ঢাকা , রবিবার, ২০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৪ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম ::
গাজীপুরে গ্যাস সিলিন্ডার লিকেজ থেকে আগুন, ৪৫টি ঘর পুড়ে ছাই বিএনপি জনগণের সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা করেছে: অলি আহমদ আইনের মারপ্যাঁচে আওয়ামী লীগকে সুবিধা দিলে গণবিস্ফোরণ হবে: মঞ্চ ২৪ দাবি না মানলে ৮ দফা এক দফায় পরিণত হবে: জামায়াতের আমির কমলাপুর রেল স্টেশনের প্ল্যাটফর্মে ককটেল বিস্ফোরণ অপ্রতিমের ময়নাতদন্ত সম্পন্ন, জানাজা কাল সকাল ১০টায় সারাদেশে এখন জনমনে আতঙ্ক, মানুষের নিরাপত্তা নেই: নাহিদ ইসলাম মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধে জড়ালে পাকিস্তানে মহাবিপর্যয় নেমে আসবে: রাজা নাসির আব্বাস ভারতীয় পণ্যে ১০০ শতাংশ মার্কিন শুল্কারোপের শঙ্কা, ঘুম হারাম রপ্তানিকারকদের এবার রাজধানীর বাড্ডায় যাত্রীবাহী বাসে আগুন

কেউ ব্যক্তি আক্রমণ করলে আমি তাকে চুমু দেব, এমন সুশীল আমি না: রাশেদ খান

  • ডেস্ক রিপোর্ট
  • আপডেট সময় ০২:০৭:১৭ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৮ অগাস্ট ২০২৬
  • ১৪৪ বার পড়া হয়েছে

কেউ ব্যক্তিগত আক্রমণ করলে তাকেছাড়দেওয়া হবে না বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক সহকারী রাশেদ খান। তিনি দাবি করেন, জামায়াতএনসিপি নতুন রাজনৈতিক বন্দোবস্তের কথা বলে ভন্ডবস্তের রাজনীতির সূচনা করেছে। সম্প্রতি একটি বেসরকারি টেলিভিশন টকশোতে এনসিপি নেতা সারোয়ার তুষারের সঙ্গে বাগ্‌বিতণ্ডা হয় রাশেদ খানের। যা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হয়েছে। বিষয়টি নিয়ে নিজের অবস্থান স্পষ্ট করে আজ মঙ্গলবার নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে একটি পোস্ট দিয়েছেন রাশেদ খান। সেই পোস্টে এমন মন্তব্য করেন তিনি। ফেসবুক পোস্টে রাশেদ খান দাবি করেন, ওই টকশোতে তিনি গঠনমূলক কথা বলার চেষ্টা করেছেন। কিন্তু সারোয়ার তুষার শেষ পার্টে তাকে ব্যক্তিগত আক্রমণ করে কথা বলেছেন। টকশোতে সারোয়ার তুষার রাশেদ খানকে ব্যক্তিগত আক্রমণ করে বলেছেন, ‘মিডিয়া দেখলে সবার আগে, আর পুলিশ দেখলে সবার পরে থাকেন। গণ অধিকার পরিষদের নেতারা বলেছেন।এ বিষয়ে রাশেদ খান ফেসবুক

পোস্টে বলেন, ‘কোন নেতারা? যারা গণঅভ্যুত্থানের পরপর এনসিপিতে যুক্ত হয়েছে।তিনি বলেন, ‘অথচ আমি ২০১৮ সালের কোটা সংস্কার আন্দোলনের সময় শেখ হাসিনাকে কটূক্তির মামলায় জেল খেটেছি, ১৫ দিন রিমান্ডের নির্যাতনের শিকার হয়েছি। ২০২৪ সাল পর্যন্ত যুগপৎ আন্দোলনে রাজপথে থেকে ভূমিকা রেখেছি। আর ২০২৪ এর আন্দোলনে আমি তো ছাত্র না যে নেতৃত্ব দেব। শেখ হাসিনা মানুষ হত্যা শুরু করলে ছাত্র আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারীদের সঙ্গে রাজনৈতিক সমন্বয় করেছি। এমন কি গণঅভ্যুত্থানের সময় নাহিদ ইসলাম, আসিফ মাহমুদ ও আখতার হোসেনদের জাতিসংঘের বাংলাদেশ প্রতিনিধির সঙ্গে বৈঠক আমার মাধ্যমে হয়। ১৮ জুলাই আমিই প্রথম দুইজন সমন্বয়কে (আসিফ মাহমুদ ও আহনাফ সাঈদ খান) আন্দোলনে রাজনৈতিক দলগুলোকে সম্পৃক্ত করার আহ্বান করে মাঝখানে থেকে কাজ শুরু করি। আহনাফ সাঈদ খানের কাছে কর্মসূচি বাস্তবায়নের জন্য লজিস্টিক সাপোর্ট প্রদান করেছি।

