ঢাকা , বুধবার, ০২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৮ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম ::
বিগত ১৮ বছরে লোভ–লালসায় পা দিইনি: তথ্যমন্ত্রী পার্থ স্বৈরাচারের সময়ে বাপেক্সকে পঙ্গু করে রাখা হয়েছিল: প্রধানমন্ত্রী নিজের বি’রুদ্ধে অভি/যোগের প্রমাণ উন্মুক্ত করতে বললেন আসিফ মাহমুদ পে-স্কেল: ৫৩ বছরে ১৩০ থেকে পৌঁছেছে ১ লাখ ৫৬ হাজার বাংলাদেশ থেকে ২ লাখ কর্মী নেওয়ার দাবি নাকচ করল মালয়েশিয়া যুক্তরাষ্ট্রকে ধ্বং’স করতে ইরানকে গোপনে ‘ক্ষেপ/ণা/স্ত্র’ সহায়তা করছে রাশিয়া চলন্ত ট্রেনের ক্যান্টিনে নারীকে ধ/র্ষণ, চার পুলিশ সদস্যের বি’রু’দ্ধে ব্যবস্থা গ্যাস না পেয়ে সিএনজি চালকদের ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়ক অবরোধ চিকিৎসাধীন বিদ্যুৎমন্ত্রী ইকবাল হাসান সকলের কাছে দোয়া চেয়েছেন কমলো এলপিজির দাম, সন্ধ্যা থেকেই কার্যকর

মক্কার জাদুঘরে কোরআন লিখনের প্রাচীন নিদর্শন

  • ডেস্ক রিপোর্ট
  • আপডেট সময় ০১:২০:৫৬ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৮ জুলাই ২০২৬
  • ৫৭৪ বার পড়া হয়েছে

এবার সৌদি আরবের পবিত্র নগরী মক্কার হেরা সাংস্কৃতিক অঞ্চলে অবস্থিত পবিত্র কুরআন জাদুঘরে কুরআনুল কারিম লিখনের প্রাথমিক যুগের সরঞ্জাম ও ঐতিহাসিক নিদর্শন নিয়ে এক বিশেষ প্রদর্শনীর আয়োজন করা হয়েছে। এই প্রদর্শনীর মাধ্যমে ইসলামের ইতিহাসের এক গৌরবময় ও গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়কে দর্শনার্থীদের সামনে জীবন্তভাবে তুলে ধরা হচ্ছে। আরব গণমাধ্যম আলআরাবিয়ার এক প্রতিবেদনে থেকে এই তথ্য জানানো হয়েছে।

প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, কাগজে মুদ্রণ ব্যবস্থা চালুর অনেক আগে এবং কুরআনকে এক পূর্ণাঙ্গ খণ্ডে সংকলনের পূর্বে মহানবী হজরত মুহাম্মদ (সা.)-এর ওহীর লেখক সাহাবিগণ নাজিল হওয়া পবিত্র আয়াতগুলো বিভিন্ন প্রাকৃতিক উপকরণের ওপর লিপিবদ্ধ করতেন। ইসলামের প্রাথমিক যুগে ওহী সংরক্ষণের জন্য মূলত দাগানো চামড়া, খেজুর গাছের ডাল, চ্যাপ্টা কাঠের টুকরো, মসৃণ পাথর এবং উট বা অন্য পশুর কাঁধ ও পাঁজরের হাড় ব্যবহার করা হতো। এর মধ্যে তুলনামূলক স্থায়িত্ব বেশি হওয়ার কারণে হরিণ বা অন্যান্য পশুর চামড়াই ছিল ওহী লিখনের জন্য সবচেয়ে বেশি ব্যবহৃত জনপ্রিয় উপকরণ।

চলমান এই প্রদর্শনীতে নির্ভরযোগ্য ঐতিহাসিক তথ্য ও বর্ণনার আলোকে ইসলামের সেই প্রাথমিক সময়কার লিখনপদ্ধতি হুবহু পুনর্নির্মাণ করা হয়েছে। মিউজিয়ামে আসা দর্শনার্থীরা ওহীর লেখকদের ব্যবহৃত বিভিন্ন উপকরণের বাস্তবসম্মত নমুনা, প্রাথমিক লিখনপ্রক্রিয়া এবং কঠোর সুরক্ষায় কুরআন সংরক্ষণের আদি পদ্ধতি একদম কাছ থেকে দেখার সুযোগ পাচ্ছেন। এর মাধ্যমে ইসলামের সূচনালগ্নে আল্লাহর বাণী সংরক্ষণে সাহাবায়ে কিরামের আন্তরিক প্রচেষ্টা, ত্যাগ ও সর্বোচ্চ সতর্কতার একটি স্পষ্ট ও অনুকরণীয় চিত্র ফুটে ওঠে।

মক্কার এই মিউজিয়ামটি শুধু ওহী লিখনের আদি উপকরণই প্রদর্শন করছে না; বরং আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর ইন্টারেক্টিভ উপস্থাপনার মাধ্যমে পবিত্র কুরআনের দীর্ঘ ইতিহাস, নাজিলের বিভিন্ন ধাপ, সংকলনের নিখুঁত প্রক্রিয়া, কিরাআতের বৈচিত্র্য, ক্যালিগ্রাফি বা লিখনশৈলীর ধারাবাহিক বিকাশ এবং সামগ্রিক ইসলামি সভ্যতায় কুরআনের সংরক্ষণ ও বিশ্বব্যাপী বিস্তারের ইতিহাসও ফুটিয়ে তুলছে। ফলে দর্শনার্থীরা কুরআনের দীর্ঘ ঐতিহাসিক যাত্রাপথ সম্পর্কে একটি স্পষ্ট ও সম্যক ধারণা লাভ করতে পারছেন। হেরা সাংস্কৃতিক অঞ্চলের অন্যতম প্রধান আকর্ষণ এই কুরআন মিউজিয়ামের মূল লক্ষ্য হলো বিশ্ববাসীর সামনে ওহী নাজিলের মূল ইতিহাস, জাবালে নূর ও ঐতিহাসিক গারে হেরার সঙ্গে সম্পর্কিত ইসলামি ঐতিহ্য এবং কুরআনের সংরক্ষণের অনন্য ধারাকে আন্তর্জাতিক আঙিনায় তুলে ধরা। 

