নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁয়ে আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে বিএনপির দুই পক্ষের সংঘর্ষ ও কার্যালয় ভাঙচুরের রেশ কাটতে না কাটতেই এবার আসবাবপত্র ও জানালার গ্রিল লুটের অভিযোগ উঠেছে।
বৃহস্পতিবার (২১ আগস্ট) রাতে পিরোজপুর ইউনিয়ন বিএনপির ৬ নম্বর ওয়ার্ড এলাকার কার্যালয়ে এ লুটের ঘটনা ঘটে। এর আগে বুধবার দুপুরে উভয় পক্ষের সংঘর্ষে ওয়ার্ড সভাপতিসহ অন্তত ১১ জন আহত হন।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সোনারগাঁ উপজেলা বিএনপির যুগ্ম সম্পাদক আব্দুর রউফ ও একই কমিটির স্বেচ্ছাসেবক বিষয়ক সম্পাদক আব্দুল জলিল আপন দুই ভাই হলেও তাদের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে আধিপত্য বিস্তার নিয়ে বিরোধ চলে আসছে। গত বুধবার দুপুরে আব্দুল জলিলের নেতৃত্বে নুরুজ্জামান, সবুর খাঁন, আব্দুল লতিফসহ ১০-১৫ জনের একটি দল দেশীয় অস্ত্র নিয়ে পিরোজপুর ইউনিয়ন ৬ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির কার্যালয়ে হামলা চালায়। হামলায় কার্যালয়ের দরজা, জানালা, চেয়ার ও টেবিল ভাঙচুর করা হয়।
এতে আব্দুর রউফ পক্ষের ৬ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি বাবুল বেপারী, ইউনিয়ন বিএনপির যুগ্ম সম্পাদক আবু বকর সিদ্দিক, সহসভাপতি রফিকুল ইসলাম, সদস্য মফিজুল ইসলাম মফিজ, আবু আক্কাস, ইয়ানবি, রিফাত ও রাফিদ আহত হন। অপর পক্ষের আব্দুল জলিল, সবুর খাঁন ও ডালিম আহত হন। আহতদের সোনারগাঁও উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ও ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
সংঘর্ষের রেশ না কাটতেই গত বৃহস্পতিবার রাতে আব্দুল জলিলের নেতৃত্বে পুনরায় বিএনপি কার্যালয়ের চেয়ার, টেবিল, কেবিনেটসহ সমস্ত আসবাবপত্র এবং জানালার গ্রিল লুট করে নিয়ে যাওয়ার অভিযোগ উঠেছে।
ভুক্তভোগীদের দাবি, এ সময় দলের শীর্ষ নেতা তারেক রহমান, খালেদা জিয়া ও জিয়াউর রহমানের ছবিও ভাঙচুর করা হয়। এ ঘটনায় উভয় পক্ষ সোনারগাঁ থানায় পৃথক অভিযোগ দায়ের করেছেন।
আব্দুর রউফ জানান, আওয়ামী লীগ ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর তিনি নিজস্ব অর্থায়নে পিরোজপুর ইউনিয়নের ৬ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির কার্যালয় নির্মাণ করেন। পূর্ব বিরোধের জেরে আব্দুল জলিলের নেতৃত্বে প্রথমে হামলা ও ভাঙচুর চালানো হয় এবং পরবর্তীতে রাতে কার্যালয়ের সমস্ত আসবাবপত্র ও জানালার গ্রিল লুট করে নিয়ে যাওয়া হয়।
অন্যদিকে, অভিযোগ অস্বীকার করে আব্দুল জলিল জানান, আব্দুর রউফের স্ত্রী-ছেলেরাই পিকাপ ভ্যানে দলীয় কার্যালয়ের চেয়ার-টেবিল ও জানালার গ্রিল সরিয়ে নিয়েছেন। দলীয়ভাবে তার ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করতেই এ ধরনের অপপ্রচার চালানো হচ্ছে বলে দাবি করেন তিনি।
সোনারগাঁও উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মো. মোশারফ হোসেন বলেন, ব্যক্তিগত বিরোধের জেরে দলীয় কার্যালয়ে ভাঙচুর ও লুটের ন্যাক্কারজনক ঘটনা ঘটেছে। এর আগেও তাদের মধ্যে সংঘাতের ঘটনা ঘটেছিল। দলীয় পদ ব্যবহার করে কেউ অপকর্মে জড়িত থাকলে তাকে বিন্দুমাত্র ছাড় দেওয়া হবে না। বিষয়টি নিয়ে স্থানীয় সংসদ সদস্যের সঙ্গে আলোচনা করে দ্রুত দলীয় সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
সোনারগাঁও থানার পরিদর্শক (তদন্ত) আনোয়ার হোসেন জানান, হামলা ও সংঘর্ষের ঘটনায় উভয় পক্ষ থানায় অভিযোগ দিয়েছে। বিষয়টি তারা দলীয়ভাবে বা নিজেদের মধ্যে মীমাংসা করতে পারলে মামলার প্রয়োজন নেই। তবে মীমাংসা না হলে উভয় পক্ষের অভিযোগ আইনগত প্রক্রিয়ায় গ্রহণ করা হবে।

ডেস্ক রিপোর্ট 


