২০২৪ সালের ১৯ জুলাই নুরুল হক নুরকে গ্রেপ্তারের পর তার বাসায় দুইবার অভিযান চালানো হয় বলে দাবি করেন রাশেদ খান। তিনি বলেন, ‘এরপর আমি বর্তমান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর নেতৃত্বে ৫ আগস্ট পর্যন্ত আন্দোলন সফল করতে রাজনৈতিক কর্মপন্থা নির্ধারণে কাজ করেছি। না কি সেসময় আন্দোলন নিয়ে কাজ না করে এরেস্ট হলে এরা (নব্য বিপ্লবীরা) খুশি হতো? ভুলে যাবেন না, সমন্বয়করাও আত্মগোপনে থেকে নেতৃত্ব দিয়েছে। গণ অভ্যুত্থানের ৩১ জুলাই বিএনপিপন্থী শিক্ষক ও আইনজীবীরা যে হাইকোর্টের সামনে নেমেছিল সেটি বর্তমান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে পরামর্শ করে তিনি ঠিক করেছিলেন বলে দাবি রাশেদ খানের। তিনি বলেন, ‘৩ আগস্ট আমি গ্রেপ্তারের ঝুঁকি নিয়ে শহীদ মিনারে গিয়েছি এবং সমন্বয়কদের সঙ্গে কথা বলেছি, গণ অধিকার পরিষদের নেতাকর্মীদের সঙ্গে আন্দোলনে সম্পৃক্ত থেকেছি। তখনও আমাকে গ্রেপ্তার করার জন্য তন্নতন্ন করে খুঁজেছে।

সারোয়ার তুষারের সঙ্গে টকশো নিয়ে রাশেদ খান বলেন, ‘গতকালের টকশোতে সারোয়ার তুষার আমাকে জিজ্ঞেস করেছে, প্রধানমন্ত্রী কোথায় ছিল, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী কোথায় ছিল। আমি উত্তর দিয়েছি, তারা নির্বাসিত ছিল, সেখান থেকে কাজ করেছে। আমি এর প্রেক্ষিতে তাকে প্রশ্ন করেছি, আপনি কোথায় ছিলেন? সে উত্তরে বলেছে, ১৯ জুলাই মাঠে ছিল। আমি বলেছি, আগে পরে কোথায় ছিলেন, সে উত্তর না দিয়ে আমাকে আক্রমণ করতেই থাকে এবং বেয়াদব ও মিথ্যুক বলে। আমি প্রথমবার তাকে কিছু বলি নাই, কিন্তু দ্বিতীয় বার আবারও বেয়াদব বলাতে আমি পাল্টা জবাব বলেছি।নিজের ফেসবুক পোস্টে সারোয়ার তুষারকে নিয়ে ইমতিয়াজ মির্জা এবং আব্দুল কাদেরের বক্তব্য তুলে ধরেন রাশেদ খান। যেখানে আব্দুল কাদের দাবি করেছেন, জুলাই গণ অভ্যুত্থানের সময় সারোয়ার তুষারকে সেইভাবে চিনতেন না।

