যুক্তরাষ্ট্র ও ব্রাজিলের বাণিজ্য সম্পর্কে নতুন উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। প্রায় এক বছরের তদন্ত শেষে ব্রাজিলের কিছু আমদানি পণ্যের ওপর ২৫ শতাংশ শুল্ক আরোপের ঘোষণা দিয়েছে ওয়াশিংটন।
বুধবার যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্য প্রতিনিধির দপ্তর—ইউএসটিআর—জানায়, তদন্তে ব্রাজিলের বিরুদ্ধে অন্যায্য বাণিজ্যচর্চার অভিযোগের প্রমাণ পাওয়া গেছে। ডিজিটাল বাণিজ্য, অগ্রাধিকারমূলক শুল্কনীতি এবং ইথানল বাজারে প্রবেশাধিকারসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে ব্রাজিলের নীতিমালা যুক্তরাষ্ট্রের স্বার্থ ক্ষুণ্ন করছে বলে দাবি করেছে ওয়াশিংটন।
ইউএসটিআর প্রধান জেমিসন গ্রিয়ার বলেন, বিরোধপূর্ণ বিষয়গুলো সমাধানে যুক্তরাষ্ট্র এখনো ব্রাজিলের সঙ্গে আলোচনায় আগ্রহী।
অন্যদিকে, মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও ব্রাজিলের প্রেসিডেন্ট লুইজ ইনাসিও লুলা দা সিলভার সরকারের সমালোচনা করে বলেন, ওয়াশিংটনের সঙ্গে আন্তরিক আলোচনায় আগ্রহ দেখায়নি ব্রাজিল। তার দাবি, লুলা সরকারের অর্থনৈতিক নীতি শুধু যুক্তরাষ্ট্রের নয়, ব্রাজিলের জনগণের জন্যও ক্ষতিকর।
ঘোষণা অনুযায়ী, আগামী ২২ জুলাই থেকে ২৫ শতাংশ শুল্ক কার্যকর হবে। তবে কিছু কাঁচামাল, ওষুধ, কফিসহ যেসব পণ্য যুক্তরাষ্ট্রে উৎপাদিত হয় না বা যেগুলোর ওপর শুল্ক আরোপ করলে সরবরাহব্যবস্থায় বিঘ্ন ঘটতে পারে, সেগুলো এই সিদ্ধান্তের বাইরে রাখা হয়েছে।
উল্লেখ্য, ১৯৭৪ সালের ট্রেড অ্যাক্টের সেকশন ৩০১-এর আওতায় গত বছর ব্রাজিলের বিরুদ্ধে তদন্ত শুরু করেছিল যুক্তরাষ্ট্র। এর আগে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ব্রাজিলের ওপর ৫০ শতাংশ শুল্ক আরোপের ঘোষণা দিলেও পরে সেই সিদ্ধান্ত থেকে সরে আসেন।
নতুন এই শুল্ক আরোপের ফলে দুই দেশের বাণিজ্যিক সম্পর্ক এবং আঞ্চলিক অর্থনীতিতে কী প্রভাব পড়ে, এখন সেদিকেই নজর বিশ্লেষকদের।

