ঢাকা , শনিবার, ১৬ মে ২০২৬, ২ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম ::
চিকি/ৎসার নামে লন্ডনে, আর সময় কাটছে শপিংয়ে— রাষ্ট্রপতিকে ঘিরে বিতর্ক ‘রবার্ট ক্লাইভ-মীর জাফরের চুক্তির মতোই ইউনূসের সঙ্গে আমেরিকার চুক্তি’ পাকিস্তানের ‘জেএফ-১৭ ব্লক ৩’ সিমুলেটর ঢাকায়, যুদ্ধবিমান চুক্তির ইঙ্গিত দেখছেন বিশ্লেষকরা স্ত্রীর পরকীয়া, ফেসবুকে পোস্ট দিয়ে জীবন দিলেন ব্যবসায়ী চীন থেকে দেশে ফেরার পথেই তাইওয়ানের বিরুদ্ধে ট্রাম্পের হুঁশিয়ারি মেসি আর খেলবেন না, ভাবতেই মন খারাপ হয় কোচ স্ক্যালোনির কারিনা, তোমার মতো সাহসী মানুষের দরকার ছিল বাংলাদেশে: তাসনিম জারা ৬০ শতাংশ সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামে বাঁচছে ইরানের লাখ লাখ শিশু, বিস্ফোরক তথ্য প্রকাশ ক্লাইভের সঙ্গে মীর জাফরের চুক্তি আর আমেরিকার সঙ্গে ইউনূসের চুক্তি একইঃ ফজলুর রহমান ভারতে মসজিদকে মন্দির ঘোষণা আদালতের, নামাজ পড়তে পারবেন না মুসল্লিরা

একাত্তরের চেতনা ব্যবসার মতো চব্বিশ নিয়েও যেন না হয়: সালাউদ্দিন

  • ডেস্ক রিপোর্ট
  • আপডেট সময় ১২:০২:০৪ অপরাহ্ন, সোমবার, ২১ জুলাই ২০২৫
  • ২৩৬ বার পড়া হয়েছে

এবার বিএনপির জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাউদ্দিন আহমেদ বলেছেন, “একাত্তরের চেতনা যেমন বহুবার ব্যবহৃত হয়েছে ব্যক্তিগত ও দলীয় স্বার্থসিদ্ধির জন্য, তেমনি যেন ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানের চেতনা নিয়েও একই ধরনের চেতনা-ব্যবসা না হয়। রোববার বিকেলে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের টিএসসি অডিটোরিয়ামে ‘স্ফুলিঙ্গ থেকে দাবানল: অভ্যুত্থানের অজানা অধ্যায়’ শীর্ষক গ্রন্থের মোড়ক উন্মোচন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

সালাউদ্দিন আহমেদ বলেন, “এই ২৪ এর গণঅভ্যুত্থান নিয়ে নির্মোহ ইতিহাস লেখার এখনই সময়। জানিনা এই অভ্যুত্থান নিয়ে কত ইতিহাস হবে, কত কাব্য হবে, উপন্যাস হবে, নাটক হবে, কত স্মৃতিচারণ হবে, কত পদ্য রচনা হবে। তবে গণ অভ্যুত্থানের উপাখ্যান নিয়ে লেখা কখনো শেষ হবে না। তবে আমি অনুধাবন করি, একাত্তরের চেতনা ব্যবসার মতো চব্বিশের গণঅভ্যুত্থান নিয়েও যেন কোনো চেতনা ব্যবসা না হয়, সেদিকে আমাদের লক্ষ্য রাখা উচিত। আমি তাদেরকে নসিহত করি, যারা ২৪ এর গণঅভ্যুত্থানের একমাত্র ভাগীদার হিসেবে নিজেদের দাবি করতে চায়- তারা যেন উপলব্ধি করে, একটা গণঅভ্যুত্থান সারাদেশের আপামর জনতার অংশগ্রহণ ছাড়া অনুষ্ঠিত হয় না।”

তিনি বলেন, “বিগত ২৪-এর গণঅভ্যুত্থানে ছাত্র-ছাত্রীদের স্লোগানে ১৫ জুলাই যে স্ফুলিঙ্গ সৃষ্টি হয়েছিল, তা শহীদ আবু সাঈদ ও ওয়াসিম মুগ্ধর জীবন দানের মধ্য দিয়ে দাবানলে পরিণত হয়। অভ্যুত্থানের সেই শহীদরাই আন্দোলনের স্ফুলিঙ্গকে দাবানলে রূপান্তর করে ছড়িয়ে দিয়েছেন। সেই দাবানলে পুড়ে ছারখার হয়েছে স্বৈরাচারী ফ্যাসিস্টদের মসনদ। সবাইকে নিয়ে অতঃপর আমরা বিজয় অর্জন করেছি।”

