ঢাকা , সোমবার, ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৩০ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম ::
পশ্চিমবঙ্গে ২৫২ টি মাদ্রাসা বন্ধের নির্দেশ ডাকসুর সংগ্রহশালা থেকে জিন্নাহর ছবি সরাতে ২৪ ঘণ্টার আলটিমেটাম দিয়েছে ছাত্রদল আসিফ মাহমুদ অন্তর্বর্তী সরকারের সময় আ.লীগ ব্যবসায়ী ও এমপিদের প্রটেকশন দিয়েছে: রাশেদ খাঁন এআই না জানলে মুসলিমরা পিছিয়ে পড়বে: মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী ব্রিকস সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রীকে যথাযথ মর্যাদায় আমন্ত্রণ জানানো হয়নি: স্পিকার নতুন পোশাক আইন করছে ভারত, বিপাকে মুসলিমরা ক্ষমতায় না যেতেই মজলুম থেকে জালিমে পরিণত হয়েছে জামায়াত: রাশেদ খাঁন জাতিসংঘ অধিবেশনে যোগ দিতে নিউইয়র্ক যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী শিবির নিয়ন্ত্রিত ডাকসু ‘পাকিস্তান প্রেম’ জাহির করছে: ছাত্রদল মসজিদের মাইকে ‘ডাকাত’ ঘোষণা দিয়ে যুবলীগ নেতাকে কুপিয়ে হত্যা

মসজিদ রক্ষায় লড়েছিলেন এক পায়ে, সেই নেপালি যুবককে পুরস্কৃত করল সৌদি

  • ডেস্ক রিপোর্ট
  • আপডেট সময় ১০:৪৫:২৮ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১৭ অগাস্ট ২০২৬
  • ৬৫ বার পড়া হয়েছে

যখন নেপালে একজন প্রতিবন্ধী মুসলিম ব্যক্তির একটি মসজিদ রক্ষার ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়তে শুরু করে, তখন তিনি হয়তো কল্পনাও করতে পারেননি যে তার এই সাহসিকতার মুহূর্তটিই তাকে শেষ পর্যন্ত উমরাহ পালনের জন্য মক্কায় নিয়ে যাবে। ঘটনাটি জানুয়ারির শেষের দিকের, যখন ব্যাপকভাবে প্রচারিত একটি ভিডিওতে দেখা যায়, এক পায়ে ভর দিয়ে, ক্রাচ ও লাঠি হাতে এক মুসলিম ব্যক্তি নেপালের রওতাহাট জেলার একটি মসজিদে হামলা ঠেকাতে একদল উচ্ছৃঙ্খল লোকের মুখোমুখি হয়েছেন।

এই ভিডিওটি সারা বিশ্বের মুসলিমদেরকে বিশেষভাবে নাড়া দেয়, তখন থেকে সৌদি আরবের কয়েকজন এক্টিভিস্ট ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমকর্মী এই ভাইরাল ভিডিওর পেছনের মানুষটিকে খুঁজে বের করার উদ্যোগ নেন। অবশেষে তাদের অনুসন্ধান সফল হয়, যা রামপুরের বাসিন্দা নেপালি শেখ রহেমুল্লাহর জন্য এক অবিস্মরণীয় যাত্রার দ্বার উন্মুক্ত করে দেয়। তিনি কখনো ভাবেননি যে তিনি কখনো উমরাহ পালন করবেন এবং তার সাহসিকতার জন্য সম্মানিত হবেন কিংবা এমন এক সাহায্যের প্রস্তাব পাবেন যা তার জীবনকে বদলে দিতে পারে।

২০২৬ সালের ৫ই আগস্ট, মসজিদ রক্ষায় তার অবস্থানের প্রতি কৃতজ্ঞতাস্বরূপ সৌদি দাতা ও আয়োজকদের পৃষ্ঠপোষকতায় ৩২ বছর বয়সী রাহেমুল্লাহ তার বাবা-মায়ের সঙ্গে মক্কায় উমরাহ পালনের জন্য সৌদি আরবে পৌঁছান। মক্কায় অবস্থানকালে সৌদি নাগরিক ও স্থানীয় বাসিন্দারা তাকে উপহার ও আন্তরিক আতিথেয়তায় স্বাগত জানান। রাহেমুল্লাহর ওমরাহ পালনের উদ্যোগের পাশাপাশি তার হারানো পায়ের জন্য কৃত্রিম অঙ্গ দেওয়ার দায়িত্বও নিয়েছে বাদার অ্যাসোসিয়েশন। ফলে সৌদি সফরটি শুধু ওমরাহ পালনের সুযোগই নয়, তার জীবনে নতুন সম্ভাবনার দরজাও খুলে দিয়েছে।