ফেসবুক পোস্টে রাশেদ খান বলেন, ‘আমাকে কেউ ব্যক্তিগতভাবে আক্রমণ করবে, আর আমি তাকে চুমু দেব। এমন সুশীল ব্যক্তি আমি না।তিনি বলেন, ‘আপনারা শব্দের রাজনীতি করতে চান, আবার এত চেতেন কেন? নতুন বন্দোবস্তের রাজনীতির কথা বলে ভণ্ডবস্তের রাজনীতির সূচনা করেছেন। এগুলো পরিহার করুন, নতুবা ইতরের সঙ্গে ভদ্রতা দেখানোর রাজনীতি বাংলাদেশের বাস্তবতায় কারো পক্ষে সম্ভবপর হবে না। ভদ্রতা আপনার পক্ষ থেকে আসলে, আমার পক্ষ থেকে আরো বেশি আসবে।

ট্যাগস

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

জনপ্রিয় সংবাদ

গাজীপুরে গ্যাস সিলিন্ডার লিকেজ থেকে আগুন, ৪৫টি ঘর পুড়ে ছাই

কেউ ব্যক্তি আক্রমণ করলে আমি তাকে চুমু দেব, এমন সুশীল আমি না: রাশেদ খান

আপডেট সময় ০২:০৭:১৭ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৮ অগাস্ট ২০২৬

কেউ ব্যক্তিগত আক্রমণ করলে তাকেছাড়দেওয়া হবে না বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক সহকারী রাশেদ খান। তিনি দাবি করেন, জামায়াতএনসিপি নতুন রাজনৈতিক বন্দোবস্তের কথা বলে ভন্ডবস্তের রাজনীতির সূচনা করেছে। সম্প্রতি একটি বেসরকারি টেলিভিশন টকশোতে এনসিপি নেতা সারোয়ার তুষারের সঙ্গে বাগ্‌বিতণ্ডা হয় রাশেদ খানের। যা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হয়েছে। বিষয়টি নিয়ে নিজের অবস্থান স্পষ্ট করে আজ মঙ্গলবার নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে একটি পোস্ট দিয়েছেন রাশেদ খান। সেই পোস্টে এমন মন্তব্য করেন তিনি। ফেসবুক পোস্টে রাশেদ খান দাবি করেন, ওই টকশোতে তিনি গঠনমূলক কথা বলার চেষ্টা করেছেন। কিন্তু সারোয়ার তুষার শেষ পার্টে তাকে ব্যক্তিগত আক্রমণ করে কথা বলেছেন। টকশোতে সারোয়ার তুষার রাশেদ খানকে ব্যক্তিগত আক্রমণ করে বলেছেন, ‘মিডিয়া দেখলে সবার আগে, আর পুলিশ দেখলে সবার পরে থাকেন। গণ অধিকার পরিষদের নেতারা বলেছেন।এ বিষয়ে রাশেদ খান ফেসবুক

পোস্টে বলেন, ‘কোন নেতারা? যারা গণঅভ্যুত্থানের পরপর এনসিপিতে যুক্ত হয়েছে।তিনি বলেন, ‘অথচ আমি ২০১৮ সালের কোটা সংস্কার আন্দোলনের সময় শেখ হাসিনাকে কটূক্তির মামলায় জেল খেটেছি, ১৫ দিন রিমান্ডের নির্যাতনের শিকার হয়েছি। ২০২৪ সাল পর্যন্ত যুগপৎ আন্দোলনে রাজপথে থেকে ভূমিকা রেখেছি। আর ২০২৪ এর আন্দোলনে আমি তো ছাত্র না যে নেতৃত্ব দেব। শেখ হাসিনা মানুষ হত্যা শুরু করলে ছাত্র আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারীদের সঙ্গে রাজনৈতিক সমন্বয় করেছি। এমন কি গণঅভ্যুত্থানের সময় নাহিদ ইসলাম, আসিফ মাহমুদ ও আখতার হোসেনদের জাতিসংঘের বাংলাদেশ প্রতিনিধির সঙ্গে বৈঠক আমার মাধ্যমে হয়। ১৮ জুলাই আমিই প্রথম দুইজন সমন্বয়কে (আসিফ মাহমুদ ও আহনাফ সাঈদ খান) আন্দোলনে রাজনৈতিক দলগুলোকে সম্পৃক্ত করার আহ্বান করে মাঝখানে থেকে কাজ শুরু করি। আহনাফ সাঈদ খানের কাছে কর্মসূচি বাস্তবায়নের জন্য লজিস্টিক সাপোর্ট প্রদান করেছি।