তিনি বলেন, “আমি পঙ্গু হাসপাতালে আহতদের দেখতে গিয়ে দেখেছি তারা কীভাবে জীবন নিয়ে সংগ্রাম করছে। আগামী বাংলাদেশ হবে আহতদের স্বপ্নের বাংলাদেশ। তারা যেভাবে চায়, সেভাবেই গঠিত হবে আগামীর নতুন বাংলাদেশ। শহীদদের স্বপ্ন ছিল বৈষম্যহীন একটি মানবিক মর্যাদাপূর্ণ রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার। সেই সাম্যের বাংলাদেশ আমাদের বিনির্মাণ করতে হবে একসাথে। ফ্যাসিবাদ বিরোধী সকল শক্তিকে জাতীয় ঐক্যতে পরিণত করতে হবে। এই কথা যেন আমরা ভুলে না যাই।”

বর্তমান রাজনৈতিক বিভাজন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “আজকে গণতান্ত্রিক শক্তিগুলোর মধ্যে কারা বিভেদ তৈরি করছে? অথচ আমরা গণতান্ত্রিক শক্তিসমূহ পরস্পর লড়াই করছি আর আরামে আছে দিল্লিওয়ালারা। আমাদের মধ্যে পরস্পর বিভেদ এবং লড়াই, তারাই উপকৃত হবে। গণঅভ্যুত্থানের এক বছর যেতে না যেতেই আমরা গণতান্ত্রিক সংগ্রামের ত্যাগ-তিতিক্ষা-লড়াইকে ভুলে যাচ্ছি। আমরা পরস্পরকে মর্যাদাবান করার পরিবর্তে অপমানিত করার সুযোগ নিচ্ছি। কেন জানিনা আমাদের মধ্যে ইদানীং সে চর্চাটা শুরু হয়ে গেছে।”

সালাউদ্দিন আহমেদ বলেন, “বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান শুধু বহুদলীয় গণতন্ত্রই প্রতিষ্ঠা করেননি, তিনি রাষ্ট্রের আরক্ষিক স্বাধীনতা- তথা সেনাবাহিনী, প্রশাসন, বিচার বিভাগ ও অর্থনীতিকে রাজনীতির প্রভাব থেকে মুক্ত রেখে একটি শক্তিশালী সার্বভৌম রাষ্ট্র গঠনের ভিত্তি স্থাপন করেছেন।” তিনি আরও বলেন, “আজ যারা দেশপ্রেমের কথা বলে, তারা জিয়ার আত্মত্যাগের ইতিহাস ভুলে গেলে চলবে না। তিনি শুধু একজন মুক্তিযোদ্ধা নন, গণতন্ত্র ও স্বাধীনতার অন্যতম রূপকার। আজ যখন গণতন্ত্র হুমকির মুখে, তখন শহীদ জিয়ার আদর্শই পারে জাতিকে নতুন করে পথ দেখাতে।”

ট্যাগস

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

জনপ্রিয় সংবাদ

চিকি/ৎসার নামে লন্ডনে, আর সময় কাটছে শপিংয়ে— রাষ্ট্রপতিকে ঘিরে বিতর্ক

একাত্তরের চেতনা ব্যবসার মতো চব্বিশ নিয়েও যেন না হয়: সালাউদ্দিন

আপডেট সময় ১২:০২:০৪ অপরাহ্ন, সোমবার, ২১ জুলাই ২০২৫

এবার বিএনপির জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাউদ্দিন আহমেদ বলেছেন, “একাত্তরের চেতনা যেমন বহুবার ব্যবহৃত হয়েছে ব্যক্তিগত ও দলীয় স্বার্থসিদ্ধির জন্য, তেমনি যেন ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানের চেতনা নিয়েও একই ধরনের চেতনা-ব্যবসা না হয়। রোববার বিকেলে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের টিএসসি অডিটোরিয়ামে ‘স্ফুলিঙ্গ থেকে দাবানল: অভ্যুত্থানের অজানা অধ্যায়’ শীর্ষক গ্রন্থের মোড়ক উন্মোচন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