ট্যাগস

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

জনপ্রিয় সংবাদ

বিগত ১৮ বছরে লোভ–লালসায় পা দিইনি: তথ্যমন্ত্রী পার্থ

মক্কার জাদুঘরে কোরআন লিখনের প্রাচীন নিদর্শন

আপডেট সময় ০১:২০:৫৬ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৮ জুলাই ২০২৬

এবার সৌদি আরবের পবিত্র নগরী মক্কার হেরা সাংস্কৃতিক অঞ্চলে অবস্থিত পবিত্র কুরআন জাদুঘরে কুরআনুল কারিম লিখনের প্রাথমিক যুগের সরঞ্জাম ও ঐতিহাসিক নিদর্শন নিয়ে এক বিশেষ প্রদর্শনীর আয়োজন করা হয়েছে। এই প্রদর্শনীর মাধ্যমে ইসলামের ইতিহাসের এক গৌরবময় ও গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়কে দর্শনার্থীদের সামনে জীবন্তভাবে তুলে ধরা হচ্ছে। আরব গণমাধ্যম আলআরাবিয়ার এক প্রতিবেদনে থেকে এই তথ্য জানানো হয়েছে।

প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, কাগজে মুদ্রণ ব্যবস্থা চালুর অনেক আগে এবং কুরআনকে এক পূর্ণাঙ্গ খণ্ডে সংকলনের পূর্বে মহানবী হজরত মুহাম্মদ (সা.)-এর ওহীর লেখক সাহাবিগণ নাজিল হওয়া পবিত্র আয়াতগুলো বিভিন্ন প্রাকৃতিক উপকরণের ওপর লিপিবদ্ধ করতেন। ইসলামের প্রাথমিক যুগে ওহী সংরক্ষণের জন্য মূলত দাগানো চামড়া, খেজুর গাছের ডাল, চ্যাপ্টা কাঠের টুকরো, মসৃণ পাথর এবং উট বা অন্য পশুর কাঁধ ও পাঁজরের হাড় ব্যবহার করা হতো। এর মধ্যে তুলনামূলক স্থায়িত্ব বেশি হওয়ার কারণে হরিণ বা অন্যান্য পশুর চামড়াই ছিল ওহী লিখনের জন্য সবচেয়ে বেশি ব্যবহৃত জনপ্রিয় উপকরণ।

চলমান এই প্রদর্শনীতে নির্ভরযোগ্য ঐতিহাসিক তথ্য ও বর্ণনার আলোকে ইসলামের সেই প্রাথমিক সময়কার লিখনপদ্ধতি হুবহু পুনর্নির্মাণ করা হয়েছে। মিউজিয়ামে আসা দর্শনার্থীরা ওহীর লেখকদের ব্যবহৃত বিভিন্ন উপকরণের বাস্তবসম্মত নমুনা, প্রাথমিক লিখনপ্রক্রিয়া এবং কঠোর সুরক্ষায় কুরআন সংরক্ষণের আদি পদ্ধতি একদম কাছ থেকে দেখার সুযোগ পাচ্ছেন। এর মাধ্যমে ইসলামের সূচনালগ্নে আল্লাহর বাণী সংরক্ষণে সাহাবায়ে কিরামের আন্তরিক প্রচেষ্টা, ত্যাগ ও সর্বোচ্চ সতর্কতার একটি স্পষ্ট ও অনুকরণীয় চিত্র ফুটে ওঠে।

মক্কার এই মিউজিয়ামটি শুধু ওহী লিখনের আদি উপকরণই প্রদর্শন করছে না; বরং আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর ইন্টারেক্টিভ উপস্থাপনার মাধ্যমে পবিত্র কুরআনের দীর্ঘ ইতিহাস, নাজিলের বিভিন্ন ধাপ, সংকলনের নিখুঁত প্রক্রিয়া, কিরাআতের বৈচিত্র্য, ক্যালিগ্রাফি বা লিখনশৈলীর ধারাবাহিক বিকাশ এবং সামগ্রিক ইসলামি সভ্যতায় কুরআনের সংরক্ষণ ও বিশ্বব্যাপী বিস্তারের ইতিহাসও ফুটিয়ে তুলছে। ফলে দর্শনার্থীরা কুরআনের দীর্ঘ ঐতিহাসিক যাত্রাপথ সম্পর্কে একটি স্পষ্ট ও সম্যক ধারণা লাভ করতে পারছেন। হেরা সাংস্কৃতিক অঞ্চলের অন্যতম প্রধান আকর্ষণ এই কুরআন মিউজিয়ামের মূল লক্ষ্য হলো বিশ্ববাসীর সামনে ওহী নাজিলের মূল ইতিহাস, জাবালে নূর ও ঐতিহাসিক গারে হেরার সঙ্গে সম্পর্কিত ইসলামি ঐতিহ্য এবং কুরআনের সংরক্ষণের অনন্য ধারাকে আন্তর্জাতিক আঙিনায় তুলে ধরা।