তার এক সঙ্গী আরব নিউজকে সৌদি আরবে এসে তার আনন্দ এবং যারা তার সাথে যোগাযোগ করেছেন সেই সৌদিদের প্রতি কৃতজ্ঞতার কথা জানান। ভারতের কেরালার তরুণ মুসলিম কনটেন্ট নির্মাতা মোহাম্মদ রাফি সৌদি আরবে রাহেমুল্লাহ ও তার পরিবারের সঙ্গে দেখা করেন এবং সফরকালে তাদের সঙ্গ দেন। আরব নিউজকে তিনি বলেন, কয়েকজন সৌদি ভাইয়ের সহযোগিতায় রাহেমুল্লাহ ওমরাহ পালনের সুযোগ পেয়েছেন। তিনি আরব নিউজকে বলেন: ‘প্রথমত আল্লাহর কৃপায় এবং তারপর বেশ কয়েকজন সৌদি ভাইয়ের বদৌলতে, রহেমুল্লাহ উমরাহ পালন করতে পেরেছেন। ‘মক্কা ও মদিনায় তিনি এবং তার পরিবার যে আতিথেয়তা পেয়েছেন, তার জন্য তিনি (খুবই) খুশি।’

তিনি আরও বলেন: “আমি নিশ্চিত যে তিনি এই ভ্রমণটি কখনও ভুলবেন না। উমরাহ পালনের সময় তার আনন্দ ছিল অবর্ণনীয়, এবং তার গল্পটি ছিল সত্যিই অনুপ্রেরণাদায়ক, যা ধৈর্য, দৃঢ়তা এবং বিশ্বাসের এক মূর্ত প্রতীক। রাফি বলেন, মক্কা ও মদিনায় পাওয়া আতিথেয়তায় রাহেমুল্লাহ ও তার পরিবার অত্যন্ত আনন্দিত। এই সফর তিনি কখনো ভুলবেন না বলেও মন্তব্য করেন রাফি। তার ভাষায়, রাহেমুল্লাহর ওমরাহ পালনের আনন্দ ছিল বর্ণনাতীত। তার পুরো ঘটনাটি ধৈর্য, দৃঢ়তা ও ঈমানের এক অনুপ্রেরণাদায়ক উদাহরণ হয়ে উঠেছে।

গত ১৪ আগস্ট রাহেমুল্লাহ ও তার পরিবার নেপালের উদ্দেশে সৌদি আরব ছাড়েন। সঙ্গে নিয়ে যান মক্কা-মদিনার স্মৃতি এবং সৌদি দাতা ও এই সফরের সঙ্গে জড়িত সবার প্রতি কৃতজ্ঞতা। সূত্র: আরব নিউজ

ট্যাগস

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

জনপ্রিয় সংবাদ

পশ্চিমবঙ্গে ২৫২ টি মাদ্রাসা বন্ধের নির্দেশ

মসজিদ রক্ষায় লড়েছিলেন এক পায়ে, সেই নেপালি যুবককে পুরস্কৃত করল সৌদি

আপডেট সময় ১০:৪৫:২৮ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১৭ অগাস্ট ২০২৬

যখন নেপালে একজন প্রতিবন্ধী মুসলিম ব্যক্তির একটি মসজিদ রক্ষার ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়তে শুরু করে, তখন তিনি হয়তো কল্পনাও করতে পারেননি যে তার এই সাহসিকতার মুহূর্তটিই তাকে শেষ পর্যন্ত উমরাহ পালনের জন্য মক্কায় নিয়ে যাবে। ঘটনাটি জানুয়ারির শেষের দিকের, যখন ব্যাপকভাবে প্রচারিত একটি ভিডিওতে দেখা যায়, এক পায়ে ভর দিয়ে, ক্রাচ ও লাঠি হাতে এক মুসলিম ব্যক্তি নেপালের রওতাহাট জেলার একটি মসজিদে হামলা ঠেকাতে একদল উচ্ছৃঙ্খল লোকের মুখোমুখি হয়েছেন।

