গবেষণার জন্য দান করা মরদেহের অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ অবৈধভাবে বিক্রির ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোকে ৫ কোটি ৩০ লাখ ডলার ক্ষতিপূরণ দিতে সম্মত হয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়।

সোমবার (১৭ আগস্ট) বোস্টনের একটি আদালতে এই সমঝোতা প্রস্তাব অনুমোদনের জন্য দাখিল করা হয়। এর মাধ্যমে হার্ভার্ড মেডিকেল স্কুলের বিরুদ্ধে দায়ের করা একাধিক মামলা নিষ্পত্তির পথ তৈরি হয়েছে।

মামলার সূত্রে জানা যায়, হার্ভার্ড মেডিকেল স্কুলের সাবেক মর্গ ব্যবস্থাপক সেড্রিক লজ ২০১৮ থেকে ২০২১ সাল পর্যন্ত গবেষণার জন্য দান করা মরদেহ থেকে বিভিন্ন অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ চুরি করে কালোবাজারে বিক্রি করতেন। তার সঙ্গে এ কর্মকাণ্ডে স্ত্রী ও আরও কয়েকজন জড়িত ছিলেন।

লজ হার্ভার্ডের ‘অ্যানাটমিক্যাল গিফটস প্রোগ্রাম’-এর ব্যবস্থাপক হিসেবে দায়িত্ব পালনের সুযোগ নিয়ে মরদেহের বিভিন্ন অংশ সংগ্রহ করতেন। পরে পেনসিলভানিয়া ও ম্যাসাচুসেটসের ক্রেতাদের কাছে সেগুলো বিক্রি করা হতো। ২০২৫ সালে লজ ও তার ছয় সহযোগীর বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করা হয়। পরে তারা সবাই দোষ স্বীকার করেন। লজকে কারাদণ্ড দেওয়া হয় এবং তার স্ত্রীকে এক বছর এক দিনের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।

এদিকে, ২০২৩ সালে ক্ষতিগ্রস্ত কয়েকটি পরিবার হার্ভার্ডের বিরুদ্ধে দেওয়ানি মামলা করে। তাদের অভিযোগ, লজের অনিয়ম সম্পর্কে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ আগে থেকেই জানলেও তা বন্ধে যথাযথ ব্যবস্থা নেয়নি।

হার্ভার্ডের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, লজের কর্মকাণ্ড ছিল ‘নৈতিকভাবে নিন্দনীয়’ এবং মরদেহ দানকারী ও তাদের পরিবারের প্রতি প্রতিষ্ঠানের দায়িত্বের সম্পূর্ণ পরিপন্থী।

আদালত সমঝোতা অনুমোদন করলে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর জন্য ৫৩ মিলিয়ন ডলারের তহবিল গঠন করা হবে। পাশাপাশি ২০২৭-২৮ শিক্ষাবর্ষ থেকে মরদেহ দানকারীদের সম্মান জানাতে মেডিকেল শিক্ষার্থীদের জন্য প্রতিবছর একটি বৃত্তিও চালু করবে হার্ভার্ড।