ঢাকা , বুধবার, ২৬ অগাস্ট ২০২৬, ১১ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম ::
হরমুজ প্রণালি খুলে দিলে নিষেধাজ্ঞা তুলবে যুক্তরাষ্ট্র শিগগিরই শুরু হচ্ছে মায়েদের হাতে রান্না করা মিড-ডে মিলের পাইলট প্রকল্প: প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী বিএনপি এখন আগের থেকেও জনপ্রিয়: রিজভী ট্রাম্পের ছেলে ব্যারনকে হত্যায় ১ কোটি ডলার পুরস্কার ঘোষণা ষ’ড়’য’ন্ত্র’কারীরা মানুষকে বি’ভ্রা’ন্ত করছে: সমাজকল্যাণমন্ত্রী সরকারের কোনো বিষয়ে আপত্তি থাকলে গঠনমূলকভাবে তুলে ধরার আহ্বান আইনমন্ত্রীর গ্রামবাসীর ধাওয়া খেয়ে অস্ত্র ফেলে পালালো বিএসএফ, ফেরত দিলো বিজিবি প্রতিমন্ত্রীর সাক্ষাৎকার নিয়ে মন্ত্রণালয়ের পোস্ট, ‘কমনসেন্স’ নিয়ে প্রশ্ন তুললেন সারজিস ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের তৃতীয় অধিবেশন বসছে বৃহস্পতিবার যুক্তরাষ্ট্র যা কিছুই করুক, আত্মসমর্পণ না করার ঘোষণা কিউবার

বিয়ের আনন্দে দেশে ফেরা নূর মোহাম্মদ হারালেন ২৪ স্বজন

  • ডেস্ক রিপোর্ট
  • আপডেট সময় ০৯:০৫:৫২ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২২ অগাস্ট ২০২৫
  • ২০০৩ বার পড়া হয়েছে

বিয়ের দুইদিন বাকি, ঘরে সাজ সাজ রব। আনন্দ আর উৎসবে মেতে উঠেছিল পাকিস্তানের খাইবার পাখতুনখাওয়া প্রদেশের বুনের বিভাগের কাদির নগর গ্রাম। মালয়েশিয়া প্রবাসী নূর মোহাম্মদও বহু প্রতীক্ষার পর ফিরেছিলেন নিজ গ্রামে, জীবনের সবচেয়ে আনন্দঘন মুহূর্তকে সামনে রেখে। কিন্তু অস্বাভাবিক বৃষ্টিপাত ও পাহাড়ি ঢলে তৈরি হওয়া আকস্মিক বন্যা মুহূর্তেই সবকিছু বদলে দেয়। আনন্দ ভেসে যায় শোকে, হাসি পরিণত হয় কান্নায়।

এই ভয়াবহ বন্যায় নূর মোহাম্মদ হারিয়েছেন তাঁর মা-সহ পরিবারের ২৪ জন সদস্যকে। ধ্বংসস্তূপের পাশে বসে রয়টার্সকে তিনি বলেন, “আমি ভাষায় প্রকাশ করতে পারব না মা কতটা খুশি ছিল।” কিন্তু সেই খুশির আবহ মিলিয়ে গেছে অজস্র কান্নার জলে।

মালয়েশিয়ায় শ্রমিকের কাজ করতেন নূর মোহাম্মদ। ১৫ আগস্ট ইসলামাবাদ বিমানবন্দরে নেমে পরিবারের বরণ নেওয়ার কথা ছিল তাঁর। তখন বাড়িতে বিয়ের আয়োজন শেষ পর্যায়ে। কিন্তু সেই বিয়ের পরিবর্তে তাকে উপস্থিত থাকতে হয়েছে পরিবারের ২৪ জনের জানাজায়।

তিনি জানান, মুহূর্তের মধ্যে বাড়ি, দোকান, বাজার সবকিছু ভেসে গেছে। শুধু রয়ে গেছে বড় বড় পাথর আর ধ্বংসস্তূপ। নূর মোহাম্মদের বাবা ও এক ভাই বিমানবন্দরে তাঁকে আনতে যাওয়ায় প্রাণে বেঁচে যান।

