ভয়াবহ জ্বালানি সংকটে বিপর্যস্ত বৃহত্তর চট্টগ্রাম। গ্যাসের অভাবে বন্ধ হয়ে গেছে একাধিক বিদ্যুৎকেন্দ্র। উৎপাদন কমেছে আরও কয়েকটিতে। ফলে তীব্র গরমের মধ্যে নগর ও গ্রামাঞ্চলে বাড়ছে লোডশেডিং। সংকটে পড়েছেন সাধারণ মানুষ থেকে শুরু করে শিল্পকারখানার মালিকরাও।
বিদ্যুৎ বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, চট্টগ্রামের ২৮টি বিদ্যুৎকেন্দ্রের মধ্যে ছয়টিতে ইতোমধ্যে উৎপাদন পুরোপুরি বন্ধ রয়েছে। আরও কয়েকটি কেন্দ্র চলছে সক্ষমতার মাত্র এক-তৃতীয়াংশে। এই পরিস্থিতিতে নগরীতে ঘণ্টার পর ঘণ্টা বিদ্যুৎ থাকছে না। গ্রামাঞ্চলে কোথাও কোথাও দিনে ৮ থেকে ১০ ঘণ্টা পর্যন্ত লোডশেডিং হচ্ছে।
বন্ধ হয়ে যাওয়া কেন্দ্রগুলোর মধ্যে রয়েছে হাটহাজারী, রাউজান-১ ও রাউজান-২, কাপ্তাই সোলার, টেকনাফ সোলার এবং ইউনাইটেড পাওয়ার। এছাড়া আনলিমা এনার্জি, আনোয়ারা ইউনাইটেড, বারাকা, বারাকা কর্ণফুলী, জুলদা-১ ও জুলদা-২সহ কয়েকটি কেন্দ্রে উৎপাদন নেমে এসেছে প্রায় এক-তৃতীয়াংশে।
পিডিবির হিসাবে চট্টগ্রামে চাহিদা অনুযায়ী বিদ্যুৎ সরবরাহ রয়েছে এবং কাগজে-কলমে লোডশেডিং শূন্য। তবে বাস্তব চিত্র বলছে ভিন্ন কথা। নগরীর বিভিন্ন এলাকায় প্রতিদিনই ঘণ্টার পর ঘণ্টা বিদ্যুৎ থাকছে না।
পাথরঘাটা, হালিশহর, কালুরঘাট, বায়েজিদ বোস্তামীসহ বিভিন্ন এলাকায় ঘনঘন লোডশেডিং হচ্ছে। এতে শিল্পকারখানায় উৎপাদন কমেছে প্রায় ৩০ শতাংশ পর্যন্ত। জেনারেটর চালিয়েও পরিস্থিতি সামাল দিতে হিমশিম খাচ্ছেন ব্যবসায়ীরা।
এদিকে গ্যাস সংকটে সাড়ে পাঁচ মাস ধরে বন্ধ রয়েছে চিটাগাং ইউরিয়া ফার্টিলাইজার লিমিটেড—সিইউএফএলের উৎপাদন। গত ৪ মার্চ থেকে বন্ধ থাকা কারখানাটি চালাতে প্রতিদিন প্রায় ৪৫ এমএমসিএফডি গ্যাস প্রয়োজন।
গ্যাস সরবরাহ স্বাভাবিক না হলে চট্টগ্রামের বিদ্যুৎ, শিল্প ও সার উৎপাদন—সব খাতেই সংকট আরও গভীর হওয়ার আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্টরা।

ডেস্ক রিপোর্ট 























