ঢাকা , মঙ্গলবার, ১৬ ডিসেম্বর ২০২৫, ২ পৌষ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম ::
মোদির মন্তব্যে উত্তাল বাংলাদেশ, কুশপুত্তলিকা দাহ ও বিক্ষোভের ডাক ২৫ মার্চের আগে মুজিব বাহিনী গণহত্যা চালিয়েছিল: চট্টগ্রাম জামায়াত আমির নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়ানোর ঘোষণা বিএনপির মনোনীত প্রার্থীর বিজয় দিবসের রাতে বীর মুক্তিযোদ্ধার কবর পোড়াল দুর্বৃত্তরা মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে রচিত ইতিহাসের ৯০ শতাংশই কল্পকাহিনী: আমির হামজা বোমা তৈরির সরঞ্জামসহ ছাত্রদল নেতা আটক একাত্তর ও চব্বিশের দালালদের বিরুদ্ধে আমরা ঐক্যবদ্ধ আছি: নাহিদ চাকসু ভিপিকে মারতে তেড়ে আসলেন ছাত্রদল সভাপতি ফয়সাল আমার কাছে অনেক রাতে আসতেন, সকালে চলে যেতেন: রিমান্ডে স্ত্রী সামিয়া চব্বিশের আন্দোলনকারীরাও মুক্তিযোদ্ধা: উপদেষ্টা শারমীন

জুলাই আন্দোলনের সেই কিশোরের বড় ভাই এবার জাকসুর জিএস

  • ডেস্ক রিপোর্ট
  • আপডেট সময় ০১:০১:৩৬ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৫
  • ৪২৩ বার পড়া হয়েছে

জুলাই আন্দোলনের সময়কার এক ছবি নাড়িয়ে দিয়েছিল পুরো দেশকে—প্রিজনভ্যান থেকে নামানো এক কিশোর, গায়ে বাংলাদেশ ক্রিকেট দলের জার্সি, দুই হাত বাঁধা, হাতে কাপড়ের ব্যাগ। সেই কিশোর হাসনাতুল ইসলাম ফাইয়াজ, বয়স তখন মাত্র ১৭ বছর, ঢাকা কলেজের এইচএসসি দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী।

ফাইয়াজ এখন গর্বিত ছোট ভাই। তার বড় ভাই মাজহারুল ইসলাম ফাহিম জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (জাকসু) নির্বাচনে সাধারণ সম্পাদক (জিএস) পদে বিজয়ী হয়েছেন। শনিবার (১৩ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যায় টানা ৪৪ ঘণ্টা গণনা শেষে নির্বাচন কমিশন এই ফল ঘোষণা করে। ইংরেজি বিভাগের শিক্ষার্থী মাজহারুল পেয়েছেন ৩ হাজার ৯৩০ ভোট।

ফেসবুকে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করে ফাইয়াজ লিখেছেন, “একদিন আমি আম্মুকে জিজ্ঞেস করেছিলাম, আপনার সবচেয়ে প্রিয় মানুষ কে? তিনি কোনো দ্বিধা ছাড়াই বলেছিলেন—ফাহিম। আজ সেই আম্মুর সবচেয়ে প্রিয় মানুষ জাকসুর জিএস নির্বাচনে জয়ী হয়েছেন।”

তিনি আরও উল্লেখ করেন, তার ভাই শিক্ষার্থীদের অধিকার রক্ষায় আপসহীন ভূমিকা রাখবেন, শান্তিপূর্ণ ক্যাম্পাস প্রতিষ্ঠায় কাজ করবেন এবং মতের বৈচিত্র্যকে মূল্য দেবেন।

বিশ্ববিদ্যালয় জীবনে মাজহারুল ইসলাম বিএনসিসি জাহাঙ্গীরনগর প্লাটুনের সিইউও ও ক্যাডেট ইনচার্জ, জেইউডিও’র সহ-সাংগঠনিক সম্পাদকসহ নানা সামাজিক ও অ্যাকাডেমিক প্ল্যাটফর্মে সক্রিয় ছিলেন।