২০২৪ সালের ১৯ জুলাই নুরুল হক নুরকে গ্রেপ্তারের পর তার বাসায় দুইবার অভিযান চালানো হয় বলে দাবি করেন রাশেদ খান। তিনি বলেন, ‘এরপর আমি বর্তমান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর নেতৃত্বে ৫ আগস্ট পর্যন্ত আন্দোলন সফল করতে রাজনৈতিক কর্মপন্থা নির্ধারণে কাজ করেছি। না কি সেসময় আন্দোলন নিয়ে কাজ না করে এরেস্ট হলে এরা (নব্য বিপ্লবীরা) খুশি হতো? ভুলে যাবেন না, সমন্বয়করাও আত্মগোপনে থেকে নেতৃত্ব দিয়েছে। গণ অভ্যুত্থানের ৩১ জুলাই বিএনপিপন্থী শিক্ষক ও আইনজীবীরা যে হাইকোর্টের সামনে নেমেছিল সেটি বর্তমান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে পরামর্শ করে তিনি ঠিক করেছিলেন বলে দাবি রাশেদ খানের। তিনি বলেন, ‘৩ আগস্ট আমি গ্রেপ্তারের ঝুঁকি নিয়ে শহীদ মিনারে গিয়েছি এবং সমন্বয়কদের সঙ্গে কথা বলেছি, গণ অধিকার পরিষদের নেতাকর্মীদের সঙ্গে আন্দোলনে সম্পৃক্ত থেকেছি। তখনও আমাকে গ্রেপ্তার করার জন্য তন্নতন্ন করে খুঁজেছে।

সারোয়ার তুষারের সঙ্গে টকশো নিয়ে রাশেদ খান বলেন, ‘গতকালের টকশোতে সারোয়ার তুষার আমাকে জিজ্ঞেস করেছে, প্রধানমন্ত্রী কোথায় ছিল, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী কোথায় ছিল। আমি উত্তর দিয়েছি, তারা নির্বাসিত ছিল, সেখান থেকে কাজ করেছে। আমি এর প্রেক্ষিতে তাকে প্রশ্ন করেছি, আপনি কোথায় ছিলেন? সে উত্তরে বলেছে, ১৯ জুলাই মাঠে ছিল। আমি বলেছি, আগে পরে কোথায় ছিলেন, সে উত্তর না দিয়ে আমাকে আক্রমণ করতেই থাকে এবং বেয়াদব ও মিথ্যুক বলে। আমি প্রথমবার তাকে কিছু বলি নাই, কিন্তু দ্বিতীয় বার আবারও বেয়াদব বলাতে আমি পাল্টা জবাব বলেছি।নিজের ফেসবুক পোস্টে সারোয়ার তুষারকে নিয়ে ইমতিয়াজ মির্জা এবং আব্দুল কাদেরের বক্তব্য তুলে ধরেন রাশেদ খান। যেখানে আব্দুল কাদের দাবি করেছেন, জুলাই গণ অভ্যুত্থানের সময় সারোয়ার তুষারকে সেইভাবে চিনতেন না।

ফেসবুক পোস্টে রাশেদ খান বলেন, ‘আমাকে কেউ ব্যক্তিগতভাবে আক্রমণ করবে, আর আমি তাকে চুমু দেব। এমন সুশীল ব্যক্তি আমি না।তিনি বলেন, ‘আপনারা শব্দের রাজনীতি করতে চান, আবার এত চেতেন কেন? নতুন বন্দোবস্তের রাজনীতির কথা বলে ভণ্ডবস্তের রাজনীতির সূচনা করেছেন। এগুলো পরিহার করুন, নতুবা ইতরের সঙ্গে ভদ্রতা দেখানোর রাজনীতি বাংলাদেশের বাস্তবতায় কারো পক্ষে সম্ভবপর হবে না। ভদ্রতা আপনার পক্ষ থেকে আসলে, আমার পক্ষ থেকে আরো বেশি আসবে।