সালাউদ্দিন আহমেদ বলেন, “এই ২৪ এর গণঅভ্যুত্থান নিয়ে নির্মোহ ইতিহাস লেখার এখনই সময়। জানিনা এই অভ্যুত্থান নিয়ে কত ইতিহাস হবে, কত কাব্য হবে, উপন্যাস হবে, নাটক হবে, কত স্মৃতিচারণ হবে, কত পদ্য রচনা হবে। তবে গণ অভ্যুত্থানের উপাখ্যান নিয়ে লেখা কখনো শেষ হবে না। তবে আমি অনুধাবন করি, একাত্তরের চেতনা ব্যবসার মতো চব্বিশের গণঅভ্যুত্থান নিয়েও যেন কোনো চেতনা ব্যবসা না হয়, সেদিকে আমাদের লক্ষ্য রাখা উচিত। আমি তাদেরকে নসিহত করি, যারা ২৪ এর গণঅভ্যুত্থানের একমাত্র ভাগীদার হিসেবে নিজেদের দাবি করতে চায়- তারা যেন উপলব্ধি করে, একটা গণঅভ্যুত্থান সারাদেশের আপামর জনতার অংশগ্রহণ ছাড়া অনুষ্ঠিত হয় না।”

তিনি বলেন, “বিগত ২৪-এর গণঅভ্যুত্থানে ছাত্র-ছাত্রীদের স্লোগানে ১৫ জুলাই যে স্ফুলিঙ্গ সৃষ্টি হয়েছিল, তা শহীদ আবু সাঈদ ও ওয়াসিম মুগ্ধর জীবন দানের মধ্য দিয়ে দাবানলে পরিণত হয়। অভ্যুত্থানের সেই শহীদরাই আন্দোলনের স্ফুলিঙ্গকে দাবানলে রূপান্তর করে ছড়িয়ে দিয়েছেন। সেই দাবানলে পুড়ে ছারখার হয়েছে স্বৈরাচারী ফ্যাসিস্টদের মসনদ। সবাইকে নিয়ে অতঃপর আমরা বিজয় অর্জন করেছি।”

তিনি বলেন, “আমি পঙ্গু হাসপাতালে আহতদের দেখতে গিয়ে দেখেছি তারা কীভাবে জীবন নিয়ে সংগ্রাম করছে। আগামী বাংলাদেশ হবে আহতদের স্বপ্নের বাংলাদেশ। তারা যেভাবে চায়, সেভাবেই গঠিত হবে আগামীর নতুন বাংলাদেশ। শহীদদের স্বপ্ন ছিল বৈষম্যহীন একটি মানবিক মর্যাদাপূর্ণ রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার। সেই সাম্যের বাংলাদেশ আমাদের বিনির্মাণ করতে হবে একসাথে। ফ্যাসিবাদ বিরোধী সকল শক্তিকে জাতীয় ঐক্যতে পরিণত করতে হবে। এই কথা যেন আমরা ভুলে না যাই।”

বর্তমান রাজনৈতিক বিভাজন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “আজকে গণতান্ত্রিক শক্তিগুলোর মধ্যে কারা বিভেদ তৈরি করছে? অথচ আমরা গণতান্ত্রিক শক্তিসমূহ পরস্পর লড়াই করছি আর আরামে আছে দিল্লিওয়ালারা। আমাদের মধ্যে পরস্পর বিভেদ এবং লড়াই, তারাই উপকৃত হবে। গণঅভ্যুত্থানের এক বছর যেতে না যেতেই আমরা গণতান্ত্রিক সংগ্রামের ত্যাগ-তিতিক্ষা-লড়াইকে ভুলে যাচ্ছি। আমরা পরস্পরকে মর্যাদাবান করার পরিবর্তে অপমানিত করার সুযোগ নিচ্ছি। কেন জানিনা আমাদের মধ্যে ইদানীং সে চর্চাটা শুরু হয়ে গেছে।”

সালাউদ্দিন আহমেদ বলেন, “বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান শুধু বহুদলীয় গণতন্ত্রই প্রতিষ্ঠা করেননি, তিনি রাষ্ট্রের আরক্ষিক স্বাধীনতা- তথা সেনাবাহিনী, প্রশাসন, বিচার বিভাগ ও অর্থনীতিকে রাজনীতির প্রভাব থেকে মুক্ত রেখে একটি শক্তিশালী সার্বভৌম রাষ্ট্র গঠনের ভিত্তি স্থাপন করেছেন।” তিনি আরও বলেন, “আজ যারা দেশপ্রেমের কথা বলে, তারা জিয়ার আত্মত্যাগের ইতিহাস ভুলে গেলে চলবে না। তিনি শুধু একজন মুক্তিযোদ্ধা নন, গণতন্ত্র ও স্বাধীনতার অন্যতম রূপকার। আজ যখন গণতন্ত্র হুমকির মুখে, তখন শহীদ জিয়ার আদর্শই পারে জাতিকে নতুন করে পথ দেখাতে।”