ঢাকা , মঙ্গলবার, ১৮ অগাস্ট ২০২৬, ৩ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম ::
মহাসড়কে এআই ক্যামেরা স্থাপন করায় পরিবহনে চাঁদাবাজি কমে আসবে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী পদত্যাগ করছেন পিএসসি চেয়ারম্যান অধ্যাপক মোবাশ্বের মোনেম আমরা টহল দেওয়া শুরু করলে অনেক এলাকা থেকে জামায়াত-শিবির নাই হয়ে যাবে: নুর বলিউড সিনেমা বানিয়ে যুদ্ধের পরাজয় মুছে ফেলা যায় না: পাকিস্তানের সেনাবাহিনী অপ্রয়োজনীয় খাতে ব্যয় কমানোর চেষ্টা করছে সরকার: প্রধানমন্ত্রী ভারতজুড়ে ব্যাপক ধরপাকড়, আইএসআই সম্পৃক্ততার অভিযোগে আটক শত শত ইরান চুক্তিতে বাধা দিলে ওমানে ‘বোমা হামলার’ হুমকি ট্রাম্পের বাংলাদেশ থেকে এক হাজার ট্যাক্সি চালক নেবে দুবাই, মানতে হবে ৩ শর্ত বাংলাদেশ থেকে এক হাজার ট্যাক্সিচালক নেবে দুবাই, মানতে হবে যেসব শর্ত সাবেক সেনাপ্রধান আজিজকে ফেরাতে ইন্টারপোলে রেড নোটিশ জারির আবেদন

ইরান চুক্তিতে বাধা দিলে ওমানে ‘বোমা হামলার’ হুমকি ট্রাম্পের

  • ডেস্ক রিপোর্ট
  • আপডেট সময় ১২:৫৬:২৩ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৮ অগাস্ট ২০২৬
  • ৬ বার পড়া হয়েছে

এবার ইরানের সঙ্গে চুক্তি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের আলোচনায় বাধা সৃষ্টি করলে মার্কিন মিত্র ওমানে বোমা হামলা চালানোর হুমকি দিয়েছেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ফক্স নিউজের এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র ও ওমান আলাদাভাবে ইরানের সঙ্গে আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছে হরমুজ প্রণালি পুনরায় খুলে দেওয়ার বিষয়ে। বিশ্ব অর্থনীতির জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এই জলপথটি যুক্তরাষ্ট্রইরান যুদ্ধের কারণে প্রায় ছয় মাস ধরে কার্যত বন্ধ রয়েছে।

ফক্স নিউজের এক প্রতিবেদক জানিয়েছেন, টেলিফোন সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প ওমানকে হুমকি দেওয়ার সময় অশালীন ভাষা ব্যবহার করেন। তিনি বলেন, ‘ওমান যদি পথে বাধা হয়ে দাঁড়ায়, তাহলে আমরা তাদের ওপর ভয়াবহ বোমা হামলা চালাব।তবে ট্রাম্পের কাছেবাধা সৃষ্টিবলতে ঠিক কী বোঝায়, তা স্পষ্ট নয়। ট্রাম্পের হুমকির কয়েক ঘণ্টা আগেই ইরান জানিয়েছিল, হরমুজ প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচলের বিষয়ে ওমানের সঙ্গে একটি সমঝোতায় পৌঁছেছে তারা। ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই সাংবাদিকদের বলেন, জাহাজ চলাচলের ট্রানজিট রুটের মানচিত্র নিয়ে দুই দেশের মধ্যে সমঝোতা হয়েছে। চূড়ান্তভাবে যৌথ বিবৃতি দেওয়ার আগে এর বিস্তারিত বিষয়গুলো নির্ধারণ করা হবে।

ওমানও এর আগে আলোচনাকে ইতিবাচক হিসেবে বর্ণনা করেছিল। হরমুজ প্রণালির দক্ষিণ পাশে অবস্থিত ওমান এই সংঘাতে নিজেকে নিরপেক্ষ দেশ হিসেবে দাবি করে আসছে। তবে ইরানের হামলার শিকার হওয়ার পরও দেশটি বর্তমানে প্রণালিটি পুনরায় খুলতে তেহরানের সঙ্গে আলোচনায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। ইরান ও ওমানের মধ্যবর্তী সরু হরমুজ প্রণালি পারস্য উপসাগরকে ওমান উপসাগরের সঙ্গে যুক্ত করেছে। বিশ্বের মোট তেল ও তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাসের প্রায় একপঞ্চমাংশ সাধারণত এই জলপথ দিয়ে পরিবহন করা হয়। ইরানইসরাইল ও যুক্তরাষ্ট্রের সংঘাত শুরু হওয়ার পর তেহরান হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল অনেকাংশে বন্ধ করে দেয়। ফলে বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহ নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।

