ভূমিকম্পের উৎপত্তিস্থল নরসিংদীতে শিশুসহ চারজন নিহত হয়েছেন। পাশাপাশি আতঙ্কে উঁচু ভবন থেকে নামতে গিয়ে জেলার বিভিন্ন স্থানে শতাধিক মানুষ আহত হয়েছেন বলে জানিয়েছে জেলা প্রশাসন। শুক্রবার (২১ নভেম্বর) সন্ধ্যা ৬টা ১৫ মিনিটে প্রকাশিত জেলা প্রশাসনের এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, সদর উপজেলার গাবতলিতে একটি নির্মাণাধীন ভবনের মালামাল নিচে পড়ে শিশুসহ চারজন আহত হন। তাদের ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক শিশু হাফেজ ওমর (৮) কে মৃত ঘোষণা করেন। তার বাবা দেলোয়ার হোসেন উজ্জ্বলের অবস্থা আশঙ্কাজনক।
শিবপুর উপজেলার গাজকিতলা (পূর্বপাড়া) এলাকায় ফোরকান (৪০) ভূমিকম্পের সময় গাছ থেকে পড়ে গুরুতর আহত হন এবং ঢাকায় নেওয়ার পথে মারা যান।
পলাশ উপজেলার ইসলামপাড়া নয়াপাড়া গ্রামে নাসিরউদ্দিন ভূমিকম্পের সময় মাঠে কাজ করছিলেন। কম্পনের সময় দৌঁড়ে পালাতে গিয়ে রাস্তা থেকে নিচে পড়ে তার মৃত্যু হয়। একই উপজেলার মালিতা পশ্চিমপাড়া গ্রামের কাজেম আলী ভূইয়া (৭৫) মাটির ঘর ধসে চাপা পড়ে গুরুতর আহত হন এবং হাসপাতালে নেওয়ার পথে মারা যান।
জেলা প্রশাসন জানায়, জেলা প্রশাসকের কার্যালয় ও সার্কিট হাউসসহ জেলার শতাধিক ভবনে ফাটল দেখা দিয়েছে। ঘোড়াশাল তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রের সাবস্টেশনে আগুন লাগে, যা পরে ফায়ার সার্ভিস নিয়ন্ত্রণে আনে। ভূমিকম্পে সাবস্টেশনের বিপুল পরিমাণ পিটিও (প্রোডাকশন ট্রান্সফরমার) ভেঙে পড়ে। এছাড়া, ঘোড়াশাল পলাশ ফার্টিলাইজার কারখানার ইউরিয়া উৎপাদন সাময়িকভাবে বন্ধ রয়েছে।
ভূমিকম্পজনিত ক্ষয়ক্ষতি ও পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণে কন্ট্রোল রুম চালু করা হয়েছে বলে জানিয়েছে জেলা প্রশাসন।
প্রসঙ্গত, আজ শুক্রবার সকাল ১০টা ৩৯ মিনিটে রাজধানী ঢাকাসহ সারাদেশে ৫.৭ মাত্রার ভূমিকম্প অনুভূত হয়, যার কেন্দ্র ছিল নরসিংদী এবং গভীরতা ১০ কিলোমিটার। তবে ইউএসজিএসের তথ্য অনুযায়ী, ভূমিকম্পটির মাত্রা ছিল ৫.৫।

ডেস্ক রিপোর্ট 

























