ্বাসের নামে ১ দশমিক ৩৫ একর জমি কেনেন। তবে বাবার জীবদ্দশাতেই সতীশ মারা যান। পরে ১৯৩৩ সালে মারা যান রামকান্ত বিশ্বাস।

এরপর রামকান্তের মেয়ে শৌল বালা দাস ওই জমিতে উত্তরাধিকার দাবি করেন। অন্যদিকে, সতীশের স্ত্রী সাবিত্রী বালা ১৯৯৬ সালে জমিটি ড. মনোরঞ্জন মহুরীর কাছে বিক্রি করে দেন।

এই বিক্রয় দলিলকে জাল ও প্রতারণামূলক দাবি করে ১৯৯৮ সালে পটিয়ার আদালতে মামলা করেন শৌল বালা দাস। তবে ২০০০ সালে বিচারিক আদালত তার মামলা খারিজ করে দেন। পরে জেলা জজ আদালতে আপিল করেও তিনি সফল হননি।

এরপর ২০০৮ সালে হাইকোর্টে দেওয়ানি রিভিশন আবেদন করেন তিনি। দীর্ঘ শুনানি শেষে গত ৯ জুলাই সেই রুল খারিজ করে দেন হাইকোর্ট। একই সঙ্গে নিম্ন আদালতের রায় ও ডিক্রি বহাল রাখা হয়।

রায়ে হাইকোর্ট বলেন, দায়ভাগা হিন্দু আইনে স্বামীর মৃত্যুর পর বিধবা স্ত্রী জীবদ্দশায় স্বামীর সম্পত্তিতে অধিকার লাভ করেন। তবে সেই সম্পত্তি হস্তান্তরের ক্ষেত্রে তার ক্ষমতা সীমিত।

আদালত আরও বলেন, বিধবার মৃত্যুর পর যিনি ওই সম্পত্তির প্রকৃত উত্তরাধিকারী বা ‘রিভার্সনার’, কেবল তিনিই বিধবার করা হস্তান্তরের বৈধতা নিয়ে প্রশ্ন তুলতে পারেন। যার বর্তমান বা ভবিষ্যতে ওই সম্পত্তিতে কোনো আইনগত স্বার্থ নেই, তিনি হস্তান্তরকে চ্যালেঞ্জ করার অধিকার রাখেন না।

অর্থাৎ, শুধু হস্তান্তরটি ‘আইনগত প্রয়োজনের’ জন্য করা হয়নি—এমন অভিযোগে সম্পত্তিতে উত্তরাধিকারী হওয়ার কোনো আইনগত অধিকার নেই এমন ব্যক্তি আদালতে মামলা করতে পারবেন না বলে স্পষ্ট করেছেন হাইকোর্ট।