এর আগে চলতি মাসে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি জানিয়েছিলেন, হরমুজ প্রণালি পুরোপুরি খুলে দেওয়ার বিষয়টি যুক্তরাষ্ট্রের কাছ থেকে ক্ষতিপূরণ পাওয়ার ওপর নির্ভর করছে। রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছিল, প্রণালিটি ব্যবহারকারী জাহাজের পণ্য পরিবহনমূল্যের ৫ থেকে ৭ শতাংশ পর্যন্ত ফি চাচ্ছে তেহরান। একই সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প আরও দাবি করেন, ইরানের শক্তিশালী সামরিক ও রাজনৈতিক সংগঠন ইসলামিক বিপ্লবী গার্ড বাহিনীর (আইআরজিসি) সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের সরাসরি একটি গোপন যোগাযোগের পথ রয়েছে। তবে ট্রাম্পের এই দাবি সরাসরি প্রত্যাখ্যান করেছে আইআরজিসি। ইরানের আধাসরকারি সংবাদমাধ্যম তাসনিম নিউজকে দেওয়া বক্তব্যে বাহিনীটির এক মুখপাত্র বলেন, আইআরজিসির কর্মকর্তাদের সঙ্গে আমেরিকানদের কোনো আলোচনা চলছে না।

ইরানের সঙ্গে যুদ্ধ দ্রুত শেষ করার কোনো তাড়া নেই বলেও জানিয়েছেন ট্রাম্প। ফক্স নিউজকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তিনি ইরানিদেরভালো পোকার খেলোয়াড়আখ্যা দিয়ে বলেন, তারামারা যাচ্ছে’, তবে যুদ্ধ শেষ করার বিষয়ে তার কোনো নির্দিষ্ট সময়সীমা নেই। যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে ১৮ জুন স্বাক্ষরিত সমঝোতা স্মারক (MoU)-এর উদ্দেশ্য ছিল যুদ্ধবিরতি প্রতিষ্ঠা এবং অন্তত আংশিকভাবে হরমুজ প্রণালি খুলে দেওয়া। কিন্তু এর কিছুদিন পরই দুই পক্ষ আবারও হামলা শুরু করলে সেই সমঝোতা কার্যত ভেঙে পড়ে। সোমবার ৬০ দিনের ওই সমঝোতার মেয়াদ শেষ হওয়ার সময় ঘনিয়ে এলে ট্রাম্প তার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে জানান, ইরান যাতে কোনোভাবেই পারমাণবিক অস্ত্র অর্জন করতে না পারেএটাই যুক্তরাষ্ট্রেরএক নম্বর লক্ষ্যসূত্রবিবিসি

ট্যাগস

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

জনপ্রিয় সংবাদ

মহাসড়কে এআই ক্যামেরা স্থাপন করায় পরিবহনে চাঁদাবাজি কমে আসবে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

ইরান চুক্তিতে বাধা দিলে ওমানে ‘বোমা হামলার’ হুমকি ট্রাম্পের

আপডেট সময় ১২:৫৬:২৩ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৮ অগাস্ট ২০২৬

এবার ইরানের সঙ্গে চুক্তি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের আলোচনায় বাধা সৃষ্টি করলে মার্কিন মিত্র ওমানে বোমা হামলা চালানোর হুমকি দিয়েছেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ফক্স নিউজের এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র ও ওমান আলাদাভাবে ইরানের সঙ্গে আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছে হরমুজ প্রণালি পুনরায় খুলে দেওয়ার বিষয়ে। বিশ্ব অর্থনীতির জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এই জলপথটি যুক্তরাষ্ট্রইরান যুদ্ধের কারণে প্রায় ছয় মাস ধরে কার্যত বন্ধ রয়েছে।

