ঢাকা-রংপুর লংমার্চের মাধ্যমে জামায়াতে ইসলামী পরিকল্পিতভাবে সরকারের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করছে বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক সহকারী রাশেদ খাঁন। তাঁর দাবি, এই কর্মসূচির মাধ্যমে আওয়ামী লীগকে পুনরায় রাজনীতিতে ফেরার সুযোগ করে দেওয়া হচ্ছে।শুক্রবার (১৮ সেপ্টেম্বর) সকালে ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানে শহীদ আবু সাঈদ নিহত হওয়ার স্থান বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের (বেরোবি) ১ নম্বর গেট পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এসব কথা বলেন।রাশেদ খাঁন বলেন, “জামায়াত রাজনৈতিকভাবে একটি হঠকারী দল হিসেবে পরিচিত। সরকারের বয়স সাত মাস হলেও গত ছয় মাসের কার্যক্রম জনগণের কাছে প্রশংসিত হয়েছে। এমন একটি স্থিতিশীল অবস্থায় সরকারের বিরুদ্ধে লংমার্চের মতো কর্মসূচি নেওয়া কোনোভাবেই যৌক্তিক নয়।”তিনি আরও উল্লেখ করেন, জামায়াতের আমির আগামী ডিসেম্বর থেকে সরকার পতনের আন্দোলনের কথা বলেছেন, আর ঠিক একই সময়ে শেখ হাসিনার দেশে ফেরার কথাও বলা হচ্ছে। ১৯৯৬ সালে জামায়াত ও আওয়ামী লীগ যেভাবে তৎকালীন বিএনপি সরকারের বিরুদ্ধে রাজপথে যৌথ আন্দোলন করেছিল, সেই ইতিহাস স্মরণ করিয়ে দিয়ে তিনি প্রশ্ন তোলেন—এবারও দল দুটি বর্তমান সরকারবিরোধী আন্দোলনের কোনো গোপন পরিকল্পনা করছে কি না।জামায়াতের কর্মসূচির সমালোচনা করে রাশেদ খাঁন বলেন, “লংমার্চের কর্মসূচি যদি আসলেই জনবান্ধব হতো, তবে ঢাকা থেকে রংপুর পর্যন্ত তাদের হেঁটে আসা উচিত ছিল।” এ সময় জামায়াত জোটের এক নেতার বিরুদ্ধে আওয়ামী লীগের গাড়ি ব্যবহার করে লংমার্চে আসার অভিযোগও তোলেন তিনি।লংমার্চের কারণে জনভোগান্তি ও অর্থনৈতিক ক্ষতির আশঙ্কা প্রকাশ করে প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক সহকারী বলেন, সাত দফা দাবির জন্য রাস্তাঘাট বন্ধ করে এমন কর্মসূচির কোনো প্রয়োজন নেই। দীর্ঘ সময় প্রধান সড়ক বন্ধ থাকলে সাধারণ মানুষের চরম ভোগান্তির পাশাপাশি বড় ধরনের অর্থনৈতিক ক্ষতি হয়। এর মাধ্যমে সরকারকে দেশ পরিচালনায় অসহযোগিতা করা হচ্ছে এবং জ্বালানির অপচয় ঘটানো হচ্ছে। তিনি দাবি করেন, আওয়ামী লীগও এই লংমার্চকে ঘিরে পরিবেশ অশান্ত করার চেষ্টা করছে, যার কারণে পুলিশ ও গোয়েন্দা সংস্থাগুলো সতর্ক অবস্থানে রয়েছে।তবে লংমার্চকে অযৌক্তিক মনে করলেও বর্তমান সরকার ভিন্নমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল উল্লেখ করে তিনি জানান, বিএনপি ও সরকার এই কর্মসূচিতে সার্বিক সহযোগিতা করবে।এর আগে, রাশেদ খাঁন রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্বাস্থ্যসেবার মান ও পরিধি বাড়াতে কর্মকর্তা ও চিকিৎসকদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন। পরে হাসপাতালের বার্ন ইউনিট পরিদর্শন করে চিকিৎসাধীন রোগী ও তাঁদের স্বজনদের সাথে কথা বলেন।এ সময় অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন জেলা পরিষদের প্রশাসক ও জেলা বিএনপির আহ্বায়ক সাইফুল ইসলাম, জেলা বিএনপির সিনিয়র সদস্য ফজলুর রহমান বাদল, লিটন পারভেজ, বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর ড. ফেরদৌস রহমান এবং বেরোবি ছাত্রদলের সভাপতি রাফায়েল ইমতিয়াজ ইয়ামিনসহ স্থানীয় নেতৃবৃন্দ।