চট্টগ্রামে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোর বড় একটি অংশে প্রধান শিক্ষকের পদ শূন্য থাকায় ব্যাহত হচ্ছে প্রশাসনিক কার্যক্রম ও পাঠদান। জেলার প্রায় ৪০ শতাংশ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়েই নেই নিয়মিত প্রধান শিক্ষক। ফলে সহকারী শিক্ষকদেরই ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকের দায়িত্ব পালন করতে হচ্ছে।
জেলা প্রাথমিক শিক্ষা দপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, চট্টগ্রামে মোট ২ হাজার ২৬৯টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় রয়েছে। এসব বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষকের অনুমোদিত পদের বিপরীতে কর্মরত আছেন ১ হাজার ৩২৬ জন। অর্থাৎ শূন্য রয়েছে ৯৪৩টি পদ। এসব বিদ্যালয়ে জ্যেষ্ঠ সহকারী শিক্ষকেরা ভারপ্রাপ্ত বা চলতি দায়িত্বে প্রতিষ্ঠান পরিচালনা করছেন।
শুধু প্রধান শিক্ষক নয়, সহকারী শিক্ষক পদেও রয়েছে বড় ঘাটতি। ১৪ হাজার ২৮৭টি অনুমোদিত পদের বিপরীতে কর্মরত আছেন ১৩ হাজার ২০১ জন। ফলে শূন্য রয়েছে আরও ১ হাজার ৮৬টি পদ। এতে অনেক বিদ্যালয়ে প্রয়োজনের তুলনায় কম শিক্ষক দিয়ে পাঠদান চালাতে হচ্ছে।
উপজেলাগুলোর মধ্যে সবচেয়ে বেশি প্রধান শিক্ষক সংকট ফটিকছড়িতে। উপজেলার ২২৯টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মধ্যে ১৩৯টিতেই প্রধান শিক্ষক নেই। এর মধ্যে ৫২টি বিদ্যালয়ে সহকারী শিক্ষকেরা চলতি দায়িত্ব পালন করছেন।
জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা ফিরোজ আহমেদ জানান, দীর্ঘদিন নতুন নিয়োগ না হওয়া এবং নিয়োগসংক্রান্ত মামলা চলায় শূন্য পদগুলো পূরণ করা যায়নি। এর পাশাপাশি কয়েকটি বিদ্যালয়ে ভবনসংকট থাকায় শিক্ষা কার্যক্রমেও জটিলতা তৈরি হচ্ছে।
শিক্ষকরা বলছেন, ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষককে একই সঙ্গে শ্রেণিকক্ষে পাঠদান এবং প্রশাসনিক কাজ সামলাতে হচ্ছে। শিক্ষা অফিসের সঙ্গে সমন্বয়, বিভিন্ন প্রতিবেদন তৈরি, আর্থিক হিসাব ও শিক্ষক উপস্থিতি তদারকির মতো কাজে সময় দিতে গিয়ে নিয়মিত ক্লাসও ব্যাহত হচ্ছে। ফলে সেই চাপ পড়ছে অন্য শিক্ষকদের ওপর।
লোহাগাড়ার রাজঘাটা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক রাকিবুল হাসান জানান, ছয়জন শিক্ষক থাকার কথা থাকলেও তাদের বিদ্যালয়ে রয়েছেন মাত্র তিনজন। ফলে শিক্ষার্থীদের নিয়মিত ও মানসম্মত পাঠদান করা কঠিন হয়ে পড়েছে।
শিক্ষা-সংশ্লিষ্টদের মতে, প্রাথমিক শিক্ষার গুণগত মান নিশ্চিত করতে দ্রুত প্রধান শিক্ষক ও সহকারী শিক্ষকের শূন্য পদ পূরণ করা জরুরি।
এদিকে, গত বুধবার চট্টগ্রামে এক অনুষ্ঠানে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ জানান, দীর্ঘদিনের আইনি জটিলতার কারণে ৩২ হাজারের বেশি প্রধান শিক্ষক নিয়োগ বন্ধ ছিল। আদালতের রায়ের পর সেই জটিলতা কেটে গেছে এবং দ্রুত নিয়োগ প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে।
তিনি আরও জানান, প্রধান শিক্ষক নিয়োগের পর সহকারী শিক্ষকদের যেসব পদ শূন্য হবে, সেগুলোতেও নতুন নিয়োগ দেওয়া হবে। পাশাপাশি ১৪ হাজারের বেশি সহকারী শিক্ষক নিয়োগের প্রক্রিয়াও চলমান রয়েছে।

ডেস্ক রিপোর্ট 