ফক্স নিউজের এক প্রতিবেদক জানিয়েছেন, টেলিফোন সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প ওমানকে হুমকি দেওয়ার সময় অশালীন ভাষা ব্যবহার করেন। তিনি বলেন, ‘ওমান যদি পথে বাধা হয়ে দাঁড়ায়, তাহলে আমরা তাদের ওপর ভয়াবহ বোমা হামলা চালাব।তবে ট্রাম্পের কাছেবাধা সৃষ্টিবলতে ঠিক কী বোঝায়, তা স্পষ্ট নয়। ট্রাম্পের হুমকির কয়েক ঘণ্টা আগেই ইরান জানিয়েছিল, হরমুজ প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচলের বিষয়ে ওমানের সঙ্গে একটি সমঝোতায় পৌঁছেছে তারা। ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই সাংবাদিকদের বলেন, জাহাজ চলাচলের ট্রানজিট রুটের মানচিত্র নিয়ে দুই দেশের মধ্যে সমঝোতা হয়েছে। চূড়ান্তভাবে যৌথ বিবৃতি দেওয়ার আগে এর বিস্তারিত বিষয়গুলো নির্ধারণ করা হবে।

ওমানও এর আগে আলোচনাকে ইতিবাচক হিসেবে বর্ণনা করেছিল। হরমুজ প্রণালির দক্ষিণ পাশে অবস্থিত ওমান এই সংঘাতে নিজেকে নিরপেক্ষ দেশ হিসেবে দাবি করে আসছে। তবে ইরানের হামলার শিকার হওয়ার পরও দেশটি বর্তমানে প্রণালিটি পুনরায় খুলতে তেহরানের সঙ্গে আলোচনায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। ইরান ও ওমানের মধ্যবর্তী সরু হরমুজ প্রণালি পারস্য উপসাগরকে ওমান উপসাগরের সঙ্গে যুক্ত করেছে। বিশ্বের মোট তেল ও তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাসের প্রায় একপঞ্চমাংশ সাধারণত এই জলপথ দিয়ে পরিবহন করা হয়। ইরানইসরাইল ও যুক্তরাষ্ট্রের সংঘাত শুরু হওয়ার পর তেহরান হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল অনেকাংশে বন্ধ করে দেয়। ফলে বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহ নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।

এর আগে চলতি মাসে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি জানিয়েছিলেন, হরমুজ প্রণালি পুরোপুরি খুলে দেওয়ার বিষয়টি যুক্তরাষ্ট্রের কাছ থেকে ক্ষতিপূরণ পাওয়ার ওপর নির্ভর করছে। রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছিল, প্রণালিটি ব্যবহারকারী জাহাজের পণ্য পরিবহনমূল্যের ৫ থেকে ৭ শতাংশ পর্যন্ত ফি চাচ্ছে তেহরান। একই সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প আরও দাবি করেন, ইরানের শক্তিশালী সামরিক ও রাজনৈতিক সংগঠন ইসলামিক বিপ্লবী গার্ড বাহিনীর (আইআরজিসি) সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের সরাসরি একটি গোপন যোগাযোগের পথ রয়েছে। তবে ট্রাম্পের এই দাবি সরাসরি প্রত্যাখ্যান করেছে আইআরজিসি। ইরানের আধাসরকারি সংবাদমাধ্যম তাসনিম নিউজকে দেওয়া বক্তব্যে বাহিনীটির এক মুখপাত্র বলেন, আইআরজিসির কর্মকর্তাদের সঙ্গে আমেরিকানদের কোনো আলোচনা চলছে না।

ইরানের সঙ্গে যুদ্ধ দ্রুত শেষ করার কোনো তাড়া নেই বলেও জানিয়েছেন ট্রাম্প। ফক্স নিউজকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তিনি ইরানিদেরভালো পোকার খেলোয়াড়আখ্যা দিয়ে বলেন, তারামারা যাচ্ছে’, তবে যুদ্ধ শেষ করার বিষয়ে তার কোনো নির্দিষ্ট সময়সীমা নেই। যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে ১৮ জুন স্বাক্ষরিত সমঝোতা স্মারক (MoU)-এর উদ্দেশ্য ছিল যুদ্ধবিরতি প্রতিষ্ঠা এবং অন্তত আংশিকভাবে হরমুজ প্রণালি খুলে দেওয়া। কিন্তু এর কিছুদিন পরই দুই পক্ষ আবারও হামলা শুরু করলে সেই সমঝোতা কার্যত ভেঙে পড়ে। সোমবার ৬০ দিনের ওই সমঝোতার মেয়াদ শেষ হওয়ার সময় ঘনিয়ে এলে ট্রাম্প তার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে জানান, ইরান যাতে কোনোভাবেই পারমাণবিক অস্ত্র অর্জন করতে না পারেএটাই যুক্তরাষ্ট্রেরএক নম্বর লক্ষ্যসূত্রবিবিসি