ঢাকা , মঙ্গলবার, ১৬ জুন ২০২৬, ১ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ট্রাম্পের কাছ থেকে বড় ছাড় আদায় করে নিয়েছে ইরান

  • ডেস্ক রিপোর্ট
  • আপডেট সময় ০৯:৫৯:০৬ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৫ জুন ২০২৬
  • ৮ বার পড়া হয়েছে

 

যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে শান্তি চুক্তির চূড়ান্ত মুহূর্তে গুরুত্বপূর্ণ একটি শর্ত আদায় করে নিয়েছে ইরান। দেশটির দাবি, হরমুজ প্রণালি দিয়ে চলাচলকারী জাহাজগুলোর কাছ থেকে নির্দিষ্ট সময় পর ফি আদায়ের অধিকার তেহরান ও ওমানের হাতে থাকবে। এ নিয়ে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প আগে ‘স্থায়ীভাবে টোলমুক্ত’ হরমুজের ঘোষণা দিলেও, তা আসলেই টোলমুক্ত থাকবে কিনা তা নিয়েই নতুন প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।

 

সংবাদমাধ্যম দ্য টেলিগ্রাফ বলছে, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে হওয়া শান্তি সমঝোতার শেষ মুহূর্তে গুরুত্বপূর্ণ একটি শর্ত যুক্ত করে নিয়ে ইরান। আর এর মাধ্যমে হরমুজ প্রণালি দিয়ে চলাচলকারী জাহাজের ওপর ফি আরোপের অধিকার নিশ্চিত করেছে তেহরান।

 

ইরানের বার্তাসংস্থা ফার্স জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সমঝোতা স্মারকে (এমওইউ) শেষ মুহূর্তে করা সংশোধনের মাধ্যমে হরমুজ প্রণালির একক কর্তৃপক্ষ হিসেবে ইরান ও ওমানকে স্বীকৃতি দেয়া হয়েছে।

 

প্রতিবেদন অনুযায়ী, আগামী ৬০ দিন তেহরান হরমুজ প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচলের ক্ষেত্রে অবাধ যাতায়াত নিশ্চিত করবে। তবে এই সময়সীমা শেষ হওয়ার পর জাহাজগুলোকে নিরাপত্তা, নৌ-চলাচল, পরিবেশ সুরক্ষা এবং বীমা-সংক্রান্ত সেবার খরচ হিসেবে নির্ধারিত ফি দিতে হবে।

 

দ্য টেলিগ্রাফ বলছে, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প অবশ্য আগে বলেছিলেন যে হরমুজ প্রণালি ‘স্থায়ীভাবে টোলমুক্ত’ থাকবে।

 

ফার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ‘আলোচনার একেবারে শেষ মুহূর্তে সমঝোতা স্মারকের ভাষা সংশোধন করে হরমুজ প্রণালির ওপর ইরান-ওমানের সার্বভৌম কর্তৃত্বের বিষয়টি স্পষ্টভাবে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।’

 

প্রতিবেদনটিতে আরও বলা হয়, কাঠামোগত চুক্তি ঘোষণার ঠিক আগে তেহরান সমুদ্রপথ-সংক্রান্ত সেবা বাবদ ফি আদায়ের একটি ধারা যুক্ত করে। ফার্সের ভাষ্য, ‘চুক্তিতে ‘মেরিটাইম সার্ভিসেস’ বা সমুদ্রপথ-সংক্রান্ত সেবার শব্দটি ব্যবহারের অর্থ হলো, যুক্তরাষ্ট্র ইরানকে ফি প্রদানের বিষয়টি মেনে নিয়েছে।’

 

 

এর আগে দুই পক্ষ রাতভর আলোচনা শেষে চুক্তিটি চূড়ান্ত করে। আগামী শুক্রবার (১৯ জুন) সুইজারল্যান্ডে চুক্তিটি আনুষ্ঠানিকভাবে স্বাক্ষর হওয়ার কথা রয়েছে।

 

 

এদিকে ট্রাম্প বলেছেন, হরমুজ প্রণালি এলাকায় পেতে রাখা ইরানি মাইন অপসারণের কাজ শেষ হলে শুক্রবার থেকেই প্রণালিটি আবারও উন্মুক্ত হবে বলে তিনি আশা করছেন।

