ঢাকা , শুক্রবার, ১১ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৭ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম ::
রাজনীতির পাশাপাশি আখিরাতের মুক্তির জন্যও কাজ করতে হবে: আজহার ভূগর্ভস্থ ঘাঁটিতে আবারও ক্ষেপণাস্ত্র উৎপাদন শুরু করেছে ইরান কারিগরি ত্রুটিতে বন্ধ আদানির ইউনিট, দেশে লোডশেডিং বাড়ার শঙ্কা আওয়ামী লীগ নিয়ে প্রশ্ন করলে বিব্রত বোধ করি: স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী সরকারি টাকা নষ্ট হবে, তাই প্রধানমন্ত্রী মোটা ও সাদা কাপড় পরেন: চিফ হুইপ দুদকের জনসংযোগ কর্মকর্তার বক্তব্য প্রত্যাহার চেয়ে আসিফ মাহমুদের আইনি নোটিশ ভুতুড়ে বিদ্যুৎ বিলের ক্ষোভ: ঠাকুরগাঁওয়ে ৫ ঘণ্টা অবরুদ্ধ মিটার রিডার, পরে উদ্ধার হুট করে একের পর এক বিদ্যুৎকেন্দ্র অচল, আরও বাড়ল লোডশেডিং চুরির অভিযোগে তিনজনকে হাত-পা বেঁধে পিটুনি, চোখে ঢালা হলো চুনের পানি বাক্‌স্বাধীনতা যেন বাক্ শালীনতার সীমা লঙ্ঘন না করে

রূপগঞ্জে ভূমিকম্পে দেয়াল ধসে চাপা পড়ে প্রাণ গেল শিশু ফাতেমার; আহত মা নিয়ে হাসপাতালে হাসপাতালে দৌড়াচ্ছে পরিবার

  • ডেস্ক রিপোর্ট
  • আপডেট সময় ১০:০৩:৪৬ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২১ নভেম্বর ২০২৫
  • ৪৮২ বার পড়া হয়েছে

 

শুক্রবার সকালের ভূমিকম্পে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়লে রূপগঞ্জের ক্যানেলপাড়ায় ঘটে যায় এক হৃদয়বিদারক ঘটনা। ভয়াবহ কম্পনের মধ্যেই পাশের একটি বাড়ির উঁচু দেয়াল হঠাৎ ধসে পড়ে। স্থানীয় বাসিন্দা ইমতিয়াজ বিকট শব্দ শুনে দৌড়ে গিয়ে দেখেন—ভেঙে পড়া দেয়ালের নিচ থেকে বের হয়ে আছে ছোট্ট দুটি হাত।

ইট সরিয়ে তিনি শিশু এক মেয়েকে উদ্ধার করেন, কিন্তু তাকে আর বাঁচানো যায়নি। এ সময় দেখতে পান—তার প্রতিবেশী ছোট্ট ফাতেমা ও তার মা কুলসুমও দেয়ালের নিচে চাপা পড়েছেন। পরে তাদের দু’জনকেই উদ্ধার করা হয়। দশ মাস বয়সী ফাতেমাকে বাঁচানো সম্ভব হয়নি, আর গুরুতর আহত মা কুলসুমকে নিয়ে তার স্বজনরা দৌড়াতে থাকেন এক হাসপাতাল থেকে আরেক হাসপাতালে।

ফাতেমার বাবা আব্দুল হক ও খালু মোহাম্মদ হোসেন জানান, ইউএস বাংলা হাসপাতাল, ঢাকা মেডিকেল ও ন্যাশনাল—কোথাও ভর্তি নিচ্ছিল না। মাথায় আঘাত পেয়ে অচেতন অবস্থায় থাকা কুলসুমকে ফিরিয়ে দেওয়া হচ্ছিল সিটের অভাবে। অসহায় স্বজনদের প্রশ্ন—“এমন অসুস্থ মানুষকে কোথায় নেব?”

স্থানীয় তুহিন বলেন, “হকের স্বপ্ন ছিল—তার দুই মেয়েকে মানুষ করে ডাক্তার বানাবেন। গরিবের সেবা করবে তার মেয়েরা। কিন্তু ছোট্ট ফাতেমা ডাক্তার তো দূরের কথা—ডাক্তারের কাছে যাওয়ার সময়ও পেল না।”

মর্মাহত আব্দুল হক বলেন, “প্রাণের টুকরারে দাফন করতে গিয়া একবারও দেখতে পারলাম না। কোলেও নিতে পারলাম না। আল্লাহ, এমন দিন যেন কোনো বাবার ভাগ্যে না আসে।”