স্মরণকালের ভয়াবহ এ বন্যায় শুধু কাদির নগর নয়, পুরো বুনের বিভাগই বিপর্যস্ত। কয়েকদিনে সেখানে অন্তত ২০০ জনের প্রাণহানি ঘটেছে। আর পুরো পাকিস্তানের পাহাড়ি অঞ্চলজুড়ে আকস্মিক বন্যায় প্রাণ গেছে ৪৫০ জনেরও বেশি মানুষের।

নূর মোহাম্মদের জন্য এ বিয়ে আর ঘরোয়া উৎসব এক দুঃস্বপ্নে পরিণত হয়েছে। আনন্দের দেশে ফেরা শেষ হয়েছে ২৪ প্রিয়জনকে হারানোর বেদনায়।

ট্যাগস

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

জনপ্রিয় সংবাদ

হরমুজ প্রণালি খুলে দিলে নিষেধাজ্ঞা তুলবে যুক্তরাষ্ট্র

বিয়ের আনন্দে দেশে ফেরা নূর মোহাম্মদ হারালেন ২৪ স্বজন

আপডেট সময় ০৯:০৫:৫২ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২২ অগাস্ট ২০২৫

বিয়ের দুইদিন বাকি, ঘরে সাজ সাজ রব। আনন্দ আর উৎসবে মেতে উঠেছিল পাকিস্তানের খাইবার পাখতুনখাওয়া প্রদেশের বুনের বিভাগের কাদির নগর গ্রাম। মালয়েশিয়া প্রবাসী নূর মোহাম্মদও বহু প্রতীক্ষার পর ফিরেছিলেন নিজ গ্রামে, জীবনের সবচেয়ে আনন্দঘন মুহূর্তকে সামনে রেখে। কিন্তু অস্বাভাবিক বৃষ্টিপাত ও পাহাড়ি ঢলে তৈরি হওয়া আকস্মিক বন্যা মুহূর্তেই সবকিছু বদলে দেয়। আনন্দ ভেসে যায় শোকে, হাসি পরিণত হয় কান্নায়।

এই ভয়াবহ বন্যায় নূর মোহাম্মদ হারিয়েছেন তাঁর মা-সহ পরিবারের ২৪ জন সদস্যকে। ধ্বংসস্তূপের পাশে বসে রয়টার্সকে তিনি বলেন, “আমি ভাষায় প্রকাশ করতে পারব না মা কতটা খুশি ছিল।” কিন্তু সেই খুশির আবহ মিলিয়ে গেছে অজস্র কান্নার জলে।

মালয়েশিয়ায় শ্রমিকের কাজ করতেন নূর মোহাম্মদ। ১৫ আগস্ট ইসলামাবাদ বিমানবন্দরে নেমে পরিবারের বরণ নেওয়ার কথা ছিল তাঁর। তখন বাড়িতে বিয়ের আয়োজন শেষ পর্যায়ে। কিন্তু সেই বিয়ের পরিবর্তে তাকে উপস্থিত থাকতে হয়েছে পরিবারের ২৪ জনের জানাজায়।

তিনি জানান, মুহূর্তের মধ্যে বাড়ি, দোকান, বাজার সবকিছু ভেসে গেছে। শুধু রয়ে গেছে বড় বড় পাথর আর ধ্বংসস্তূপ। নূর মোহাম্মদের বাবা ও এক ভাই বিমানবন্দরে তাঁকে আনতে যাওয়ায় প্রাণে বেঁচে যান।

স্মরণকালের ভয়াবহ এ বন্যায় শুধু কাদির নগর নয়, পুরো বুনের বিভাগই বিপর্যস্ত। কয়েকদিনে সেখানে অন্তত ২০০ জনের প্রাণহানি ঘটেছে। আর পুরো পাকিস্তানের পাহাড়ি অঞ্চলজুড়ে আকস্মিক বন্যায় প্রাণ গেছে ৪৫০ জনেরও বেশি মানুষের।

নূর মোহাম্মদের জন্য এ বিয়ে আর ঘরোয়া উৎসব এক দুঃস্বপ্নে পরিণত হয়েছে। আনন্দের দেশে ফেরা শেষ হয়েছে ২৪ প্রিয়জনকে হারানোর বেদনায়।