ভারতে ইলিশ রপ্তানির অনুমতি পাওয়া ৩৭ প্রতিষ্ঠানের মধ্যে ৪টি প্রতিষ্ঠানের মালিকানা আওয়ামী লীগ নেতা নিরব হোসেন টুটুলের সঙ্গে যুক্ত। এর মধ্যে দুইটি তার কন্যাদের নামে, একটি ছোট মামার নামে এবং আরেকটি মামাতো ভাইয়ের নামে নেওয়া হয়েছে। বেনাপোল স্থলবন্দরের মৎস্য কোয়ারেন্টাইন সূত্র জানিয়েছে, টুটুলের তানিসা এন্টারপ্রাইজ ইতোমধ্যে ১ হাজার ৩৬০ কেজি ইলিশ ভারতে পাঠিয়েছে। দুই দিনে মোট প্রায় ২ হাজার কেজি ইলিশ গেছে কলকাতায়।
শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর কলকাতায় পালিয়ে যাওয়া টুটুল বর্তমানে সেখান থেকেই বরিশালের পোর্ট রোড ইলিশ মোকামের ব্যবসা নিয়ন্ত্রণ করছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয় ব্যবসায়ীদের দাবি, টুটুলের অনুপস্থিতিতেও তার লোকজন আগের মতোই মোকামে মাছ কিনছেন। ফলে এখনো কার্যত টুটুলের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে এই মোকাম।
বরিশালের দ্বিতীয় মেয়র হিসাবে পরিচিত টুটুল মহানগর আওয়ামী লীগের শিল্প ও বাণিজ্য সম্পাদক। সাদিক আব্দুল্লাহর ঘনিষ্ঠ হিসেবে নগরীর হাট-ঘাট-বাজার-বাসস্ট্যান্ডের ইজারাদারি নিয়ন্ত্রণসহ মাছের ব্যবসায় অঘোষিত সম্রাট ছিলেন তিনি। পা হারিয়ে কৃত্রিম পা ব্যবহার করলেও এক সময় তাকে বরিশালে সবাই “টুটুল মামা” নামে চিনত।
এদিকে মৎস্য আড়তদার সমিতির সাধারণ সম্পাদক ও জাতীয়তাবাদী মৎস্যজীবী দলের বরিশাল মহানগর সদস্য সচিব কামাল সিকদার বলেছেন, ইলিশ রপ্তানির অনুমতি দিয়েছে সরকার, তাই তারা কারও ব্যবসায় বাধা দেওয়ার ক্ষমতা রাখেন না। অন্যদিকে টুটুলের সঙ্গে বিএনপির কয়েকজন নেতার যোগসাজশের অভিযোগ উঠলেও তারা তা অস্বীকার করেছেন।
মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, এ বছর প্রতিটি লাইসেন্সের বিপরীতে ২০ থেকে ৫০ টনের বেশি ইলিশ পাঠানো যাবে না। এই নিয়ম মাথায় রেখেই টুটুল ৪টি লাইসেন্স নিয়েছেন, যাতে কমপক্ষে ২০০ টন ইলিশ রপ্তানি করতে পারেন। যার বাজারমূল্য প্রায় ৩০ কোটি ৬০ লাখ টাকা।
কলকাতায় অবস্থানরত নিরব হোসেন টুটুলের ফোনে একাধিকবার চেষ্টা করলেও তার সঙ্গে যোগাযোগ সম্ভব হয়নি।

ডেস্ক রিপোর্ট 

