দুপুরে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন ইউএনও সাইফুল ইসলাম। তিনি জানান, ধসে পড়া দেয়ালটি নিয়ম মেনে নির্মাণ করা হয়নি। ১০ ফুটের বেশি উঁচু সেই দেয়ালে ছিল না রড, না কোনো পিলার—যে কারণে সামান্য কম্পনেই ভারসাম্য হারিয়ে পড়ে যায়। ইউনিয়নে আরও বহু স্থাপনা নিয়মবহির্ভূতভাবে নির্মিত হয়েছে, এগুলো দ্রুত ভেঙে ফেলার নির্দেশ দেওয়া হবে বলেও তিনি জানান।

উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে নিহত ফাতেমার দাফন খরচ হিসেবে পরিবারকে ২০ হাজার টাকা সহায়তা দেওয়া হয়েছে।

ট্যাগস

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

জনপ্রিয় সংবাদ

রাজনীতির পাশাপাশি আখিরাতের মুক্তির জন্যও কাজ করতে হবে: আজহার

রূপগঞ্জে ভূমিকম্পে দেয়াল ধসে চাপা পড়ে প্রাণ গেল শিশু ফাতেমার; আহত মা নিয়ে হাসপাতালে হাসপাতালে দৌড়াচ্ছে পরিবার

আপডেট সময় ১০:০৩:৪৬ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২১ নভেম্বর ২০২৫

 

শুক্রবার সকালের ভূমিকম্পে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়লে রূপগঞ্জের ক্যানেলপাড়ায় ঘটে যায় এক হৃদয়বিদারক ঘটনা। ভয়াবহ কম্পনের মধ্যেই পাশের একটি বাড়ির উঁচু দেয়াল হঠাৎ ধসে পড়ে। স্থানীয় বাসিন্দা ইমতিয়াজ বিকট শব্দ শুনে দৌড়ে গিয়ে দেখেন—ভেঙে পড়া দেয়ালের নিচ থেকে বের হয়ে আছে ছোট্ট দুটি হাত।

ইট সরিয়ে তিনি শিশু এক মেয়েকে উদ্ধার করেন, কিন্তু তাকে আর বাঁচানো যায়নি। এ সময় দেখতে পান—তার প্রতিবেশী ছোট্ট ফাতেমা ও তার মা কুলসুমও দেয়ালের নিচে চাপা পড়েছেন। পরে তাদের দু’জনকেই উদ্ধার করা হয়। দশ মাস বয়সী ফাতেমাকে বাঁচানো সম্ভব হয়নি, আর গুরুতর আহত মা কুলসুমকে নিয়ে তার স্বজনরা দৌড়াতে থাকেন এক হাসপাতাল থেকে আরেক হাসপাতালে।

ফাতেমার বাবা আব্দুল হক ও খালু মোহাম্মদ হোসেন জানান, ইউএস বাংলা হাসপাতাল, ঢাকা মেডিকেল ও ন্যাশনাল—কোথাও ভর্তি নিচ্ছিল না। মাথায় আঘাত পেয়ে অচেতন অবস্থায় থাকা কুলসুমকে ফিরিয়ে দেওয়া হচ্ছিল সিটের অভাবে। অসহায় স্বজনদের প্রশ্ন—“এমন অসুস্থ মানুষকে কোথায় নেব?”

স্থানীয় তুহিন বলেন, “হকের স্বপ্ন ছিল—তার দুই মেয়েকে মানুষ করে ডাক্তার বানাবেন। গরিবের সেবা করবে তার মেয়েরা। কিন্তু ছোট্ট ফাতেমা ডাক্তার তো দূরের কথা—ডাক্তারের কাছে যাওয়ার সময়ও পেল না।”

মর্মাহত আব্দুল হক বলেন, “প্রাণের টুকরারে দাফন করতে গিয়া একবারও দেখতে পারলাম না। কোলেও নিতে পারলাম না। আল্লাহ, এমন দিন যেন কোনো বাবার ভাগ্যে না আসে।”

দুপুরে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন ইউএনও সাইফুল ইসলাম। তিনি জানান, ধসে পড়া দেয়ালটি নিয়ম মেনে নির্মাণ করা হয়নি। ১০ ফুটের বেশি উঁচু সেই দেয়ালে ছিল না রড, না কোনো পিলার—যে কারণে সামান্য কম্পনেই ভারসাম্য হারিয়ে পড়ে যায়। ইউনিয়নে আরও বহু স্থাপনা নিয়মবহির্ভূতভাবে নির্মিত হয়েছে, এগুলো দ্রুত ভেঙে ফেলার নির্দেশ দেওয়া হবে বলেও তিনি জানান।

উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে নিহত ফাতেমার দাফন খরচ হিসেবে পরিবারকে ২০ হাজার টাকা সহায়তা দেওয়া হয়েছে।