পাকিস্তানের সর্বোচ্চ আদালতের নির্দেশের পর কারাবন্দী সাবেক প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানকে চিকিৎসার জন্য রাওয়ালপিন্ডির আদিয়ালা কারাগার থেকে ইসলামাবাদের একটি বেসরকারি হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে।

শুক্রবার (২১ আগস্ট) ভোরে কঠোর নিরাপত্তার মধ্য দিয়ে ৭৩ বছর বয়সী ইমরান খানকে রাজধানীর শাফি ইন্টারন্যাশনাল হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। তার দল পাকিস্তান তেহরিক-ই-ইনসাফ বা পিটিআই বিষয়টি নিশ্চিত করেছে।

সর্বোচ্চ আদালতের নির্দেশে গঠিত একটি স্বাধীন মেডিকেল বোর্ডের অধীনে হাসপাতালে তার চিকিৎসা ও শারীরিক পরীক্ষা করা হবে। এর আগে মঙ্গলবার আদালত নির্দেশ দিয়েছিল, দুই দিনের মধ্যে ইমরান খানকে হাসপাতালে স্থানান্তর করে তার শারীরিক অবস্থা পরীক্ষা করতে হবে। বোর্ডে তার ব্যক্তিগত চিকিৎসককেও অন্তর্ভুক্ত করার নির্দেশ দেওয়া হয়।

সরকার আদালতের আদেশ চ্যালেঞ্জ করলেও শেষ পর্যন্ত ইমরান খানকে হাসপাতালে নেওয়ার উদ্যোগ বাস্তবায়ন করা হয়।

কারাগারের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, অতিরিক্ত উদ্বেগ এবং রক্তচাপের ওঠানামার কারণে তার চিকিৎসার প্রয়োজন দেখা দিয়েছে। বিশেষ করে তার ডান চোখের দৃষ্টিশক্তি নিয়ে উদ্বেগ রয়েছে। পাশাপাশি দীর্ঘদিন ধরে পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে সীমিত যোগাযোগ নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেছে তার দল ও পরিবার।

২০২২ সালের এপ্রিলে অনাস্থা ভোটে ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর ২০২৩ সালের আগস্ট থেকে কারাগারে রয়েছেন ইমরান খান। রাষ্ট্রীয় উপহার বিক্রির মামলায় তিনি দণ্ডিত হয়েছেন। তবে তার বিরুদ্ধে আনা সব অভিযোগ রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে দাবি করে আসছে পিটিআই।

পাকিস্তানের সংসদীয় বিষয়ক মন্ত্রী তারিক ফজল চৌধুরী জানিয়েছেন, আদালতের আদেশ পুরোপুরি বাস্তবায়ন করা হবে।

অন্যদিকে ইমরান খানের আইনজীবী উজায়ের ভান্ডারী জানিয়েছেন, আগামী ১৬ সেপ্টেম্বর আদালতে পরবর্তী শুনানি পর্যন্ত ইমরান খান হাসপাতালে চিকিৎসাধীন থাকতে পারেন।

আদালতের নির্দেশে হাসপাতালে স্থানান্তরের পর এখন তার শারীরিক অবস্থার উন্নতি এবং চিকিৎসা নিয়ে পরবর্তী সিদ্ধান্তের দিকে নজর রয়েছে।