এই ভিডিওটি সারা বিশ্বের মুসলিমদেরকে বিশেষভাবে নাড়া দেয়, তখন থেকে সৌদি আরবের কয়েকজন এক্টিভিস্ট ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমকর্মী এই ভাইরাল ভিডিওর পেছনের মানুষটিকে খুঁজে বের করার উদ্যোগ নেন। অবশেষে তাদের অনুসন্ধান সফল হয়, যা রামপুরের বাসিন্দা নেপালি শেখ রহেমুল্লাহর জন্য এক অবিস্মরণীয় যাত্রার দ্বার উন্মুক্ত করে দেয়। তিনি কখনো ভাবেননি যে তিনি কখনো উমরাহ পালন করবেন এবং তার সাহসিকতার জন্য সম্মানিত হবেন কিংবা এমন এক সাহায্যের প্রস্তাব পাবেন যা তার জীবনকে বদলে দিতে পারে।

২০২৬ সালের ৫ই আগস্ট, মসজিদ রক্ষায় তার অবস্থানের প্রতি কৃতজ্ঞতাস্বরূপ সৌদি দাতা ও আয়োজকদের পৃষ্ঠপোষকতায় ৩২ বছর বয়সী রাহেমুল্লাহ তার বাবা-মায়ের সঙ্গে মক্কায় উমরাহ পালনের জন্য সৌদি আরবে পৌঁছান। মক্কায় অবস্থানকালে সৌদি নাগরিক ও স্থানীয় বাসিন্দারা তাকে উপহার ও আন্তরিক আতিথেয়তায় স্বাগত জানান। রাহেমুল্লাহর ওমরাহ পালনের উদ্যোগের পাশাপাশি তার হারানো পায়ের জন্য কৃত্রিম অঙ্গ দেওয়ার দায়িত্বও নিয়েছে বাদার অ্যাসোসিয়েশন। ফলে সৌদি সফরটি শুধু ওমরাহ পালনের সুযোগই নয়, তার জীবনে নতুন সম্ভাবনার দরজাও খুলে দিয়েছে।

তার এক সঙ্গী আরব নিউজকে সৌদি আরবে এসে তার আনন্দ এবং যারা তার সাথে যোগাযোগ করেছেন সেই সৌদিদের প্রতি কৃতজ্ঞতার কথা জানান। ভারতের কেরালার তরুণ মুসলিম কনটেন্ট নির্মাতা মোহাম্মদ রাফি সৌদি আরবে রাহেমুল্লাহ ও তার পরিবারের সঙ্গে দেখা করেন এবং সফরকালে তাদের সঙ্গ দেন। আরব নিউজকে তিনি বলেন, কয়েকজন সৌদি ভাইয়ের সহযোগিতায় রাহেমুল্লাহ ওমরাহ পালনের সুযোগ পেয়েছেন। তিনি আরব নিউজকে বলেন: ‘প্রথমত আল্লাহর কৃপায় এবং তারপর বেশ কয়েকজন সৌদি ভাইয়ের বদৌলতে, রহেমুল্লাহ উমরাহ পালন করতে পেরেছেন। ‘মক্কা ও মদিনায় তিনি এবং তার পরিবার যে আতিথেয়তা পেয়েছেন, তার জন্য তিনি (খুবই) খুশি।’

তিনি আরও বলেন: “আমি নিশ্চিত যে তিনি এই ভ্রমণটি কখনও ভুলবেন না। উমরাহ পালনের সময় তার আনন্দ ছিল অবর্ণনীয়, এবং তার গল্পটি ছিল সত্যিই অনুপ্রেরণাদায়ক, যা ধৈর্য, দৃঢ়তা এবং বিশ্বাসের এক মূর্ত প্রতীক। রাফি বলেন, মক্কা ও মদিনায় পাওয়া আতিথেয়তায় রাহেমুল্লাহ ও তার পরিবার অত্যন্ত আনন্দিত। এই সফর তিনি কখনো ভুলবেন না বলেও মন্তব্য করেন রাফি। তার ভাষায়, রাহেমুল্লাহর ওমরাহ পালনের আনন্দ ছিল বর্ণনাতীত। তার পুরো ঘটনাটি ধৈর্য, দৃঢ়তা ও ঈমানের এক অনুপ্রেরণাদায়ক উদাহরণ হয়ে উঠেছে।

গত ১৪ আগস্ট রাহেমুল্লাহ ও তার পরিবার নেপালের উদ্দেশে সৌদি আরব ছাড়েন। সঙ্গে নিয়ে যান মক্কা-মদিনার স্মৃতি এবং সৌদি দাতা ও এই সফরের সঙ্গে জড়িত সবার প্রতি কৃতজ্ঞতা। সূত্র: আরব নিউজ