জুলাই আন্দোলনের অভিজ্ঞতা টেনে ফাইয়াজ লেখেন, “আমাকে নির্যাতন করে ভাইয়ার অবস্থান জানতে চেয়েছিল। আমি কিছু না বলায় তারা মোবাইল ট্র্যাক করেছিল। কিন্তু ভাইয়ার কৌশলী অবস্থানের কারণে তাকে ধরতে পারেনি।”

পোস্টের শেষদিকে তিনি দোয়া প্রার্থনা করে লেখেন, “আমার আম্মুর সবচেয়ে প্রিয় মানুষকে যেন শিক্ষার্থীরাও প্রিয় হিসেবে গ্রহণ করে। আল্লাহ যেন ভাইয়ার উদ্দেশ্য কবুল করেন।”

ট্যাগস

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

জনপ্রিয় সংবাদ

মোদির মন্তব্যে উত্তাল বাংলাদেশ, কুশপুত্তলিকা দাহ ও বিক্ষোভের ডাক

জুলাই আন্দোলনের সেই কিশোরের বড় ভাই এবার জাকসুর জিএস

আপডেট সময় ০১:০১:৩৬ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৫

জুলাই আন্দোলনের সময়কার এক ছবি নাড়িয়ে দিয়েছিল পুরো দেশকে—প্রিজনভ্যান থেকে নামানো এক কিশোর, গায়ে বাংলাদেশ ক্রিকেট দলের জার্সি, দুই হাত বাঁধা, হাতে কাপড়ের ব্যাগ। সেই কিশোর হাসনাতুল ইসলাম ফাইয়াজ, বয়স তখন মাত্র ১৭ বছর, ঢাকা কলেজের এইচএসসি দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী।

ফাইয়াজ এখন গর্বিত ছোট ভাই। তার বড় ভাই মাজহারুল ইসলাম ফাহিম জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (জাকসু) নির্বাচনে সাধারণ সম্পাদক (জিএস) পদে বিজয়ী হয়েছেন। শনিবার (১৩ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যায় টানা ৪৪ ঘণ্টা গণনা শেষে নির্বাচন কমিশন এই ফল ঘোষণা করে। ইংরেজি বিভাগের শিক্ষার্থী মাজহারুল পেয়েছেন ৩ হাজার ৯৩০ ভোট।

ফেসবুকে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করে ফাইয়াজ লিখেছেন, “একদিন আমি আম্মুকে জিজ্ঞেস করেছিলাম, আপনার সবচেয়ে প্রিয় মানুষ কে? তিনি কোনো দ্বিধা ছাড়াই বলেছিলেন—ফাহিম। আজ সেই আম্মুর সবচেয়ে প্রিয় মানুষ জাকসুর জিএস নির্বাচনে জয়ী হয়েছেন।”

তিনি আরও উল্লেখ করেন, তার ভাই শিক্ষার্থীদের অধিকার রক্ষায় আপসহীন ভূমিকা রাখবেন, শান্তিপূর্ণ ক্যাম্পাস প্রতিষ্ঠায় কাজ করবেন এবং মতের বৈচিত্র্যকে মূল্য দেবেন।

বিশ্ববিদ্যালয় জীবনে মাজহারুল ইসলাম বিএনসিসি জাহাঙ্গীরনগর প্লাটুনের সিইউও ও ক্যাডেট ইনচার্জ, জেইউডিও’র সহ-সাংগঠনিক সম্পাদকসহ নানা সামাজিক ও অ্যাকাডেমিক প্ল্যাটফর্মে সক্রিয় ছিলেন।

জুলাই আন্দোলনের অভিজ্ঞতা টেনে ফাইয়াজ লেখেন, “আমাকে নির্যাতন করে ভাইয়ার অবস্থান জানতে চেয়েছিল। আমি কিছু না বলায় তারা মোবাইল ট্র্যাক করেছিল। কিন্তু ভাইয়ার কৌশলী অবস্থানের কারণে তাকে ধরতে পারেনি।”

পোস্টের শেষদিকে তিনি দোয়া প্রার্থনা করে লেখেন, “আমার আম্মুর সবচেয়ে প্রিয় মানুষকে যেন শিক্ষার্থীরাও প্রিয় হিসেবে গ্রহণ করে। আল্লাহ যেন ভাইয়ার উদ্দেশ্য কবুল করেন।”