ট্যাগস

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

জনপ্রিয় সংবাদ

ট্রাম্পের কাছ থেকে বড় ছাড় আদায় করে নিয়েছে ইরান

আপডেট সময় ০৯:৫৯:০৬ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৫ জুন ২০২৬

 

যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে শান্তি চুক্তির চূড়ান্ত মুহূর্তে গুরুত্বপূর্ণ একটি শর্ত আদায় করে নিয়েছে ইরান। দেশটির দাবি, হরমুজ প্রণালি দিয়ে চলাচলকারী জাহাজগুলোর কাছ থেকে নির্দিষ্ট সময় পর ফি আদায়ের অধিকার তেহরান ও ওমানের হাতে থাকবে। এ নিয়ে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প আগে ‘স্থায়ীভাবে টোলমুক্ত’ হরমুজের ঘোষণা দিলেও, তা আসলেই টোলমুক্ত থাকবে কিনা তা নিয়েই নতুন প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।

 

সংবাদমাধ্যম দ্য টেলিগ্রাফ বলছে, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে হওয়া শান্তি সমঝোতার শেষ মুহূর্তে গুরুত্বপূর্ণ একটি শর্ত যুক্ত করে নিয়ে ইরান। আর এর মাধ্যমে হরমুজ প্রণালি দিয়ে চলাচলকারী জাহাজের ওপর ফি আরোপের অধিকার নিশ্চিত করেছে তেহরান।

 

ইরানের বার্তাসংস্থা ফার্স জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সমঝোতা স্মারকে (এমওইউ) শেষ মুহূর্তে করা সংশোধনের মাধ্যমে হরমুজ প্রণালির একক কর্তৃপক্ষ হিসেবে ইরান ও ওমানকে স্বীকৃতি দেয়া হয়েছে।

 

প্রতিবেদন অনুযায়ী, আগামী ৬০ দিন তেহরান হরমুজ প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচলের ক্ষেত্রে অবাধ যাতায়াত নিশ্চিত করবে। তবে এই সময়সীমা শেষ হওয়ার পর জাহাজগুলোকে নিরাপত্তা, নৌ-চলাচল, পরিবেশ সুরক্ষা এবং বীমা-সংক্রান্ত সেবার খরচ হিসেবে নির্ধারিত ফি দিতে হবে।

 

দ্য টেলিগ্রাফ বলছে, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প অবশ্য আগে বলেছিলেন যে হরমুজ প্রণালি ‘স্থায়ীভাবে টোলমুক্ত’ থাকবে।

 

ফার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ‘আলোচনার একেবারে শেষ মুহূর্তে সমঝোতা স্মারকের ভাষা সংশোধন করে হরমুজ প্রণালির ওপর ইরান-ওমানের সার্বভৌম কর্তৃত্বের বিষয়টি স্পষ্টভাবে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।’

 

প্রতিবেদনটিতে আরও বলা হয়, কাঠামোগত চুক্তি ঘোষণার ঠিক আগে তেহরান সমুদ্রপথ-সংক্রান্ত সেবা বাবদ ফি আদায়ের একটি ধারা যুক্ত করে। ফার্সের ভাষ্য, ‘চুক্তিতে ‘মেরিটাইম সার্ভিসেস’ বা সমুদ্রপথ-সংক্রান্ত সেবার শব্দটি ব্যবহারের অর্থ হলো, যুক্তরাষ্ট্র ইরানকে ফি প্রদানের বিষয়টি মেনে নিয়েছে।’

 

 

এর আগে দুই পক্ষ রাতভর আলোচনা শেষে চুক্তিটি চূড়ান্ত করে। আগামী শুক্রবার (১৯ জুন) সুইজারল্যান্ডে চুক্তিটি আনুষ্ঠানিকভাবে স্বাক্ষর হওয়ার কথা রয়েছে।

 

 

এদিকে ট্রাম্প বলেছেন, হরমুজ প্রণালি এলাকায় পেতে রাখা ইরানি মাইন অপসারণের কাজ শেষ হলে শুক্রবার থেকেই প্রণালিটি আবারও উন্মুক্ত হবে বলে তিনি আশা করছেন।